কৃষি অফিসের দাবি কমেছে তামাক চাষ, কৃষকদের দাবি বেড়েছে

144

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা ||

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এবার ৫৮ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ কমেছে। আর কৃষকদের দাবি, এবার উপজেলায়জেলায় দ্বিগুণ জমিতে তামাকের চাষ হয়েছে। তামাক কোম্পানিগুলোর আর্থিক সহযোগিতায় দেশের গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে তামাক চাষ।
বিনা মূল্যে বীজ, ঋণে সার ও নগদ অর্থসহ তামাক ক্রয়ের নিশ্চিতার লোভেই তামাক চাষে ঝুঁকে পড়েছে এ অ লের চাষীরা। শুধু তাই নয়, স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর জেনেও অধিক মুনাফা লাভের আশায় তামাকের জমিতে কাজ করছে শিশুরাও।
উপজেলার ৯টি ইউনিয়ানের মাঠের পর মাঠ জুড়ে শুধুই তামাক। দিন যতই যাচ্ছে ততই বাড়ছে তামাক চাষ। কৃষি বিভাগ তামাক চাষে কৃষকদের নিরুৎসাহিত করলেও কোম্পানির লোভনীয় আশ্বাসে দিন দিন বেড়েই চলছে উপজেলায় তামাক চাষ।
কৃষি অফিস জানিয়েছে, চলতি অর্থবছর ৭০২ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয়েছে। গত বছর ৩ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে তামাকের চাষ হয়েছিল। সে হিসাবে এবার তামাক চাষ কমেছে ৪২ হেক্টর জমি।
তবে কৃষকরা বলছেন, চলতি বছর উপজেলায় দ্বিগুণ পরিমাণ ফসলি জমিতে চাষ হয়েছে বিষ বৃক্ষ তামাকের। কোম্পানিগুলো তামাক ক্রয়ের শতভাগ নিশ্চিয়তা প্রদান করেন। পাশাপাশি, কৃষকের উৎপাদিত পণ্য ক্রয়ের ব্যাপারে সরকারের নেই কোনও উদ্যোগ।
পলাশবাড়ী সদরের বাড়াই পাড়া গ্রামের এমদাদুল বলেন, তামাক চাষ স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর হলেও অধিক মুনাফা লাভের আশায় পৌষের শীতকে উপেক্ষা করে তামাকের ক্ষেতে কাজ করছেন কৃষকরা।একই ইউনিয়নের শিমুলতলা গ্রামের কৃষক হাবিব বলেন, তার বর্গাদারসহ মোট ১০ বিঘা তামাকের চাষ করেছে বর্গাদাররা। প্রতি বিঘায় তামাকের ফলন হয় ৮-১০ মণ। আর প্রতি মণের বাজার মূল্য তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা। বাজারে দাম ভালো পাওয়া গেলে এবারে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যাবে।
গনেশপুর গ্রামের তামাক চাষি ছাইফুল ইসলাম বলেন, ‘তামাক চাষের জন্য কোম্পানিগুলো অগ্রিম ঋণসহ সার ও নগদ টাকা দেয়। তামাক কেনার শতভাগ নিশ্চিয়তা থাকে। এছাড়া বাজারে তামাকের যথেষ্ঠ চাহিদা রয়েছে।’
তামাক চাষিরা জানা, পুরান তামাক এখন বাজারে ৩৫০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।
কৃষক আসাদুল ইসলাম মন্টু বলেন, সরকার যদি বিনা শর্তে ঋণসহ ফসল ক্রয়ের নিশ্চিয়তা দেয় তাহলে তামাক চাষ ছেড়ে দিয়ে কৃষক ভুট্টা, গম, আলু ও সরিষা চাষে করবে।কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কৃষি তথ্যের খবর জানতে চাইলে তারা সেটি আমলে নেয় না। বীজতলাসহ সবজির ক্ষেত নষ্ট হলেও কৃষি অফিসের লোকজনের দেখাই মেলে না। তাই তারা গম ভুট্টা, আলু বা অন্য কোনও ফসল চাষ না করে তামাকই চাষ করছেন। তামাকের কোনও রোগ বালাই হয় না।
উপজেলার কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা কৃষ্ণ কুমার বলেন, তামাক চাষে কুষকদের নিরুৎসাহিত করতে কৃষিবিভাগ যথেষ্ঠ আন্তরিক হয়ে কাজ করছে। কিন্ত চাষিরা অধিক মুনাফার আশায় তামাক চাষে ঝুঁকে পড়ছেন।
তিনি বলেন, গত বছরের চেয়ে এবার ৪৫৮ হেক্টর জমিতে তামাকের কম চাষ হয়েছে। আশা করি সরকারের পৃষ্টপোশকতায় আগামীতে কৃষক তামাক চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে।

মন্তব্য
Loading...