সচিবালয়ের ক্লিনিকে এডিস মশার লার্ভা

জিবি নিউজ ডেস্ক।।

বাংলাদেশ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্লিনিকে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মৎস ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বিভিন্ন গণমাধ্যমে ইমেইল বার্তার মাধ্যমে আজ রোববার ওই ক্লিনিকে লার্ভা পাওয়ার যে ঘটনা ঘটেছে তার বর্ণনা দিয়েছেন।

সচিবালয়ের ক্লিনিকে ঘটা ওই ঘটনার বর্ণনা পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো>গণমাধ্যমে পাঠানো ইমেইল বার্তায় ওই কর্মকর্তা লেখেন, ‘আজ আমি জ্বর, পাতলা পায়খানা ও শরীর ব্যথার চিকিৎসার জন্য কর্মস্থল বাংলাদেশ সচিবালয়ের ৯ নম্বর ভবনের ক্লিনিকে গেলাম। সাথে ছিল আমার ছোট মেয়ে। তার চোখের সমস্যা। তার চশমা পরিবর্তনের জন্য ডাক্তার পরামর্শ লিখে দেওয়ার পর আমি নিজের চিকিৎসার জন্য ৭ নম্বর কক্ষে সিরিয়ালে দাঁড়ালাম।’

তিনি লেখেন, ‘চেয়ারে বসতে গেলে দেখি পাশের চেয়ারে একটি খালি বালতি। ক্লিনিকের একজন কর্মচারী এসে চেয়ারে বসতে মানা করলেন এবং আরেকটা চেয়ারে জমা কিছু পানির ঢাকনা খুললেন। তার ও লোকজনের কথা-বার্তায় বুঝলাম, সেই পানিতে এডিস মশার লার্ভা আছে।’.                                                                     সচিবালয়ের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘তখন চেয়ারের ওপরে একটি পানির ফিল্টার আবিষ্কার করলাম। ৭ নম্বর রুমের একজন ডাক্তার এসিআই অ্যারোসল নিয়ে সেই পানিতে অনেকবার স্প্রে করতে-করতে বলতে থাকেন, “দেখি মরে কি না।” আমি তখন অতি উৎসাহী হয়ে পানির দিকে তাকিয়ে দেখি, অনেকগুলো লার্ভা লাফাচ্ছে। আমিও জীবনে এডিসের লার্ভা দেখিনি। বাসি পানিতে যেমন পোকা হয় এবং তিড়িংবিড়িং লাফায়, দেখতে তেমনই। আমি ডাক্তারকে বললাম, এই অ্যারোসল তো আমিও ব্যবহার করি, তাই আমিও দেখতে চাই লার্ভা মরে কি না? মেয়েকেও ডেকে এনে দেখালাম এবং ফিল্টারের নিচে জমা পানি থেকে সাবধান করলাম।’

সচিবালয়ের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমার ডাক পড়ায় ডাক্তারের চেম্বারে ঢোকার কিছুক্ষণ পর স্প্রেকারী ডাক্তারও সেই চেম্বারে এসে বসলেন। তারা দুজন ডাক্তার একই চেম্বারে বসেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, লার্ভাগুলো কি মরছে? ডাক্তার হতাশার সুরে বললেন, “না।” জিজ্ঞেস করলাম, তাহলে কী করলেন। ডাক্তার জানালেন, “অ্যারোসলে না মরায় আমরাই কাগজ দিয়ে ঘষে মেরে ফেললাম”।’

তিনি আরও লেখেন, ‘পাশের আরেকজন রোগী বললেন, “পানিতে লার্ভা বেড়ে উঠলেও এভাবে মারলেও মরে না। আপাত মৃত লার্ভা ১০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে তাপ দিলেই শুধু মরে।” তখন সেই ডাক্তার আমার ব্যবস্থাপত্র লিখতে ব্যস্ত ডাক্তারকে বলতে থাকেন, “আমাদের তো মশা কামড়ালো, এখন কী হবে?”

প্রত্যক্ষদর্শী ওই কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেন, ‘সচিবালয়ের মতো এলাকায় আবার ক্লিনিক বা হাসপাতালেই যদি লার্ভা থাকে, তাহলে আমরা কতটা অরক্ষিত; ভেবে দেখুন।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘আমি সচিবালয় ক্লিনিকে ডেঙ্গু টেস্ট করতে চাইলেও ডাক্তার বললেন, “এখানে সে ব্যবস্থা নেই।” তাহলে সচিবালয়ে কর্মরত লোকেরা যাবে কোথায়?’

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন Accept আরও পড়ুন