বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারের আহ্বান রাষ্ট্রদূতের

বাংলাদেশের সঙ্গে নিজেদের ইতিহাস আরো বেশি ভাগাভাগি করতে এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া আরো জোরদার করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এমনটাই জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।

 

 

আজ শনিবার সকালে রাজধানীর গুলশান-২-এর বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমদ পার্কে মার্কিন দূতাবাস আয়োজিত ‘আমেরিকান ফেয়ার ইন দ্য পার্ক’ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

সরজমিনের দেখা যায়, সকাল ১১টা থেকে এই আয়োজন শুরু হয়। আমেরিকান ফেয়ারে দর্শনার্থীরা ‘আমেরিকান ফাউন্ডার্স মিউজিয়াম’ ঘুরে দেখছেন। যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা, স্বাধীনতা অর্জনের ইতিহাস এবং রাষ্ট্র গঠনের যাত্রা ছবির মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।

এছাড়া মেলায় ৮ টি স্টল ছিলো যেখানে ৪ টিতে ছিল আমেরিকান বিভিন্ন খাবার। এছাড়া ছিল ইএমকে সেন্টারের স্টল, হামিমের টেক্সটাইল বা যুক্তরাষ্ট্রের তুলা দিয়ে তৈরি বিভিন্ন পণ্যের প্রদর্শনী। 

 

এর পাশাপাশি পুরো আয়োজনজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর ২৫তম ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের (২৫ আইডি) ইউএস আর্মি ব্যান্ড সরাসরি সংগীত পরিবেশন করেছে। এই মেলা দুপুর দুইটা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল।


 
মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের ইতিহাস আরো বেশি ভাগাভাগি করতে চাই এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া গড়ে তুলতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি, আমেরিকার ইতিহাস বিশ্বের বহু মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। বাংলাদেশের অনেক মানুষও সেই অনুপ্রেরণার অংশ। 

 

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছরের ইতিহাস শুধু দেশটির নিজস্ব ইতিহাস নয়, এটি বিশ্বের অনেক মানুষের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামও সেই অনুপ্রেরণার ধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত।

 

ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, প্রায় ২৫০ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ৫৬ জন প্রতিষ্ঠাতা স্বাধীনতা ও আত্মশাসনের জন্য নিজেদের সবকিছু ঝুঁকির মুখে ফেলেছিলেন। তাঁদের সেই আত্মত্যাগ, আদর্শ ও মূল্যবোধের ইতিহাস বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে আরও বেশি ভাগ করে নিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ফ্রিডম ২৫০’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও রাজশাহীতে সাত দিনব্যাপী ‘আমেরিকা উইক ২০২৬’ আয়োজন করেছে মার্কিন দূতাবাস। এ আয়োজনের মাধ্যমে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রদর্শনী ও জনসম্পৃক্ত কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ তুলে ধরা হচ্ছে।

রাষ্ট্রদূত জানান, ঢাকার কর্মসূচি শেষে তিনি রাজশাহী ও সিলেট সফর করবেন। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ ও পারস্পরিক বোঝাপড়া আরো বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, এই আয়োজনের মাধ্যমে আমরা যেমন বাংলাদেশকে আরো ভালোভাবে জানতে চাই, তেমনি বাংলাদেশও যেন যুক্তরাষ্ট্রকে আরও কাছ থেকে জানার সুযোগ পায় সেটিই আমাদের লক্ষ্য।

আমেরিকান ফেয়ারের আয়োজনে সহযোগী হিসেবে ছিলো গুলশানের বাসিন্দাদের সংগঠন গুলশান সোসাইটি।

সংগঠনের সভাপতি ওমর সাদাত বলেন, ‘গুলশান এলাকায় বিভিন্ন দেশের দূতাবাস রয়েছে। আমরা তাদের সঙ্গে নানা আয়োজনে সহযোগিতার মাধ্যমে দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আরও কাজ করতে চাই।’

জিবি নিউজ24ডেস্ক//

gbn

মন্তব্যসমূহ (০)


ব্রেকিং নিউজ

লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন