নিরাপত্তার চাদরে সিলেট,নতুন কারাগারে বন্দী স্থানান্তর শুরু

81
gb

সিলেট নিউজ: সিলেট শহরতলির বাদাঘাটে নবনির্মিত সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী স্থানান্তর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে সিলেট নতুন কারাগার, পুরনো কারাগার এবং সিলেট শহরের মোড়ে মোড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১১ জানুয়ারি) সকাল থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে নতুন কারাগারে বন্দীদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। গত বছরের ১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন নতুন কারাগারটি উদ্বোধন করেন।

মহিলা হাজতিদের স্থানান্তরের মধ্য দিয়ে বাদাঘাটে নবনির্মিত সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী স্থানান্তরের কার্যক্রম শুরু হয়। সকাল পৌনে সাতটার দিকে একটি প্রিজন ভ্যানে করে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে নবনির্মিত কারাগারে নিয়ে আসা হয় মহিলা হাজতিদের। এরপর কয়েদিদের নিয়ে আসা হয়। পর্যায়ক্রমে হাজতিদের নিয়ে আসা হচ্ছে।

এর আগে পুরাতন কারাগারের প্রধান ফটকে নোটিশ সাঁটানো হয়। নোটিশে বলা হয়, ‘সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক বন্দীদের সাথে তাদের আত্মীয় স্বজনসহ সকলের সাক্ষাৎ কার্যক্রম আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।

উদ্বোধনের পর থেকে নব নির্মিত কারাগারের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নেয় কারা কর্তৃপক্ষ। কারারক্ষীসহ কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন কারাগারে অফিস করা শুরু করেন। বর্তমানে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দীর সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৩০০ জন। এর মধ্যে কয়েদি (সাজাপ্রাপ্ত) ৫০০ এবং হাজতি হলেন ১ হাজার ৮০০ জন।

বন্দী স্থানান্তর কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে ইতোমধ্যে শহরতলীর বাদাঘাটে নতুন এবং নগরীর ও ধুপাদীঘিপারে পুরাতন কারাগারে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়। সকাল থেকে পুরাতন কারাগার থেকে নতুন কারাগার পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এরপর ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ র‍্যাবের চৌকস দলের নেতৃত্ব বন্দীদের নিয়ে আসা হচ্ছে।

সিলেট নগরী থেকে ২৩০ বছর পর বাদাঘাটে স্থানান্তরিত হচ্ছে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার। এর আগে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ঐকান্তিক চেষ্টায় মূলত কারাগার স্থানান্তরের উদ্যোগ নেয়া হয়।

কারাগারটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৫ সালের জুন মাসে। নির্দিষ্ট মেয়াদে কাজ শেষ করতে না পারায় তিন দফা মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। সবশেষ ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টেলিকনফারেন্স এর মাধ্যমে নব নির্মিত সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার উদ্বোধন করেন।

নগরীর ধোপাদিঘীরপাড় এলাকায় এতদিন ছিল সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার। নতুন কারাগার নির্মাণের পর এই কারাগারটি এখন করা হয়েছে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-২। ১৭৮৯ সালে এলাকায় আসামের তৎকালীন কালেক্টর জন উইলিয়াম প্রায় ১ লাখ ভারতীয় রুপি ব্যয়ে ২৪.৬৭ একর জমির ওপর ‘সিলেট কারাগার’ নামে এটি নির্মাণ করেন।

তৎকালীন আসাম রাজ্যের একমাত্র টিবি হাসপাতাল ছিল এ কারাগারেই। ১৯৯৭ সালে এ কারাগারকে কেন্দ্রীয় কারাগারে উন্নীত করা হয়। কারাগারের ধারণক্ষমতা ১২১০ জন হলে এখানে দ্বিগুণেরও বেশি বন্দি আছেন। এছাড়া ২০০ বছরের পুরনো হওয়ায় কারাগারটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। এসব বিবেচনায় শহরতলির বাদাঘাটে নতুন কারাগার নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। ২০১০ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে (একনেক) সিলেট কারাগার স্থানান্তর প্রকল্প পাস হয়। পরে প্রকল্পের লে-আউট প্ল্যান প্রণয়ন করে সিলেট গণপূর্ত বিভাগ। তাদের অধীনেই নতুন কারাগার নির্মাণ করা হয়।

gb
মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More