সিলেট নগরীতে গাছ থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু।।ময়না তদন্ত ছাড়াই দাফন সম্পন্ন

72

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

সিলেট নগরীতে নারিকেল গাছ থেকে পড়ে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার দুপুরে শাহজালাল উপশহরে জি ব্লকের ৩ নাম্বার রোডের মর্তুজা মিয়ার বাসার সামনে।

এ দিকে ময়না তদন্ত ছাড়া তড়িঘড়ি করে ওই দিন রাতে লাশ দাফন করায় এলাকায় নানান গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত ইসমাঈল (৩৩) সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মধুপুর গ্রামের হাবিবুল্লার ছেলে। সে পেশায় রিকশা চালাক। বর্তমানে সে নগরীর তেরোরতন এলাকার ফারুক মিয়ার কলোনিতে ভাড়াবাসায় একা থাকতেন। আর মা, স্ত্রী ও ছোট্ট চার সন্তান গ্রামের বাড়িতে থাকেন।

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, নিহত ব্যক্তি মাথায় প্রচন্ড আঘাত পেয়ে ছিল। হাসপাতালে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়। এলাকাবাসীর দাবী- মর্তুজা মিয়া সম্পদশালী হওয়ায় বিষয়টি ধামচাপা দিতে পুলিশকে ম্যানেজ করে তড়িঘড়ি করে ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন করেছে। ময়না তদন্ত করা হলে আসল সত্য বেরিয়ে আসবে বলেও দাবী করেন স্থানীয়রা।

গাছের মালিক মর্তুজা মিয়া বলেন, নারিকেল গাছে উঠলে হঠাৎ পা ফসকে সে নীচে পড়ে যায়। পরে আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ফারুক উদ্দিন বলেন, কোনো অভিযোগ না থাকায় তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, সৈয়দ মিছবাহ উদ্দিন নামের এক ব্যাক্তি নিজেকে স্থানীয় কাউন্সিলর পরিচয় দেন।

তার সাথেও বাসার মালিক ছাড়াও এলাকার কয়েকজন মুরব্বি ছিলেন। নিহতের স্ত্রী সহ পরিবারের সদস্যরা মরদেহের ময়নাতদন্ত না করার জন্য আমাদেরকে লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে লাশ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। দিনমজুর ইসমাঈলের মৃত্যুর ব্যাপারে কোন সুস্পষ্ট বক্তব্য না দিয়ে শাহজালাল উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই সুহেল রানা জানান, নারিকেল গাছ থেকে দূর্ঘটনা বশত সে নীচে পড়ে আহত হন এবং তিনি মারা যান। ঘটনাটি দুপুরে ঘটলেও তিনি সন্ধ্যার দিকে শুনেছেন জানিয়ে সুহেল রানা বলেন, দূর্ঘটনার বিষয়টি তাৎক্ষনিক পুলিশ ফাঁড়িকে জানালে এ ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হতো না।

মন্তব্য
Loading...