ইয়াবা গডফাদাররা এবার অস্ত্র জমা দিতে রাজি

সেফহোমে শতাধিক ব্যবসায়ী : আত্মসমর্পণে রাজি সাইফুল করিমও

68
gb

আত্মসমর্পণের পাশাপাশি কক্সবাজারের ইয়াবা কারবারি ও গডফাদাররা এবার অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দিতে রাজি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তাদের ভাণ্ডারে বিপুল সংখ্যক দেশি-বিদেশি অস্ত্র থাকতে পারে। এদিকে দিন যত গড়াচ্ছে আত্মসমর্পণে ইচ্ছুক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের তালিকা ততই দীর্ঘ হচ্ছে।

সূত্র জানায়, টেকনাফের প্রথম সারির ইয়াবা গডফাদার সাইফুল করিমও আত্মসমর্পণের জন্য দেশের বাইরে থেকে যোগাযোগ করছেন।

গ্রিন সিগন্যাল পেলে আগামী সপ্তাহে তিনি আত্মসমর্পণ করতে পারেন। এছাড়া গুটিকয়েক গডফাদার ছাড়া বাকিরা আত্মসমর্পণে রাজি হয়েছে।

এদিকে এতদিন যারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন তাদের কেউ কেউ স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণের জন্য যোগাযোগ করছেন।

এরইমধ্যে সেফহোমে যাওয়া ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে থাকা মাদক ব্যবসায়ীদের আলাদা আলাদা স্থানে রাখা হয়েছে।

কারণ এসব ইয়াবা ব্যবসায়ী ও গডফাদারের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিরোধ রয়েছে। এক জায়গায় রাখলে সংঘর্ষে তাদের জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ কারণে তাদের পৃথক স্থানে রাখা হয়েছে। সূত্র জানায়, ইয়াবা কারবারিদের অত্যাধুুনিক নানা অস্ত্র ও গোলাবারুদের বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে।

স্মল আর্মস ছাড়াও চায়নিজ শর্টগান ও দেশি-বিদেশি রাইফেল তাদের কাছে রয়েছে। রেকর্ড সংখ্যক অস্ত্র ও গোলাবারুদ তারা জমা দিতে পারে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কাজ করছে। পুলিশের একটি সূত্র যুগান্তরকে জানায়, ইয়াবা কারবারিদের আত্মসমর্পণের প্রক্রিয়াটি ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে হতে পারে। শেষ পর্যন্ত আত্মসমর্পণকারীদের সংখ্যা দেড়শ’ ছাড়াবে বলে তারা আশা করছেন।

পুলিশ কর্মকর্তারা আরও বলেন, অবৈধ অস্ত্র কেউ জমা দিলেও তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। আত্মসমর্পণের পর ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হবে কি না?- এমন প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, কারও সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার এখতিয়ার পুলিশের নেই। বরং কোনো ব্যক্তির সম্পদের তথ্য যাচাই করতে তারা সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে চিঠি দিতে পারেন। তারা বলেন, মূলত অভিযানের ভয়ে ইয়াবা কারবারিরা আত্মসমর্পণে সম্মত হচ্ছে।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, এতদিন তাদের ইয়াবা কারবারি বা ইয়াবার গডফাদার বলত এলাকার লোকজন।

আত্মসমর্পণের মাধ্যমে তারা (ব্যবসায়ী) নিজেরাই স্বীকার করবেন তারা ইয়াবা কারবারি বা গডফাদার। তিনি বলেন, আত্মসমর্পণের পরও তাদের ওপর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

কেউ মাদক ব্যবসার মতো অপরাধে জড়ালে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, কাউকে সংশোধনের সুযোগ একবারই দেয়া হবে। বারবার নয়।

ইয়াবা ব্যবসায়ী এবং পুলিশের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের দায়িত্ব পালন করছেন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের সাংবাদিক এমএম আকরাম হোসাইন। তার মধ্যস্থতায় মহেশখালীর পাঁচটি বাহিনীর ৩৭ জনসহ ৪৩ জন জলদস্যু আত্মসমর্পন করেছে।

এ সময় তারা ৯৪টি আগ্নেয়ান্ত্র ও সাড়ে সাত হাজার রাউন্ড গুলি জমা দেয়। তিনি আরও বলেন, টেকনাফের তালিকাভুক্ত শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ীদের মধ্যে যারা দেশে ও বিদেশে রয়েছে তাদের মধ্যে ৯০ ভাগ ব্যবসায়ী আত্মসমর্পণ করতে তার সঙ্গে যোগাযোগ করছে।

কক্সবাজার ও টেকনাফে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সোমবার ভোরে টেকনাফের মিনাবাজার এলাকায় বন্দুকযুদ্ধে দেলোয়ার হোসেন রুবেল ও মোহাম্মদ রফিক নামে দুই মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে বন্দুকযুদ্ধে ১৬ জন নিহত হল। তাদের মধ্যে ১৫ জনই টেকনাফের।

gb
মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More