গাইবান্ধায় কৃষি উদ্যোক্তাদের আঁশকল বিতরণ

140

গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি ||
গাইবান্ধায় কৃষি উদ্যোক্তাদের মাঝে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে পাটের আঁশ ছাড়ানোর আঁশকল কৃষি উদ্যোক্তাদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। ৬ আগস্ট মঙ্গলবার দুপুরে গাইবান্ধা সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (টিটিসি)’র সভা কক্ষে এই কল বিতরণ করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা জেলা প্রসাশক আবদুল মতিন।

ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের অর্থায়নে প্র্যাকটিক্যাল এ্যাকশনের সহযোগিতায় আরডিআরএস বাংলাদেশ “জুট টেক্সটাইল ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরের মাধ্যমে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম অ লে টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন” শীর্ষক প্রকল্পটির মাধ্যমে রংপুর চেম্বারস অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, কারুপণ্য রংপুর লিমিটেড, রংপুর জেলা লেদ মেশিন শ্রমিক ইউনিয়নকে সাথে নিয়ে গাইবান্ধা, রংপুর, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলায় বাস্তবায়ন করছে।
এ উপলক্ষে সভা কক্ষে এক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। গাইবান্ধা সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (টিটিসি) অধ্যক্ষ আতিকুর ইসলাম সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, বিশেষ অতিথি গাইবান্ধা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক এস এম ফেরদৌস, গাইবান্ধা সদর উপজেলা কৃষি অফিসার রাজিয়া তরফদার, প্র্যাকটিক্যাল এ্যাকশন বাংলাদেশ প্রকল্প সমন্বয়কারী নির্মল চন্দ্র বেপারী, আরডিআরএস বাংলাদেশ সিনিয়র কোঅরডিনেটর মামুনুর রশিদ প্রমুখ। এছাড়াও উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্র্যাকটিক্যাল এ্যাকশন বাংলাদেশ ও আরডিআরএস বাংলাদেশ এর বিভিন্ন কর্মকর্তাগন, সমাজের অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ এবং ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার প্রতিনিধিবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, সোনালী আঁশ এর দেশ বাংলাদেশ। এই সোনালী আঁশ “পাট” বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। অতীতে প্রধান রপ্তানী পণ্য হিসেবে সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হত পাট থেকে। পরবর্তীতে বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম আঁশ ও বিভিন্ন সিনথেটিক দ্রব্যের আবির্ভাব, এর সহজলভ্যতা ও তুলনামূলকভাবে স্বল্প দামের কারণে পাট ও পাটজাত পণ্যের চাহিদা ও মূল্য হ্রাস পেতে থাকে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর অপরিশোধিত বর্জ্য দারা পরিবেশ দূষণের কারণে বিশ্বব্যাপী পরিবেশ সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে পরিবেশ বান্ধব পাট ও পাট পণ্যের প্রতি পুনরায় বিশ্ব সমাজের আগ্রহ ও চাহিদা বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। সা¤প্রতিক সময়ে প্রচলিত পাটপণ্য সামগ্রির পাশাপাশি বহুমুখী পাটপণ্যের চাহিদাও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বিভিন্ন কারনে বাংলাদেশের পাট শিল্প বর্তমান বৈশ্বিক এবং স্থানীয় বাজারের প্রতিযোগীতায় অনেকটা পিছিয়ে পড়ছে। আর এই পিছিয়ে পড়ার প্রধান কারণ হল গুনগত মান সম্পন্ন পাটের আঁশ এর অভাব। পানি সংকটের কারণে পাট চাষীরা পাট কাটার পর স্বল্প পরিসরে সনাতন পদ্ধতিতে জাগ দেয়ার কারণে পাটের মান ক্রমাগত নষ্ট হচ্ছে। সেই সাথে অন্যান্য উন্নত দেশের মত পাটের আঁশ পঁচানো, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বাজারজাতকরন সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যান্ত্রিকিকরনের অভাবে পাটের মান ভালো না হওয়ায় কৃষক পাটের ভাল দামও পাচ্ছেন না। তাই আশকলের যান্ত্রিক পদ্ধতিতে পাটের আঁশ ছাড়িয়ে উন্নত পদ্ধতিতে পাটের আঁশ পঁচানোর মাধ্যমে পাটের আঁশের মান উন্নয়ন বৃদ্ধি হচ্ছে।
গাইবান্ধা জেলার ১০জোড়া উদ্যোক্তাদের (প্রতি জোড়ায় ১ জন পুরুষ ও ১ জন নারী) মধ্যে ১০টি “আঁশকল” বিতরণ করা হয়। এই “আঁশকল” উদ্যোক্তাদের মধ্যে বিতরণের পূর্বে এর পরিচালনা, রক্ষণাক্ষেণ, শারীরিক নিরাপত্তাসহ বেশ কিছু বিষয়ে গাইবান্ধার এই কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ৪ দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ এর আয়োজনও করা হয়।
উল্লেখ্য, গত দুই বছরে গাইবান্ধা জেলায় ২৬টি সহ উত্তর বঙ্গের ৪টি জেলায় মোট ১০৪টি পাটের আঁশ ছাড়ানোর সেমিঅটোমেটিক মেশিন “আঁশকল” কৃষি উদ্যোক্তাদের দেয়া হয়। যা দিয়ে পাট চাষীরা বেশ সহজে অল্প সময়ে অধিক পাটের আঁশ ছাড়িয়েছে যাতে তুলনামূলক খরচও কম লেগেছে। এ পদ্ধতিতে ছাড়ানো আঁশ কম সময়ে অল্প পানিতে পঁচানো সম্ভব হয়েছে এবং আঁশ এর মানও বেশ ভাল হয়েছে। এই প্রযুক্তিকে আরও সহজলভ্য ও কৃষক বান্ধব করার জন্যে এ বছর স্থানীয় মেটাল ওয়ার্কশপে পাটের আঁশ ছাড়ানোর সেমিঅটোমেটিক মেশিন “আঁশকল” গুলো তৈরী করা হয়েছে। যে মেশিন গুলোতে গত বছর এর অভিজ্ঞতার আলোকে বেশ কিছু সংস্কার ও কারিগরী উন্নয়ন ঘটানো হয়েছে। পাটের ছাল ছাড়ানো ছাড়াও মেশিনটির কিছু যন্ত্রাংশ পরিবর্তন করে সহজেই ধান/গম/ভ‚ট্টা মাড়াই এর কাজে ব্যবহার করা যাবে। এতে কৃষক মেশিনটি বিভিন্ন মৌসুমে বছর ব্যাপী ব্যবহার করে সর্বাধিক উপার্জন করতে পারবে।