‘রিল’-এর যুগে স্মৃতির জন্যই হয়েছে ভারত-ব্রাজিল ম্যাচ

ফলাফল কী হলো, তা যেন এই ম্যাচে পুরোপুরি উপেক্ষিত। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভারত বনাম ব্রাজিলের বহুপ্রতীক্ষিত প্রীতি ম্যাচটি যেন আধুনিক ‘ইনস্টাগ্রাম রিল’-এর যুগের জন্যই চিত্রনাট্য লিখে তৈরি করা হয়েছিল।

বড় কোনো প্রতিযোগিতা বা গুরুত্বপূর্ণ শিরোপার লড়াই নয়, বরং গোটা ম্যাচ জুড়ে ছড়িয়ে থাকা ছোট ছোট কিছু রোমাঞ্চকর মুহূর্তের জন্যই এই ম্যাচটি ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

 

মাঠে ব্রাজিলের তারকা ভিনিসিউস জুনিয়রের ড্রিবলিংয়ে অভিষেক সিং প্রায় হাঁটু গেড়ে বসে পড়া কিংবা এস্তেভাওয়ের প্রতিপক্ষকে চূর্ণ করে বিদ্যুৎ গতিতে ছুটে চলার দৃশ্য গ্যালারিতে এনে দিয়েছিল বাড়তি উত্তেজনা। অন্যদিকে ভারতীয় রক্ষণে আকাশ মিশ্র, গুরপ্রীত সিং সংধুর কিছু ভুল যেমন আক্ষেপ বাড়িয়েছে, তেমনি ভারতের জার্সি পরে গ্যালারিতে আসা সমর্থকদের উল্লাসে ভাসিয়েছেন সাহাল আব্দুল সামাদ। টাচলাইনে দোগলাস সান্তোসকে সাহালের দৃষ্টিনন্দন ‘নাটমেগ’ বা ডানপ্রান্তে রায়ান উইলিয়ামসের চমৎকার টার্ন ফুটবলপ্রেমীদের হাততালি কুড়িয়েছে।

 

বক্সের কোণে ব্রুনো গুইমারেসের কারসাজি, স্যার থিয়েরি অঁরির স্টাইলে সামুয়েল লিনোর চমৎকার গোল আর বড় ফরোয়ার্ড পেদ্রোর নিখুঁত টাচ, সব মিলিয়ে ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্তই ছিল ক্যামেরা ও সামাজিক মাধ্যমের জন্য পারফেক্ট।


 

ম্যাচে ডেভিড-গোলিয়াথ রূপকথার মতো বড় কোনো মিরাকেল ঘটেনি। প্রথমার্ধে মানভির সিং ও উইলিয়ামস দারুণ কিছু সুযোগ পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন। কিন্তু গ্যালারির ভক্তদের তাতে বিন্দুমাত্র আক্ষেপ নেই।

কারণ ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতেই বিশাল অর্থ খরচ করে সল্টলেকে হাজির হয়েছিলেন তারা।

 

বাংলাদেশের ঢাকা থেকে আসা সমর্থক হোসেন হাসিমুখে জানান, জিকো ও সক্রেটিসের ব্রাজিলকে সরাসরি দেখার লোভ সংবরণ করা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। ব্যাঙ্গালুরু থেকে উড়ে আসা ভক্ত অমিত তো কিংবদন্তি রোনালদোর ২০০২ সালের আইকনিক চুল কাটার স্টাইল অনুকরণ করার চিন্তা পর্যন্ত করেছিলেন! আবার গ্যালারিতে একদল ভক্তকে চিৎকার করে বলতে শোনা গেল, ‘জার্সিটা ব্রাজিলের হলেও, শরীরে রক্ত ভারতের!’ টিকিটের দাম প্রায় ৮ হাজার রুপি হলেও কেউ অনুশোচনা করছেন না। কারণ তারকাদের কেবল চোখের সামনে দেখার চেয়ে তাদের মাঠে খেলতে দেখার আনন্দ ছিল একদম আলাদা।

যদিও মাঠের লড়াইয়ে ব্রাজিল পূর্ণ শক্তিতে খেলেনি এবং স্টেডিয়ামেও ধারণক্ষমতার চেয়ে প্রায় ২০-২৫ হাজার দর্শক কম ছিল, তবুও আবহ ছিল উৎসবমুখর।

গ্যালারিতে তরুণ ভিনিসিয়ুসকে নিয়ে উন্মাদনা দেখা গেলেও সমর্থকদের গায়ে এখনো ১০ নম্বর পরা ‘নেইমার’ নামটির প্রাধান্যই বেশি দেখা গেছে। ভক্তদের ধারণা, দলের সাবেক ১০ নম্বর তারকা নেইমার জুনিয়র দলে থাকলে হয়তো যুবভারতী কানায় কানায় পূর্ণ থাকত।

 

ম্যাচ শেষে ব্রাজিলের ডাগআউটে থাকা বিশ্বখ্যাত কোচ কার্লো আনচেলত্তি মিষ্টি হেসে জানান, ভারতীয় দলের সঙ্গে ম্যাচটি তাদের জন্য কোনো পরীক্ষা ছিল না, বরং খেলোয়াড়দের জন্য একটি সুযোগ ছিল। অস্ট্রেলিয়া ও ভারত সফর শেষে সার্বিক পারফরম্যান্সে নিজের সন্তুষ্টির কথা জানান তিনি।

অন্যদিকে, ভারতীয় কোচ খালিদ জামিল তার দলের রক্ষণভাগে অপুইয়া ও অনিরুদ্ধ থাপার নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণভাগে মানভির ও উইলিয়ামসের চেষ্টার প্রশংসা করেন। এই ম্যাচ থেকে অনেক ইতিবাচক দিক ভবিষ্যতের জন্য নিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

ম্যাচের ফলাফল যা-ই হোক না কেন, এই আর্দ্র সন্ধ্যায় সল্টলেকে আসা হাজার হাজার দর্শক যা চেয়েছিলেন তা পেয়েছেন—স্মার্টফোনের স্ক্রিনে এবং স্মৃতিপটে দীর্ঘদিন ধারণ করার মতো কিছু অসাধারণ মুহূর্ত। এখন ব্রাজিল ফিরে যাচ্ছে দেশে, আর ভারতের সামনে পরবর্তী প্রতিপক্ষ উরুগুয়ে। তবে ভারতীয় ভক্তদের আড্ডায় দীর্ঘদিন টিকে থাকবে শুধুই একটি কথা—‘মনে আছে, সেবার ভারত ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলেছিল?’

জিবি নিউজ24ডেস্ক//

gbn

মন্তব্যসমূহ (০)


ব্রেকিং নিউজ

লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন