সংসদেও থাকছে চমক

সংসদ উপনেতা, ডেপুটি স্পিকার ও হুইপ পদে আলোচনায় নতুন মুখ

78
gb

একাদশ জাতীয় সংসদের উপনেতা, ডেপুটি স্পিকার, চিপ হুইপ ও হুইপ নির্বাচনেও এবার চমক থাকছে। আগামী ৩০ জানুয়ারি নতুন সংসদ অধিবেশনের প্রথমদিনই এসব গুরুত্বপূর্ণ নেতা নির্বাচিত হবে। বলাবলি হচ্ছে, সংসদীয় গণতন্ত্রে এসব গুরুত্বপূর্ণ নেতা নির্বাচনেও চমক দেখতে পাবে দেশবাসী।

এর আগে গত ৭ জানুয়ারি গঠিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নতুন মন্ত্রিসভায়ও ছিল চমকে ভরা। দলের প্রভাবশালী ও গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের বাদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার মন্ত্রিসভায় ঠাঁই দিয়েছেন অপেক্ষাকৃত নবীন ও নতুন নেতাদের।

তবে ডেপুটি স্পিকার, সংসদ উপনেতা, চিফ হুইপ, হুইপ পদে কারা আসছেন এ নিয়ে ভাবনার শেষ নেই আওয়ামী লীগে। এমনকি সংসদীয় কমিটিগুলোর সভাপতি পদে কারা থাকছেন- এ ভাবনাও আছে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণে দশম জাতীয় সংসদের উপনেতা আ’লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী এ পদে আর থাকছেন না। এ পদে আসছে নতুন মুখ। দলের তিন প্রবীণ নেতা আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ এবং মতিয়া চৌধুরীর যে কাউকে সংসদ উপনেতা করা হতে পারে। ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া ১০ম জাতীয় সংসদে সফল ছিলেন। তবুও এ পদে আসছেন নতুন কেউ- এমনটাই শোনা যাচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডেপুটি স্পিকার হিসেবে অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়ার জায়গায় সাবেক আইনমন্ত্রী ও আ’লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু আসতে পারেন। পরিবর্তন আসছে সরকারদলীয় চিফ হুইপ পদেও। ১০ম সংসদে চিফ হুইপ ছিলেন আ স ম ফিরোজ। নতুন সংসদে সরকারদলীয় চিফ হুইপ হতে পারেন মাদারীপুর-১-এর এমপি নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন।

এ পদে আলোচনায় আছেন চট্টগ্রাম-৬-এর এমপি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, জয়পুরহাট-২-এর এমপি ও আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, শেরপুর-১ আসনের এমপি আতিউর রহমান আতিক, গাজীপুর-৪ আসনের সিমিন হোসেন রিমি, নওগাঁ-২ আসনের এমপি শহীদুজ্জামান সরকার।

নতুন সংসদের প্রথম বৈঠকের আগেই চিফ হুইপ ও অন্যান্য হুইপ নিয়োগ হবে- এমনটি জানিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘সংসদ নেতার প্রস্তাব অনুসারে চিফ হুইপ ও হুইপ পদে নিয়োগ দেয়া হবে। পরে সরকারি ও বিরোধী দলের দুই প্রধান হুইপের সঙ্গে আলোচনা করে সংসদের অধিবেশন কক্ষের আসন বণ্টনসহ অন্যান্য বিষয় চূড়ান্ত করা হবে।’

সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী, জাতীয় সংসদে পূর্ণ মন্ত্রী পদমর্যাদার চিফ হুইপ এবং প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার হুইপ পদে এমপিদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। এ ক্ষেত্রে স্পিকারের মাধ্যমে সংসদ নেতার দেয়া তালিকাই রাষ্ট্রপতি অনুমোদন করেন। পরে সংসদ সচিবালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি হয়। আর সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম বৈঠকেই সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন হয়।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান যুগান্তরকে বলেন, ‘সংসদীয় দলের সভায় আ’লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে সংসদ নেতা নির্বাচিত করা হয়েছে। সংসদীয় দলের সভায় সংসদ নেতাই উপনেতা, চিফ হুইপ ও হুইপ নির্বাচিত করবেন।’

গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, ১৪ দল এবং জাতীয় পার্টি জোটগতভাবে ২৮৮টি আসন পায়। আ’লীগ একাই জয়ী হয় ২৫৮ আসনে। ২২টি আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল এখন জাতীয় পার্টি। ৩ জানুয়ারি শপথ নেন তারা।

ওই দিনই আ’লীগের সংসদীয় দলের সভায় শেখ হাসিনাকে সর্বসম্মতিক্রমে সংসদ নেতা নির্বাচিত করা হয়। ৭ জানুয়ারি নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রভাবশালী নেতারা মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা তার ২০০৮ সালের মন্ত্রিসভায়ও নতুনদের জায়গা দিয়ে চমক দেখিয়েছিলেন। ওই সময় দলের সিনিয়র ও প্রভাবশালী নেতাদের সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ পেয়েই খুশি থাকতে হয়। এমনকি আ’লীগের শরিক দুই দলের শীর্ষ নেতাদের মন্ত্রিসভায় জায়গা না দিয়ে সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদে বসিয়েছিলেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবারও মন্ত্রিসভায় জায়গা না পাওয়া আ’লীগ এবং ১৪ দলীয় জোটের প্রভাবশালী নেতারা ‘শেষ ভরসা’ হিসেবে সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদটিকেই মনে করছেন। অনেকে দলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে দেনদরবারও শুরু করেছেন। জানা গেছে, সদ্যবিদায়ী ১০ম সংসদে মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালনকারীদের প্রাধান্য দেয়া হতে পারে সংসদীয় কমিটিতে।

সরকারের কাজে গতি বাড়াতে এসব মন্ত্রী যেসব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন তাদের সেসব মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি করার সম্ভাবনাই বেশি। মন্ত্রিসভার বাইরে থাকা শরিক দলের সদস্যরাও এক বা একাধিক সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ পেতে পারেন। বিরোধী দল জাতীয় পার্টি থেকেও একাধিক সদস্য সভাপতি থাকতে পারেন। সংসদের প্রথম অধিবেশনেই বেশিরভাগ সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হবে।

জানতে চাইলে ১০ সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ যুগান্তরকে বলেন, ‘সংসদের কয়েকটি কমিটির সভাপতি নির্ধারিত থাকেন। পদাধিকার বলে স্পিকার সভাপতি থাকেন সেগুলোতে। আর মন্ত্রণালয় সম্পর্কিতসহ অন্যান্য সংসদীয় কমিটির সভাপতি সংসদ নেতা ঠিক করেন। এ ক্ষেত্রে কে বা কারা হবেন, তা সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই ঠিক করবেন।’

gb
মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More