স্বপ্ন ছিল সোনার হাসি হাসার। এশিয়ান গেমস খেলতে যাওয়ার আগে তেমনটাই জানিয়েছিলেন অধিনায়ক লিটন দাস।
তবে সব স্বপ্নই যে সবার পূরণ হয় তা কিন্তু নয়। বাংলাদেশ তো আরো দুর্ভাগা।
স্বর্ণ জয় তো দূরে থাক, ব্রোঞ্জ মেডেলও গলায় ঝোলানো হলো না। এর জন্য অবশ্য নিজেরাই দায়ী।
জাতীয় দল নিয়ে খেলতে গিয়েও চরম হতাশাজনক পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে। সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে হারার পর আজ শ্রীলঙ্কার কাছে হেরেছে।
লঙ্কানদের কাছে ৬৩ রানে হেরে যাওয়ায় ব্রোঞ্জ মেডেলও হাতছাড়া হয়েছে বাংলাদেশের। এশিয়ান গেমস থেকে তাই খালি হাতেই ফিরতে হয়েছে।
যেভাবে মেয়েরা ফিরেছে।
অথচ ব্রোঞ্জ জয়ের দারুণ মঞ্চ তৈরি করেছিল বাংলাদেশ। টস হেরে বোলিং নেমে প্রতিপক্ষকে অল্প রানে আউট করার দারুণ সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু শেষটায় ছন্দ ধরে রাখতে না পারায় সবকিছু খোয়াল।
শুরুতে মাহাদী হাসান-আলিস ইসলামদের ঘূর্ণিতে দলীয় ২১ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল শ্রীলঙ্কা।
রিশাদ হোসেন পরে আরেকটি উইকেট নিলে ৫৪ রানে অর্ধেক উইকেট হারায় তারা। তাতে মনে করা হচ্ছিল সহজ লক্ষ্যই পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
কিন্তু তা হতে দেননি সাহান আরাচ্চিগে ও থারিন্দু রত্নানায়েকে। দুজনে মিলে ষষ্ঠ উইকেটে গড়েন ৯৩ রানের বিধ্বংসী জুটি। সর্বোচ্চ ৬৫ রান করা থারিন্দু আউট হলে তাদের ৪৬ বলের জুটি যায় ভেঙে। আউট হওয়ার আগে ২০৩.১২ স্ট্রাইকরেটের ইনিংসটি সাজান ৭ চার ও ৫ ছক্কায়।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৩ রান করেন অধিনায়ক আরাচ্চিগে। তাতে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৯ উইকেটে ১৬৫ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় শ্রীলঙ্কা। এই সংগ্রহে আজও মুক্ত হস্তে রান দিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। এর মধ্যে নিজের প্রথম ওভারেই দেন ২৫ রান। আগের ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২৩ রান দিয়ে বলা যায় সেমিফাইনালই হারিয়ে দেন বাঁহাতি পেসার। আজ সব মিলিয়ে ৩ ওভারে ৪৩ রানে ২ উইকেট নেন তিনি। তার মতো দুটি করে উইকেট নেন মাহাদী ও সাইফ হাসান।
লক্ষ্য তাড়ায় নেমে বাংলাদেশ ধ্বংসস্তূপে দাঁড়ায়। দলীয় ৫০ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে পরাজয়কে আলিঙ্গনের অপেক্ষায় থাকে বাংলাদেশ। শুরুটা প্রথম ওভার থেকেই হয়। সাইফ হাসানের ডাক মারা দিয়ে। টপ অর্ডারের অন্য দুই ব্যাটার তানজিদ হাসান তামিম ও অধিনায়ক লিটন দাসও রানের খাতা খোলার আগেই ড্রেসিংরুমের পথ ধরেন।
উইকেট হারানোর সেই স্রোতে পরে বাঁধ দিতে পারেনি বাংলাদেশ। এক এক করে অন্যরাও উইকেটের মিছিলে যোগ দেন। শেষ পর্যন্ত কোনো রকমে এক শ পেরোনো রানটা এসেছে পারভেজ হোসেন ইমন, ইয়াসির আলি রাব্বি ও নাসুমের বিশোর্ধ্ব ইনিংসে।
নবম ব্যাটার হিসেবে ব্যাটিংয়ে নেমে সর্বোচ্চ ২৬ রান করেছেন নাসুম। অন্যদিকে ইমনের ২২ রানের বিপরীতে ২১ রান করেছেন রাব্বি। প্রতিপক্ষের হয়ে সর্বোচ্চ ২ করে উইকেট নিয়েছেন শ্রীলঙ্কার নুয়ান তুষারা, থারিন্দু রত্নানায়েকে, বিজয়কান্ত বিশ্বকান্ত ও ওয়ানুজা সাহান।
জিবি নিউজ24ডেস্ক//
মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন