দামুড়হুদা কৃষি অফিসে গেলেই পাবেন এক কাপ চা

  শামসুজ্জোহা পলাশ, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : ০৯.০২.২১ইং: সরকারি অফিসের সেবা নিয়ে অনেকেরই রয়েছে ভিন্ন অভিজ্ঞতা। সেবা নিতে এসে অনেকে হিমশিম খান। তবে এর বিপরীতে যদি এক কাপ চায়ের আমন্ত্রণ পান, তাহলে কেমন হবে? এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই সেবা প্রত্যাশীদের চায়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সরকারি এক কর্মকর্তা। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সত্যায়িত ছাড়া অফিসে সেবা নিতে আসা যে কারো হাতে পৌঁছে যাচ্ছে এক কাপ চা। চা পান শেষ না হতেই কাক্সিক্ষত সেবা বুঝে নিয়ে বাড়ি ফেরেন গ্রহীতারা। চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি অফিসে প্রতিনিয়ত ঘটছে এমন ঘটনা। বিষয়টি এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সেবা প্রত্যাশীরাও চা পানের ছবি ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে আলোচনার লাইন দীর্ঘ করছেন। দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি অফিসে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন গড়ে এ অফিসে ৬০-৭০ জন সেবা প্রত্যাশী ভিড় জমান। এর মধ্যে বেশিরভাগই কৃষক শ্রেণির। এছাড়া চাকরি প্রত্যাশী যুবকদেরও আনাগোনা রয়েছে এ অফিসে। যেকেউ যেকোনো কারণে অফিসে গেলেই খালি মুখে ফেরেন না। সবাইকে চা পানের আমন্ত্রণ জানাচ্ছে অফিসটি। দামুড়হুদা কৃষি অফিসের সামনেই ঝুলছে একটি প্ল্যাকার্ড। যেখানে লেখা রয়েছে ‘প্রিয় বন্ধু, আপনার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সত্যায়িত করতে এসে অনুগ্রহ করে এক কাপ চা খেয়ে যাবেন।’ কথা হয় ভারত সীমান্তবর্তী ঠাকুরপুর গ্রাম থেকে কৃষক সাইদুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, কৃষি কাজের সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে প্রায় সময়ই আমাকে এ অফিসে আসতে হয়। এর আগে সেবা নিতে এসে নানা বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়েছে। কিন্তু ইদানীং এ অফিসে এলে কাজের কথা বলার আগেই হাতে এক কাপ চা ধরিয়ে দেয়া হয়। এরপর চা খেতে খেতেই প্রয়োজনীয় কাজ সেরে বাড়ি ফিরি। এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, ১৫ মাস আগে দামুড়হুদা উপজেলায় যোগদান করি। কৃষকদের আনাগোনার পাশাপাশি প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য হারে চাকরির আবেদন করা যুবকদের কৃষি অফিসে আসতে দেখা যায়। এমন যুবকদের জন্য কিছু একটা আপ্যায়নের ভাবনা থেকেই এক কাপ চা খাওয়ানোর ব্যবস্থা করি। এতে সেবা পাওয়া ও চা খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন হবে ধারণার। তিনি আরো বলেন, চা খাওয়ানোর জন্য প্রতিদিন খরচ খুবই কম। দিনে তিন লিটার পরিমাণের চা পানের ব্যবস্থা করে রাখা হয়। এটা সামান্য আপ্যায়ন মাত্র। আগামীতে সেবা প্রত্যাশীদের জন্য ভিন্ন কিছু আয়োজন রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে। দামুড়হদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলারা রহমান বলেন, বর্তমান সরকারের বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মানুষের সখ্যতা গড়ে তোলার। চেষ্টা করা হয় মানুষের সেবা দোরগোড়ায় পৌঁছানোর। প্রতিদিন উপজেলা পর্যায়ের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সেবা গ্রহীতারা সরকারি অফিসে ভিড় জমান। মানুষের সেবার পাশাপাশি সামান্য আপ্যায়নের মাধ্যমে সরকারি অফিসের প্রতি বিরূপ ধারণা পরিবর্তন সম্ভব। আর সেটির বাস্তব রূপ দিচ্ছেন আমাদের কৃষি কর্মকর্তা। # #

gbn

মন্তব্যসমূহ (০)


ব্রেকিং নিউজ

লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন