পাইকগাছা ( খুলনা) প্রতিনিধি।।
খুলনার পাইকগাছায় জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন কে কেন্দ্র করে এমন অভিযোগের ঘটনা ঘটছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন কে সামনে রেখে দলীয় প্রার্থী ঘোষণার পর থেকে উপজেলার রাড়ুলী ইউনিয়নে একের পর এক এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে দল থেকে অনেকের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পরও বন্ধ হচ্ছে না শৃঙ্খলা ভঙ্গের ঘটনা। গত ১২ জুন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সংগঠনের জেলা আমীরের উপস্থিতিতে চরম বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে। যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই বলছেন জামায়াতের মতো একটি সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক দলে এ ধরনের প্রকাশ্যে বিশৃঙ্খলার ঘটনা এর আগে কখনো ঘটেনি। আবার অনেকেই বলছেন দলটির সাংগঠনিক সক্ষমতা যত বাড়ছে দলের মধ্যে প্রতিযোগিতার ঝুঁকি তত বাড়ছে। যদিও এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা এবং এটা দলীয় শৃঙ্খলা এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে কোন প্রভাব পড়বে না বলে দাবি করেছেন জামায়াতের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।
জেলার গুরুত্বপূর্ণ এ উপজেলায় অনেক আগে থেকেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। অনেকের মতে নানা প্রেক্ষাপটের কারণে রাজনৈতিক ভাবে দলটি অতিতের যেকোনো সময়ের চেয়ে সাংগঠনিক সক্ষমতা অনেক বেড়েছে। যার ফলে দলটি এবারই প্রথম স্থানীয় সরকার নির্বাচনে উপজেলা, পৌরসভা এবং সকল ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী দিতে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে গত মে মাসের প্রথম দিকে জামায়াতের পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সকল পর্যায়ের সম্ভাব্য দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছেন। এদিকে সাংগঠনিক সক্ষমতা বাড়ার সাথে সাথে জামায়াতের অতীত ঐতিহ্য যে দলীয় শৃঙ্খলা তা বজায় রাখা সংগঠনের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
মে মাসের শুরুতে দলীয় ভাবে উপজেলা, পৌরসভা এবং সকল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম ঘোষণার পর এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে জামায়াত কে। বিশেষ করে রাড়ুলী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে জেলা জামায়াতের ইউনিট সদস্য সহকারী অধ্যাপক আব্দুল মোমিন সানার নাম ঘোষণা করা হয়। প্রার্থী ঘোষণার পর ও এ ইউনিয়নে প্রার্থী হিসেবে প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রাখে মনোনয়ন প্রত্যাশী আরেক প্রার্থী রোকন সদস্য ও যুব বিভাগের দায়িত্বশীল নেতা এস কে মহিবুল্লাহ। পরবর্তীতে ২৭ মে জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা ইমরান হুসাইন দলীয় আনুগত্য ও শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দায়িত্বশীল নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদের অভিযোগ এনে এস কে মহিবুল্লাহ কে রোকন পদ সহ সকল দলীয় দায়িত্ব থেকে অব্যাহত দেন। উল্লেখ্য এর আগে ২০২২ সালে ও একবার শিবির থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয় বলে দলীয় অনেকেই জানিয়েছেন। এরপর ও থামেনি শৃঙ্খলা ভঙ্গের ঘটনা। গত ১২ জুন শুক্রবার বিকালে রাড়ুলী আরকেবিকে হরিশ্চন্দ্র ইনস্টিটিউট এ সাংগঠনিক সভার আয়োজন করে জামায়াতে ইসলামী। সভায় দলীয় সংসদ সদস্য ও জেলা আমীরের উপস্থিতিতে বিশৃঙ্খলা এবং হট্টগোলের ঘটনা ঘটে। সভায় উপস্থিত অনেকেই বলছেন জেলা আমীর মাওলানা ইমরান হুসাইন এর বক্তব্য শেষে সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মাওলানা আবুল কালাম আজাদের বক্তব্যের আগে কিছু লোক বিশৃঙ্খলা এবং হট্টগোল সৃষ্টি করে। সভার এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয় টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই বলছেন জামায়াতের মতো একটি সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক দলে এমন বিশৃঙ্খলার ঘটনা এটাই প্রথম। অনেকেই বলছেন এ ধরনের ঘটনায় জামায়াতের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে। আবার অনেকেই বলছেন এ ধরনের নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ভবিষ্যতে দলকে আরো অনেক বড় বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। কারা এ ধরনের ঘটনা সৃষ্টি করেছে এমন প্রশ্নের জবাবে অনেকেই বলছেন মাওলানা আজিজুর রহমান ঘটনার সুত্রপাত তৈরি করে এবং এসকে মহিবুল্লাহর চাচা ওয়াজেদ সহ পরিবারের লোকজন এবং তার অনুসারীরা বিশৃঙ্খলা এবং হট্টগোল করে। আবার কেউ কেউ বলছেন বহিরাগত বহু লোকজন সভায় উপস্থিত ছিল, যাদের এ ধরনের সভায় থাকার কোন সুযোগ ছিল না। এ প্রসঙ্গে এসকে মহিবুল্লাহর কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি। উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা সাঈদুর রহমান বলেন রাড়ুলী ইউনিয়ন পরিষদের দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী নিয়ে দলের কেউ কেউ ক্ষুন্ন হতে পারে। এটা নিয়ে কারোর মধ্যে কোন দ্বিধা যেন না থাকে এজন্য জেলা আমীর সবাই কে বিষয় টি পরিস্কার করেন। এরপর ও দলের পক্ষ থেকে একটি সাংগঠনিক সভার আয়োজন করা হয়। সভায় যারা হট্টগোল করেছে তাদের মধ্যে অনেকেই বহিরাগত থাকতে পারে। তবে যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে জেলা নেতৃবৃন্দের সিদ্ধান্ত মোতাবেক পরবর্তী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়েছেন উপজেলা জামায়াতের দায়িত্বশীল এ নেতা।
মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন