প্রধানমন্ত্রী পদে হ্যাট্রিক করতে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা

107
# সৈয়দ নাজমুল হাসান, ঢাকা।।

কয়েকটি জেলায় সংঘাত আর ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীদের এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগের মধ্যে রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত দেশের ২৯৯ আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়।

নির্বাচন কমিশন রাত সাড়ে ২টা পর্যন্ত যে ২৭১ আসনের ফল ঘোষণা করেছে, তাতে আওয়ামী লীগ ২৪৩ টি, তাদের জোট শরিক জাতীয় পার্টি ২০ টি আসনে জয় পেয়েছে।

এ পর্যন্ত ফলাফলে ঐক্যফ্রন্টের সবচেয়ে বড় শরিক বিএনপির প্রার্থীরা জয়ের মুখ দেখেছেন কেবল ৭টি আসনে, বাকি দুটি আসনে জিতেছেন অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

বাকি আসনগুলোর আংশিক যে ফলাফল সংবাদ মাধ্যমে আসছে, তাতে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট বিপুল বিজয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আর সেক্ষেত্রে টানা তৃতীয়বারের মত বাংলাদেশের শাসন দণ্ড থাকছে শেখ হাসিনার হাতে, যিনি গোপালগঞ্জে নিজের আসনে বরাবরের মতই বড় জয় পেয়েছেন।

দুই বছর জরুরি অবস্থা শেষে ২০০৮ সালে অষ্টম সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশ গণতন্ত্রে ফেরে, তাতে ২৩০ আসনে জিতে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে সরকারে থাকা বিএনপি ওই নির্বাচনে পায় বিএনপি ২৯টি আসন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করার প্রতিবাদে বিএনপি ও তাদের শরিকরা ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করে। ওই নির্বাচনে ১৫৩ আসনে একক প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পায়, ২৩৪ আসন নিয়ে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। ৩৪ আসন নিয়ে তাদের জোট শরিক জাতীয় পার্টি বসে সংসদের প্রধান বিরোধী দলের আসনে।

ভোটের রাজনীতিতে ভোটের মেরুকরণে এবার দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের নৌকা আর বিএনপির ধানের শীষের স্পষ্ট দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে।

ভোটের আগে আওয়ামী লীগ ও তাদের শরিকরা গত দশ বছরের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় আবারও তাদের বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়েছিলেন ভোটারদের উদ্দেশ্যে। অন্যদিকে বিএনপি ও শরিকরা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ‘গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধারের’ ডাক দিয়েছিল।

ভোটের পরিবেশ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং সংঘাতে প্রাণহানির বেশ কিছু ঘটনা এবার নির্বাচনী প্রচারে উত্তাপ ছড়ায়। একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে গাইবান্ধা-৩ আসনে পুনঃতফসিল হয়, রোববার ভোট হয় ২৯৯ আসনে।

এদিকে, আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এখন আনন্দ মিছিল করার সময় নয়, দেশ গঠনের সময়। কোনো জায়গায় কেউ আনন্দ মিছিল করবেন না। রোববার সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচ টি ইমাম প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে এই কথা বলেন।

মন্তব্য
Loading...