পিছিয়ে পড়া খাতগুলোকে এগিয়ে নিতে পরিকল্পনা : প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য

85

এম.জামান কাকা, যশোর ||

আওয়ামী লীগের ইশতেহারের মূল প্রতিপাদ্য গ্রাম হবে শহর। গ্রামের মানুষ পাবে শহরের সুযোগ সুবিধা। শহরের আদলে গ্রামে উন্নত সেবা নিশ্চিতে কাজ করবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়। এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়াকে সৌভাগ্য বলে মন্তব্য করেছেন নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য। সোমবার এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মন্ত্রীত্বের স্বাদ পাওয়ার অনুভূতি, দেশের সার্বিক উন্নয়নে অর্পিত দায়িত্ব পালন ও যশোরের পিছিয়ে পড়া খাতগুলোকে এগিয়ে নিতে নানা পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
স্বপন ভট্টাচায্য বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গ্রামের মানুষ শহরের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিতের যে অঙ্গীকার করেছেন। সেই চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়নে অধিকাংশ কাজ করবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার উপর আস্থা রেখেছেন, এটা আমার সৌভাগ্য। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আস্থার প্রতিফলন ঘটাতে চাই। তিনি বলেন, গ্রামের মানুষকে শহরের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিতে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কাজ করব। গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন তরান্বিত করা হবে। মান সম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে চাই। গ্রামের মানুষের সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
স্বপন ভট্টাচার্য্য বলেন, আমি শুধু যশোরের প্রতিমন্ত্রী নই, সারাদেশের মানুষের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে অর্পিত দায়িত্ব পালন করবো। তবে যশোরের মানুষ হিসেবে, এই অ লের পিছিয়ে পড়া খাতগুলোকে এগিয়ে নিতে অগ্রাধিকার দিবো। এক্ষেত্রে স্থানীয় সংসদ সদস্য, যশোরের সচেতন মহল ও সাংবাদিকদের সঙ্গেও আলোচনা করবো। সবার মতামতের ভিত্তিতে পিছিয়ে পড়া খাতকে এগিয়ে নিতে উন্নয়ন করা হবে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় আপনার অনুভূতি কি জানতে চাইলে স্বপন ভট্টাচার্য্য বলেন, প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় আমি খুব খুশি। আমার যশোরবাসীও খুশি হয়েছে। প্রত্যেক রাজনীতিবিদ মূল্যায়ন চাই। আমারও প্রত্যাশা ছিল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মূল্যায়ন করেছেন। এজন্য তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। একই সঙ্গে আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করবো। সারাদেশের মানুষের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি। কাজের মাধ্যমে যোগ্যতার সাক্ষর রাখতে চাই। এজন্য যশোরবাসীসহ সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি।
স্বপন ভট্টাচার্য্য : ১৯৫২ সালের ২৭ফেব্রুয়ারি উপজেলার পাড়ালা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত ব্রাহ্মণ পরিবারের জন্ম গ্রহন করেন। বাবা মৃত সুধীর ভট্টাচার্য্য ও মা মৃত ঊষা রানী ভট্টাচার্য্যের চার ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে ছেলে তিনি। স্বপন ভট্টাচার্য্য ছাত্রজীবনে ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও পরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত হন। তার বড় ভাই পীযুষকান্তি ভট্টাচার্য্য আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য।
২০০৯ সালে মণিরামপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন স্বপন ভট্টাচার্য্য। উপজেলাবাসীর কাছে নিজেকে একজন পরিচ্ছন্ন ও সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হন। রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি স্বরূপ শ্রেষ্ঠ উপজেলা উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী খান টিপু সুলতানকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন স্বপন ভট্টাচার্য্য। দীর্ঘ ৩১ বছর পর মণিরামপুর থেকে স্বপন ভট্টাচার্য্য এলজিআরডি (স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়) মন্ত্রালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেলেন।

মন্তব্য
Loading...