পাইকগাছা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে পত্রিকা কর্ণার

97
gb

মোঃ আব্দুল আজিজ, পাইকগাছা, খুলনা  ||
পাইকগাছা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিলিজিয়াসমিন বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়নে বিভিন্ন নান্দনিক ও সৃজনশীল উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি বিদ্যালয়ের সামনে একটি পত্রিকা কর্ণার করেছেন। যা শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি কেড়েছে। সময় পেলেই অভিভাবক থেকে শুরু করে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা চলে আসে পত্রিকা কর্ণারে। এর মাধ্যমে লেখাপড়ার পাশাপাশি দেশ-বিদেশের খবরাখবর জানাসহ বিভিন্ন ধরণের জ্ঞান লাভ করছেন স্কুল শিক্ষার্থীরা। এমন নান্দনিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে সবাই। উলে­খ্য, উপজেলা সদরের প্রাণ কেন্দ্রেই সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশেই রয়েছে মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি ১৯৪৬ সালে স্থাপিত হয়। বিদ্যালয়ের লেখাপড়ার সুনাম দীর্ঘদিনের হলেও শিক্ষার্থীদের পাঠ্যপুস্তকের বাইরে অন্যান্য শিক্ষা কিংবা জ্ঞান লাভের জন্য তেমন কোন ব্যবস্থা ছিল না। ২০১৮ সালের ২২ মার্চ প্রধান শিক্ষক হিসাবে অত্র বিদ্যালয়ে যোগদান করেন মিলিজিয়াসমিন। এরআগে তিনি গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসাবে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেন। অত্র বিদ্যালয়ে যোগদানের পর তিনি খেলাধুলা ও লেখাপড়ার মান উন্নয়নে বিভিন্ন ধরণের উদ্যোগ নেন। এর ফলে ২০১৮ সালের মহান বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রথম স্থান অধিকার করে। এছাড়াও সদ্য সমাপ্ত বিজয় ফুল প্রতিযোগিতায় জেলা পর্যায়ে অত্র বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী চিত্রাংকনে দ্বিতীয় ও জাতীয় সংগীত প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান অধিকার করে। এছাড়াও তিনি অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বাড়তি জ্ঞান লাভ ও বিনোদনের জন্য সৃজনশীল বিকাশের উন্মেষ হিসাবে ২টি দেয়ালিখা প্রকাশ ও বিদ্যালয়ের সামনে একটি পত্রিকা কর্ণার করেছেন। কর্ণারে প্রতিদিন সকালে দুটি পত্রিকা এপিঠ-ওপিঠ করে লাগিয়ে রাখেন। এরপর শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা সময় পেলেই পত্রিকা পড়ার জন্য পত্রিকা কর্ণারে ছুটে যান। শিক্ষার্থীরা টিফিনের বেশিরভাগ সময় পত্রিকা কর্ণারে কাঁটায়। আর অভিভাবকরা ছেলে-মেয়েদের স্কুলে দেওয়ারপর পত্রিকা কর্ণারে সময় কাঁটান। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাম্য সরকার জানায়, টিফিনের খাওয়া শেষে হাতে অনেক সময় থাকে। এ সময় পত্রিকা কর্ণারে গিয়ে পত্রিকা পড়ার মাধ্যমে খেলাধুলা সহ অন্যান্য খবর জানতে পারি। অভিভাবক শ্রাবনী ইয়াসমিন জানান, বাচ্চারা স্কুলে প্রবেশ করার পর সচারাচার আমরা যারা মায়েরা আমাদেরকে বিদ্যালয়ের আশেপাশে অলস সময় কাঁটাতে হয়। পত্রিকা কর্ণারটি করার পর পত্রিকা পড়ার মাধ্যমে একদিকে সময়ও চলে যায়, অপরদিকে এর মাধ্যমে পুষ্টিগুনাগুন ও চিত্র বিনোদন সহ নানা খবর জানতে পারি। দীনবন্ধু রায় জানান, এটি একটি ব্যাতিক্রমী উদ্যোগ সচারাচার কোন প্রাথমিক পর্যায়ের স্কুলে পত্রিকা কর্ণার দেখা যায় না। সেই দিক থেকে অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে প্রশংসা করতে হয়। তিনি নিঃসন্দ্যেহে ভালো একটি উদ্যোগ নিয়েছেন। শিক্ষক এসএম আমিনুর রহমান লিটু জানান, বর্তমান প্রধান শিক্ষক স্কুলে যোগদানের পর হতে লেখাপড়া ও খেলাধুলার মান উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। পত্রিকা কর্ণারটি যার মধ্যে অন্যতম। এটি বিদ্যালয়ের সকলের দৃষ্টি কেড়েছে। প্রধান শিক্ষক মিলিজিয়াসমিন জানান, পাঠ্যপুস্তকের বাইরেও শিক্ষার্থীদের অনেক কিছু শেখার রয়েছে। বিশেষ করে অনেক শিক্ষার্থীরা ক্লাস শুরু হওয়ার আগে স্কুলে চলে আসে। আবার টিফিনের সময় অলস সময় কাঁটায়। এ সময় যদি তাদেরকে পত্রিকা পড়ার অভ্যস্ত করা যায় তাহলে এর মাধ্যমে তারা অনেক কিছু শেখার সুযোগ পাবে। এই ভেবে গত আগস্ট মাস থেকে বিদ্যালয়ের সামনেই একটি পত্রিকা কর্ণার করি। যেখানে প্রতিদিন সকালে দুটি পত্রিকা লাগিয়ে রাখা হয়। এরপর যে যখন সময় পায় পত্রিকা পড়ার জন্য সেখানে চলে যায়। বর্তমানে পত্রিকা কর্ণারটি শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এর মাধ্যমে খেলাধুলা, চিত্র বিনোদন সহ স্থানীয় ও দেশ বিদেশের খবরাখবর জানতে পারছেন সবাই। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা পত্রিকা পড়ার মাধ্যমে বাড়তি জ্ঞান লাভ করছে। এ ধরণের সৃজনশীল উদ্যোগ প্রতিটি বিদ্যালয়ে গ্রহণ করা হোক এমন প্রত্যাশা করেছেন সচেতন এলাকাবাসী।

gb
মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More