ওয়াশিংটনে ৪৭তম সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদযাপিত: বাংলাদেশের শক্তিশালী নিরাপত্তা সহযোগিতাযর  প্রশংশা যুক্তরাষ্ট্রের 

161
হাকিকুল ইসলাম খোকন , :  যথাযথ মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আমেরিকার ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসে ৪৭তম সশস্ত্র বাহিনী দিবস পালিত হয়েছে। ৪ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু অডিটরিয়ামে ৪৭তম সশস্ত্র বাহিনী দিবস পালিত হয়। ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল স্বাধীনতা সংগ্রামে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী যৌথভাবে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণ পরিচালনা করে। এ দিনটির স্মরণে প্রতিবছর বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী দিবস হিসেবে পালন করে থাকে।খবর বাপসনিঊজ ।এ উপলক্ষে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসে বঙ্গবন্ধু অডিটরিয়ামে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল গার্ড ব্যুরোর ভাইস চিফ লে. জেনারেল ড্যানিয়েল আর হকানসন।  অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন এবং প্রতিরক্ষা অ্যাটাচি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মইনুল হাসান, এসপিপি, এনডিসি পিএসসি অনুষ্ঠানে আসা আমন্ত্রিত অতিথিদের উদ্দেশে স্বাগত বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল গার্ড ব্যুরোর ভাইস চিফ লে. জেনারেল ড্যানিয়েল আর হকানসন বলেন, বিশ্বব্যাপী জাতিসংঘের শান্তিক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সাত হাজার সৈন্য এবং পুলিশ সদস্য রয়েছে যারা চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি নিরাপত্তা সহায়তাও প্রদান করছেন।
জেনারেল হকানসন বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উদার মানবিক প্রচেষ্টা ও এক মিলিয়ন শরণার্থী আশ্রয়ের জন্য বাংলাদেশকে উচ্চ প্রশংসা করার যোগ্যতা রয়েছে। ২০০৮ সালে শুরু হওয়া বাংলাদেশ ও আমেরিকার মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাংলাদেশের শক্তিশালী সহায়তা মার্কিন সাধারণ পরিষদের প্রশংসা কুড়ায়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ-আমেরিকা একসঙ্গে কাজ করছে, একে অপরের কাছ থেকে শিখছে এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে। যা আমাদের নিরাপত্তা সহযোগিতা সমঝোতা ও বন্ধুত্বকে আরও গভীতর করেছে। জেনারেল হকানসন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে শুধু বাংলাদেশের নয় বরং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা প্রদানে প্রতিরক্ষামূলক অবদানের প্রশংসা করেন।
রাষ্ট্রদূত জিয়াউদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ তার সশস্ত্র বাহিনীর উপর গর্বিত। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের বলিদান ও অবদান অমূল্য ছিল। পাশাপাশি, প্রাকৃতিক ও মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগের সময়ে, তারা তাদের মানব পরিসেবাগুলির জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীও অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত নিরাপত্তার সাথে জড়িত। সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে লড়াই, চোরাচালান এবং মানব ও মাদক পাচারের বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার করা।

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় রাষ্ট্রদূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সরকার সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকীকরণের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগকে সমর্থন করে। তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের প্রশিক্ষণের জন্য বিশ্বব্যাপী বিশিষ্ট ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা স্থাপন তার প্রযুক্তিগত সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রশংসা করেন।
তিনি বাংলাদেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য স্বয়ংক্রিয় সনাক্তকরণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উল্লেখ করেন। মার্কিন নৌবাহিনী স্টাফ টক আগামী বছর অনুষ্ঠিত হবে বলেও তিনি তার বক্তব্যে বলেন।
দূতাবাসের প্রতিরক্ষা সংযুক্তি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মঈনুল হাসান স্বাগত বক্তব্য রাখেন। তিনি তার বক্তব্যে সশস্ত্র বাহিনী দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরেন। স্বাগত ও শুভেচ্ছা বক্তব্য শেষে ৪৭তম সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে কেক কাটা হয়। পরে অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের মধ্যে বাংলাদেশি রাতের খাবার পরিবেশন করা হয়।
মার্কিন জেনারেল অব আর্মি রিজার্ভের মেজর জেনারেল এ সি রপার ও তার স্ত্রী বিশেষ অতিথি হিসাবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, প্রতিরক্ষা অ্যাটাচি, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও পেন্টাগনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, মিডিয়া প্রতিনিধি, বিভিন্ন দূতাবাসের সামরিক অ্যাটাসে, কর্মকর্তা, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ অনেক অতিথি উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য
Loading...