দামুড়হুদায় পাঁচ কেজি ওজনের শক্তিশালী একটি বোমা উদ্ধার

138

শামসুজ্জোহা পলাশ, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি ||
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় প্রায় পাঁচ কেজি ওজনের শক্তিশালী একটি
বোমা উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৭ আগস্ট) ভোরে উপজেলার নাটুদাহ
ইউনিয়নের চন্দ্রবাস গ্রামের একটি জঙ্গল থেকে বোমা উদ্ধার করা হয়।

বোমাটি উদ্ধারের পর গোটা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। খবর পেয়ে বিকালে খুলনা
থেকে র‌্যাব-৬-এর একটি বোম ডিস্পোজাল ইউনিট ৪০ মিনিটের প্রচেষ্টায়
বোমাটির বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিষ্ক্রিয় করে।

পুলিশ জানায়, দামুড়হুদা উপজেলার নাটুদাহ ইউনিয়নের চন্দ্রবাস গ্রামের
ওয়ালিদ হোসেনের বাগানে মঙ্গলবার বিকালে কয়েকজন জ্বালানি (খড়ি)
কুড়াচ্ছিলেন। এ সময় বাগানের একটি মেহগনি গাছের নিচে প্যাকেটে মোড়ানো
মানুষের মাথা আকৃতির একটি বোমা দেখে আতকে ওঠে তারা। পরে স্থানীয়দের
মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দামুড়হুদা থানা পুলিশ ও জেলা পুলিশের
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুকুমার বিশ্বাস জানান, খবর
পেয়ে আমরা সন্ধ্যার কিছুটা পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কিন্তু বোমাটি অনেক বড়
ও ঘটনাস্থল দুর্গম হওয়ায় ঝুঁকি এড়াতে বুধবার ভোরে বোমাটি খুব সাবধানতার
সঙ্গে উদ্ধার করি। পরে সেটি স্থানীয় নাটুদাহ ক্যাম্পের সামনে মাঠের মধ্যে
বালুভর্তি একটি বালতির মধ্যে রাখা হয়। পরে র‌্যাবের বোম ডিস্পোজাল
ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে বিকাল ৫টার দিকে খুলনা থেকে পাঁচ সদস্যর বোম ডিস্পোজাল ইউনিট
ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং বোমাটি নিস্ক্রিয় করার কাজ শুরু করে। প্রায় ৪০
মিনিট প্রচেষ্টার পর র‌্যাব সদস্যরা বোমাটি একটি গর্ত খুড়ে মাটি ও বস্তা
চাপা দিয়ে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিস্ক্রিয় করেন। এ সময় গোটা এলাকায় পুলিশ
নিরাপত্তার চাদরে ঘিরে রাখেন।

র‌্যাবের বোম ডিস্পোজাল ইউনিটের প্রধান সেলিম আজাদ সাংবাদিকদের জানান,
বোমাটি একটি নারকেলের মধ্যে তৈরি করা হয়েছিল। এটি আমাদের কাছে একেবারেই
নতুন। বোমাটি এক্সক্লুসিভ ও শক্তিশালী ছিল বলেও জানান তিনি।

নিস্ক্রিয় করার পর বোমার বিস্ফোরিত অংশ র‌্যাব সংগ্রহ করে নিয়ে যান।
র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয় যেহেতু নারিকেল আকৃতির এমন বোমা বাংলাদেশে
প্রথম। তাই বোমাটির আলামত ফরেনসিক বিভাগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে।

চুয়াডাঙ্গার সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল) আবু রাসেল জানান,
নতুন আকৃতির এই বোমা উদ্ধারের পর আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। এই বোমার পেছনে
কারা জড়িত তাদের শনাক্তের কাজ ইতোমধ্যে শুরু করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই এই
বোমা কারিগর দুর্বৃত্তরা আইনের আওতায় আসবে।

পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি আর কয়েক
দিন পর পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদকে সামনে রেখে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা
ছিল দুর্বৃত্তদের। বোমাটি উদ্ধারে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। এর বাইরে
অন্য কিছু ছিল কি না তা তদন্ত করা হচ্ছে।