৪৪ প্রকল্পের জন্য খোঁজা হচ্ছে বৈদেশিক ঋণ

সংশোধিত এডিপিতে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব

তালিকায় সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর, পায়রা সমুদ্রবন্দর, মোংলা বন্দও * প্রয়োজন ৭৫ হাজার ৩৪ কোটি টাকার বৈদেশিক ঋণ

45

সোনাদিয়া দ্বীপে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণসহ ৪৪টি প্রকল্পের জন্য বৈদেশিক অর্থায়ন খোঁজা হচ্ছে।

প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে সম্ভাব্য ব্যয় এক লাখ ১৭ হাজার ৩৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে বৈদেশিক সহায়তা (ঋণ ও অনুদান) হিসেবে ৭৫ হাজার ৩৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ধরা হয়েছে।

প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা বা দেশ বা অর্থের উৎস অনুসন্ধান করা হবে। এজন্য চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে এগুলো যুক্ত করার প্রস্তাব দেয়া হয়।

বৈদেশিক সাহায্য প্রাপ্তির সুবিধার্থে ১৪ জানুয়ারি ভৌত অবকাঠামো বিভাগ থেকে পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগে বরাদ্দহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকায় অন্তর্ভুক্তির অনুরোধ জানানো হয়।

এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা সচিব মো. জিয়াউল ইসলাম মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, ভৌত অবকাঠামো বিভাগ থেকে পাঠানো প্রস্তাবগুলো সাধারণত আর যাচাই-বাছাই করা হয় না। কেননা তারা সে কাজটি করেই আমাদের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছে।

এসব প্রকল্প সংশোধিত এডিপিতে থাকা মানেই সরকারের প্রায়োরিটি প্রকল্প হিসেবে গণ্য হওয়া। এতে বৈদেশিক সহায়তার অনুসন্ধান করা এবং পাওয়াটা সহজ হয়।

ভৌত অবকাঠামো বিভাগের প্রধান মো. এনায়েতুর রহমান বলেন, আমরা মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো থেকে প্রস্তাব নিয়ে কিছুটা যাচাই-বাছাই করে কার্যক্রম বিভাগে পাঠিয়েছি। প্রকল্পগুলোতে যে সরকারের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে তা এই তালিকায় থাকলে সংশ্লিষ্টরা বুঝতে পারবেন।

প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম ফাস্টট্রাকভুক্ত সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ। প্রকল্পটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। কক্সবাজারের সোনাদিয়ায় বন্দরটি নির্মাণের জন্য জাপানের পেসিফিক কনসালটেন্ট ইন্টারন্যাশনালের (পিসিআই) মাধ্যমে একটি টেকনো-ইকোনমিক স্টাডি করা হয়েছে। প্রকল্পটি প্রাথমিকভাবে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপে (পিপিপি) নির্মাণের জন্য নির্ধারিত থাকলেও আগ্রহী বিনিয়োগকারী না পাওয়ায় গভর্মেন্ট টু গর্ভমেন্ট (জিটুজি) ভিত্তিতে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে এখনও অর্থায়নের বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি।

ফাস্টট্র্যাক প্রতিবেদনে বলা হয়, অর্থায়নের বিষয়টি চূড়ান্ত হলেই গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের কাজ শুরু হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সম্ভাব্য ব্যয় ২০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

পুরোটাই বৈদেশিক ঋণের মাধ্যমে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। বৈদেশিক অর্থের সম্ভাব্য উৎস হিসেবে বিশ্বব্যাংক, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা), এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), আইডিবি ও চীনকে চিন্তা করা হচ্ছে।

১ লাখ ৪০ হাজার সিবিএম ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন এলএনজি ক্যারিয়ার ক্রয় প্রকল্প। এটি বাস্তবায়নে ৩ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে বৈদেশিক ঋণের প্রয়োজন দুই হাজার ৯৩০ কোটি টাকা।

সম্ভাব্য বৈদেশিক ঋণের উৎস হিসেবে জাইকা, বিশ্বব্যাংক, এডিবি, আইডিবি ও চীনকে ধরা হয়েছে। আপগ্রেডেশন অব মোংলা পোর্ট প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ৬ হাজার ১৪ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

এর মধ্যে বৈদেশিক ঋণ প্রয়োজন ১ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা। মোংলা বন্দরের সুবিধাদি সম্প্রসারণ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ৪ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এর জন্য পুরোটাই বৈদেশিক ঋণ প্রয়োজন। পায়রা পোর্টের কোর পোর্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার কম্পোনেন্ট প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রয়োজন ১৪ হাজার কোটি টাকা। পুরোটাই বৈদেশিক ঋণের মাধ্যমে সংগ্রহ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হচ্ছে।

পায়রা পোর্ট মাল্টিপারপাস টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ৫ হাজার ১৫০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এর পুরোটাই বৈদেশিক ঋণ খোঁজা হচ্ছে। পায়রা পোর্টের রাইপেরিয়ান লায়াবিলিটিজ কম্পোনেন্টের জন্য ৩ হাজার ২৬৬ কোটি টাকা ব্যয় হবে।

এর মধ্যে পুরোটাই বৈদেশিক ঋণের প্রয়োজন। এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলওয়ে করিডরে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন ব্যবস্থা প্রবর্তনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়নে ৭ হাজার ৯৯৬ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে বৈদেশিক ঋণ হিসেবে প্রয়োজন ৫ হাজার কোটি টাকা।

প্রস্তাবিত অন্য প্রকল্পগুলো হলো- রেলওয়ের জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ-জামালপুর সেকশনে বিদ্যমান রেললাইনের সমান্তরাল একটি ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণ, ঈশ্বরদীতে একটি আইসিডি নির্মাণ, কুমিল্লা-লাকসাম হয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত দ্রুতগতির ডাবল ট্রাক রেললাইন নির্মাণ, ধীরাশ্রম রেলওয়ে স্টেশনের কাছে অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপো আইসিডি নির্মাণ, নাভারন থেকে সাতক্ষীরা পর্যন্ত ব্রডগেজ রেলপথ তৈরি, সাতক্ষীরা থেকে মুন্সীগঞ্জ পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ, টুঙ্গিপাড়া থেকে ফকিরহাট ও রূপসা হয়ে মোংলা পোর্টের সংযোগ রেললাইন নির্মাণ, ঈশ্বরদী-পার্বতীপুর সেকশনে ২০টি স্টেশন সিগন্যালিং ও ইন্টারলকিং ব্যবস্থা প্রতিস্থাপন ও আধুনিকীকরণ, আবদুল্লাহপুর থেকে পার্বতীপুর পর্যন্ত সিগন্যালিংসহ ব্রডগেজ দ্বৈত পথ নির্মাণ, ডিজেল ইলেকট্রিক পাল্টিপল ইউনিট ডিইএমইউ মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য চট্টগ্রাম বা ঢাকায় একটি ওয়ার্কশন নির্মাণ এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামে দুটি পৃথক ইন্সপেকশন শেড তৈরি, রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের সান্তাহার-বোনারপাড়া-লালমনিরহাট সেকশনের ২৩টি সিগন্যালিং ব্যবস্থা প্রতিস্থাপন ও আধুনিকীকরণ, ব্রডগেজ সেকশনে কমিউটার ট্রেন চালুর জন্য ২০ সেট বিজি ডিজেল ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট ডেমু সংগ্রহ, ৮০০টি এমজি কোচ সংগ্রহ, খুলনা-দর্শনা সেকশনে ১৮টি স্টেশনের সিগন্যালিং ও ইন্টারলকিং ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ, আবদুল্লাহপুর-রাজশাহী সেকশনের ৫টি স্টেশনের সিগন্যালিং ও ইন্টারলকিং ব্যবস্থা প্রতিস্থাপন ও আধুনিকীকরণ, রেলওয়ের জন্য ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহ, রেলওয়ের ফেনী-বিলোনিয়া সেকশনকে ডুয়েলগেজ রূপান্তর প্রকল্প।

এছাড়া বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর সিকিউরিটি উন্নয়ন প্রকল্প, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সিএনএস-এটিএন সিস্টেম আধুনিকায়ন এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্প অন্যতম।

মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More