ম্যাচের শেষ বল পর্যন্ত তারা নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করেছে’‘দারুণ খেলেছে বাংলাদেশ

154

জিবি নিউজ 24 ডেস্ক//

জসপ্রিত বুমরাহর বলে মুস্তাফিজুর রহমান বোল্ড হওয়ার পরে স্থানুর মতো অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন। ২৮ রানে হারা ম্যাচে বিজিতের এ বিষাদমাখা মূর্তি বাড়াবাড়ি প্রতিক্রিয়া যদি মনে হয়, তাহলে বিজয়ী অধিনায়ক বিরাট কোহলির মন্তব্যটা শুনে নিন, ‘দারুণ খেলেছে বাংলাদেশ। ম্যাচের শেষ বল পর্যন্ত তারা নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করেছে।’

সেমিফাইনালের দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার দিনেও ২০১৯ বিশ্বকাপে অলিখিত একটা ট্রফি কিন্তু ঠিকই জিতেছে বাংলাদেশ। সেটি ভালো ক্রিকেট খেলার।

ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ কোচ স্টিভ রোডসকে ঘিরেও একই বাতাবরণ। ভারতীয় সাংবাদিকদের প্রতিটি প্রশ্নের ভাঁজে ভাঁজে পরোক্ষ স্তুতি বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বিশ্বকাপ নৈপুণ্যকে ঘিরে। বিশেষ করে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোর পরও ম্যাচটাকে শেষ পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখার অদম্য চেষ্টার জন্য।

নিয়মিত বিরতিতে পতন ঘটা উইকেটের কোনোটিই বোলার তুলে নিয়েছেন বলে মনে হয়নি। বরং সেট হয়ে উইকেট বিলিয়ে আসার ঘটনাই বেশি। তবে ভিন্ন ব্যাখ্যা আছে রোডসের কাছে, ‘এটা ঠিক। তবে আমার মনে হয়, এই উইকেটে টসটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ম্যাচ যত গড়িয়েছে তত স্লো হয়েছে উইকেট। তাতে স্লোয়ার বল বোঝা কঠিন হয়েছে। তবে ভারতীয় বোলারদেরও কৃতিত্ব দিতে হবে। ওরা উইকেটটা ভালো ব্যবহার করেছে।’

অবশ্য ব্যাটিংয়ের আগে বোলারদের দলকে ম্যাচে ফেরানোর জন্য প্রশংসায় ভাসিয়েছেন রোডস, ‘একটা সময় তো মনে হচ্ছিল ওরা (ভারত) হয়তো ৩৭০-৩৮০, এমনকি ৪০০ করে ফেলবে। কিন্তু বোলাররা সেটা হতে দেয়নি। অসাধারণ কামব্যাক বলব। আমাদের শুরুটা ভালো হয়নি। তবু ছেলেরা লড়াই করেছে। আমরা তিনটা ম্যাচ জিতেছি। তবে আরো কয়েকটা বড় দলকে জোর ধাক্কা দিয়েছি। ভাগ্য একটু সহায় হলে হয়তো অন্য রকম কিছু হতে পারতো।’

কিন্তু তামিম ইকবালের এ বিশ্বকাপটা ভালো যাচ্ছে না। আশাজাগানিয়া শুরুর পর চট করে আউট হয়েছেন তিনি গতকালও। এটাকে নিছকই দুর্ভাগ্য বলে মনে করছেন বাংলাদেশ কোচ, ‘তামিম দারুণ ব্যাটসম্যান। এই টুর্নামেন্টটা ওর ভালো যায়নি। তবে আমার মনে হয় না ওর টেকনিকে কোনো সমস্যা হচ্ছে। যেটা হচ্ছে, ভালো শুরুর পর আউট হয়ে যাচ্ছে। আপনার একটু ভাগ্যও দরকার। রোহিত শর্মার ব্যাটের কানায় লেগে বল স্টাম্প ঘেঁষে বেরিয়ে গেছে। আর তামিম বোল্ড হয়েছে। ক্রিকেটে এগুলো ম্যাটার করে। ব্যক্তিগতভাবে আমি তামিমের এই টুর্নামেন্টের রান নিয়ে চিন্তিত নই। ওর যথেষ্ট বয়স আছে পরের বিশ্বকাপ খেলার জন্য।’ তাঁর ক্যাচ ছাড়ার ঘটনায়ও সমব্যথী বাংলাদেশ কোচ, ‘আমাদের দলে ক্যাচ ধরায় দক্ষদের একজন তামিম। ক্রিকেটে এমনটা হতেই পারে। সেই ক্যাচ মিসের চড়া মাসুল দিতে হয়েছে। তবে এর জন্য তামিমের সমালোচনা করার পক্ষে আমি নই।’

তবে তামিমের চেয়ে মাশরাফি বিন মর্তুজার ফর্ম নিয়েই বহির্বিশ্বের সমস্যা বেশি! স্টিভ রোডস এ ব্যাপারেও অধিনায়কের সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন, ‘মাশরাফির ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আমি কেউ নই। এটা বোর্ড ও মাশরাফির ব্যাপার। তবে একটা কথা কি, মাশরাফির জায়গা নেওয়ার মতো কেউ কি তৈরি আছে? আজ এক ওভার বল করেই নিজেকে সরিয়ে নিয়েছে মাশরাফি। এমন সিদ্ধান্ত নিতে অধিনায়কের অনেক সাহস লাগে। পরের স্পেলে রান রেট ঠিক করেছে। প্রতিটি বলে ওর সবটুকু নিংড়ে দেয়। তা ছাড়া ম্যাশ দারুণ একজন মানুষ। দলে ওর অবদান অস্বীকার করা যাবে না।’

বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের সম্ভাবনা তো শেষ। তবে বাকি আছে আরো একটি ম্যাচ। প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। লর্ডসে ওই ম্যাচে দারুণ কিছু করেই দেশে ফেরার ইচ্ছা বাংলাদেশ কোচের, ‘অবশ্যই চেষ্টা করব যেন যাওয়ার আগে চিহ্ন এঁকে দিয়ে যেতে পারি