মার্কিন সহায়তা চাওয়ায় দোষী সাব্যস্ত বলসোনারোর ছেলে

ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর বিরুদ্ধে হওয়া সামরিক অভ্যুত্থানের বিচারের ক্ষেত্রে মার্কিন হস্তক্ষেপ চাওয়ায় তার ছেলে এদুয়ার্দো বলসোনারোকে কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। ৪১ বছর বয়সী এদুয়ার্দোর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের কাছে লবিং করে ব্রাজিলের ওপর শুল্ক বা নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে তার বাবাকে সহায়তা করার চেষ্টা করেছিলেন।

 

ব্রাজিলের সাবেক কংগ্রেস সদস্য এদুয়ার্দো ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে যান। এর কিছুদিন পর তার বাবা জাইর বলসোনারো সামরিক অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন এবং ২৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। বলসোনারো ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

 

মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় এদুয়ার্দো বলসোনারো এই রায়কে “ভিত্তিহীন ও অযৌক্তিক” বলে মন্তব্য করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, বিচারপতিরা তাকে চুপ করিয়ে দিতে এবং ভবিষ্যতে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথ বন্ধ করতে চেয়েছেন।

 

তিনি আরো দাবি করেন, মামলায় যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি এবং গণমাধ্যমের খবরের মাধ্যমেই তিনি মামলার বিষয়ে জানতে পেরেছেন।

এর আগে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এদুয়ার্দো বলেছিলেন, ব্রাজিলে ফিরলে গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ‘নির্বাসিত জীবন’ কাটাচ্ছেন।

 

 

 

তিনি প্রকাশ্যে তার বাবার পক্ষে ট্রাম্প প্রশাসনের সমর্থন চেয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসন জাইর বলসোনারোর বিরুদ্ধে চলমান মামলাকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযান’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিল।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি ডানপন্থী নেতা বলসোনারোকে ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে দেখেন, গত জুলাইয়ে ব্রাজিলের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। বর্তমান ব্রাজিলীয় প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা এই পদক্ষেপকে ‘ভুল এবং অযৌক্তিক’ বলে সমালোচনা করেন।

পরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলসোনারোর দণ্ডের বিষয়ে ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়ার ঘোষণা দেন।

এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলেক্সান্দ্রে দে মোরায়েসের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। তবে পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে।

 

 

 

লুলা দা সিলভা বলেন, বাণিজ্য ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করতে ব্রাজিল প্রস্তুত থাকলেও বিচারপতি মোরায়েসের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ছিল দেশটির বিচারব্যবস্থায় ‘অগ্রহণযোগ্য হস্তক্ষেপ’।

উল্লেখ্য, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে জাইর বলসোনারোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। ২০১৯ সালে দুই নেতা হোয়াইট হাউসে সাক্ষাৎও করেছিলেন। পরবর্তীতে উভয়েই নিজ নিজ দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত হন। তবে কেউই প্রকাশ্যে সেই পরাজয় স্বীকার করেননি।

 

 

জাইর বলসোনারো ২০২২ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের ফলাফল উল্টে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। এই মামলার সঙ্গে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় সরকারি ভবনগুলোতে তার সমর্থকদের হামলার ঘটনাও সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করেন।

সে সময় ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, ‘এটি একজন রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে পরিচালিত আক্রমণ ছাড়া আর কিছুই নয়।’ জবাবে বলসোনারো মার্কিন প্রেসিডেন্টকে তার সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান।

সূত্র : বিবিসি

জিবি নিউজ24ডেস্ক//

gbn

মন্তব্যসমূহ (০)


ব্রেকিং নিউজ

লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন