সহায়তা পেলে এ পেশা সম্ভাবনাময় হতো পলাশবাড়ীর বড়া তৈরির গ্রাম নুরপুর

62

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা ||

মাসকলাই ডালের বড়া তৈরি নিয়েই ব্যস্থতা ওদের। রাতভর চলে বড়া তৈরির কাজ। পরেরদিন সকাল থেকে শুরু হয় শুকানো। শুকনো বড়া বাড়ি থেকেই খুচরা ও পাইকারী বিক্রি হয়। সাড়া বছর এ কাজ করেই জীবন পাড় করছেন তারা।
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার সদর ইউনিয়নের নুরপুর গ্রামটির অন্তত ৫৫ পরিবার এই কালাইয়ের বড়া তৈরির পেশায় জড়িত। এখানকার নারী-পুরুষ সবাই বড়া তৈরির কারিগর। বুধবার সকালে নুরপুর গ্রামে গেলে দেখা মেলে তৈরি করা বড়া তৈয়ারীর দৃশ্য। টিনের চালা কিংবা কাপড়ের ফ্রেম তৈরি করে তাতে মাসকলাইয়ের তৈরী করা ঘন ফেটানো অংশ বড়ি বানিয়ে আটকিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এই পরিবার গুলোর প্রায় প্রতিজনই এ কাজ নিয়ে ব্যস্থ দেখা গেলো। নুরপুর গ্রামে রাস্তার পাশেই মাটিতে টিন বিছিয়ে বড়া শুকানোর কাজে ব্যস্ত নুরপুরের গৃহনীরা। তারা জানান, কালীবাড়ী থেকে মাসকলাই কিনে এনে রাতে যাতায় পিশে তা ভিজিয়ে রাখতে হয়। আঠালো হয়ে ঘন হলে তা ফেটিয়ে সকালে বড়া তৈরি করে রোদে শুকাতে হয়। এক কিংবা দুদিন পর শুকিয়ে গেলে বিক্রির উপযোগী হয়। বড়া তৈরীর সাথে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত রেমানা বলেন, ৬০ টাকা কেজি দরে প্রতিদিন ১০ কেজি মাসকলাই ৬০০ টাকায় কিনে বড়া তৈরি করার পর শুকনো বড়া হয় ৮ কেজি। শুকনো বড়া পাইকারী ভাবে ১০০ টাকা কেজি দরে ৮০০ টাকা বিক্রি করি। প্রতিদিন এ কাজ থেকে ২০০ টাকা লাভ হয়। তা দিয়েই সংসার চলে। পরিবারের সব সদস্যই এটি শেখায় কাজে কোন বেগ পেতে হয়না বলেও জানান এই বড়ার কারিগর। বছরে সাত মাস চলে এই বড়া তৈরির কাজ।
বিশেষ করে শীত মৌসুমে এ ব্যবসা তাদের ভালো চলে। খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন উপজেলাসহ সহ আশে পাশের খুচরা ব্যবসায়ীরা এ গ্রামে এসে বড়া নিয়ে গিয়ে বিক্রি করেন। পলাশবাড়ীর ব্যবসায়ী শাহারুল বলেন, হাট বাজারের চাহিদা অনুযায়ী তারা বড়া সরবরাহ দিতে পারেনা। অর্থ অভাবে কালাই কম কিনতে হয়, তাই বড়াও তৈরি করে কম।
পলাশবাড়ী এসএমবি আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের শিক্ষক শাহ-আলম বলেন, যেকোন ঝোল তরকারীতে বড়া দিয়ে রাঁধলে তার স্বাদটাই হয় আলাদা। এ এলাকায় এই বড়ার তরকারীর সু-স্বাদ নেয়নি এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবেনা বলেও জানান তিনি।
বাড়াইপাড়া গ্রামের পুরাতন বড়া ব্যবসায়ী আজিজ জানান, পুঁজি আমাদের কম তাই চাহিদা থাকা সত্বেও বেশি বড়া তৈরি করতে পারিনা। সরকারী ভাবে ঋণের ব্যবস্থা করলে এ পেশা আরো সম্ভাবনাময় হতো বলে তার আশা। সদর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য খায়রুল জানান, সহযোগিতা পেলে তাদের এ পেশায় আরো গতি ফিরবে।

মন্তব্য
Loading...