Bangla Newspaper

মৌলভীবাজারে ‘সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক’ এর সেক্রেটারীর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও কুকের্মর অভিযোগ

57

মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি //

মৌলভীবাজারে সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক এর কর্মকান্ডে বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কেন্দ্র নির্ধারিত বিভিন্ন অনুষ্ঠান দায়সারা ভাবে আয়োজন করে অন্যায় অনিয়মের মাধ্যমে ভুয়া বিল করে টাকা পয়সা নিজেদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা করে নিচ্ছে সুজনের জেলা সেক্রেটারী কাম প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী জহর লাল দত্ত এবং দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ এর সিলেট অঞ্চলের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো: আব্দুল হালিম। এ নিয়ে কেন্দ্রেও অভিযোগ গেছে বলে বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে। এদিকে খবরে সুশীল সমাজ ও সুশীল মানুষের সংগঠন সুজনের স্থানীয় সেক্রেটারী কাম কর্মচারী ও আঞ্চলিক কর্মকতার এমন কুকর্মে অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন। অভিযোগে জানা যায়, গত ২রা নভেম্বর শুক্রবার মৌলভীবাজার সরকারী কলেজে শিক্ষার্থীদের নির্বাচনী ভাবনা নিয়ে নির্বাচনী অলিম্পিয়াড নামের একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করে মৌলভীবাজার সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক। সেখানে ৪শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহন করার কথা থাকলেও মাত্র ৭৯জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহন করেন। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এই ৭৯জন শিক্ষার্থীকে কোন প্রকার নাস্তা বা আপ্যায়ন করা হয়নি। কিন্তু ৭৯জনের বিপরীতে ২শতাধীক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে দেখিয়ে ২ শতাধিক ভুয়া স্বাক্ষর দিয়ে তাদের আপ্যায়ন বাবদ কয়েক হাজার টাকা ও আরো অন্যান্য খরচ বাবদ আরো কয়েক হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাছাড়া পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী কয়েকজন শিক্ষার্থী তখন প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ তুলেন। তারা দাবী করেন আয়োজকরা তাদের নিকটজনের মাঝে আগে প্রশ্নপত্র তুলে দিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরীক্ষার্থী তার খাতা ও বিজয়ীদের খাতা চ্যালেঞ্জ করলে আয়োজকরা শুধু অভিযোগকারীর খাতা পুনরায় দেখেন। এতে তার আরো কিছু মার্ক যোগ হয়। অথচ যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাদের খাতা দেখা হয়নি। আর এই অনিয়মের মুলহোতা আয়োজক সুশীল নামধারী মৌলভীবাজার জেলা সুজনের সাধারণ সম্পাদক দাবীদার জহর লাল দত্ত এবং দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ এর সিলেটের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো: আব্দুল হালিম। এ নিয়ে কেন্দ্রেও অভিযোগ গেছে বলে বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে। এছাড়াও গত ২৪ নভেম্বর আগামী একাদশ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছতা বিষয়ে মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের নিয়ে মৌলভীবাজার জেলা সুজনের উদ্যোগে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে ১৩/১৪ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করলে তারা অর্থনৈতিক অনিয়মের কারণে কোন শীটে স্বাক্ষর করেননি। অনেকেই মনে করেন এখানেও হয়তো ভুয়া স্বাক্ষর করে আরো কয়েক হাজার টাকা হাতিয়ে নিতে পারেন। এদিকে অনেকেই অভিযোগ করেন আগামী একাদশ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছতা বিষয়ে হলফনামা প্রচার ও মুখোমুখি অনুষ্ঠানের নামে দায়সারা অনুষ্ঠান ও ভুয়া বিল ভাউচার দিয়ে বড় অংকের টাকা হাতিয়ে নিবেন বলে আশংকা করছেন। এদিকে শহরের কয়েকজন বিশিষ্টজন জানান,সুশীল সমাজ ও সুশীল মানুষের সংগঠন সুজন। এখানে সমাজের ভাল মানুষ ও গ্রহণযোগ্য মানুষজনই থাকেন। সেখানে যদি একজন একই প্রতিষ্ঠানের বেতনভুক্ত কর্মচারী (ফিল্ড কো- অডিনেট) জেলা সুজনের জেলা সেক্রেটারী হন, তখন তার কাছে আর কি আশা করতে পারেন। তারা এমন কুকর্মে অনেকেই বিস্মিত এবং দোষি ব্যক্তিদের তদন্ত পূর্বক জরুরী ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহবান জানান অনেকেই। এ ব্যাপারে সুজনের জেলা কমিটির সম্পাদক জহর লাল দত্তের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি অভিযোগের বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত নই। আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানি না। আমি শুধু মাত্র প্রোগ্রামের ব্যানার বানিয়েছি ও ভাউচার দিয়েছি। আমার কাছে কোন টাকা পয়সা ছিলনা আমি কোন খরচও করিনাই। সকল প্রকার খরচ করেছেন দি হাঙ্গার প্রজেক্টের আব্দুল হালিম সাহেব। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীর উপস্থিতের সংখ্যা কত জানতে চাইলে তিনি বলেন প্রোগামের রেজিস্ট্রেশান করেছেন ২৯০ জন এবং উপস্থিত ছিল প্রায় ১০০ জনের মত। তিনি আরোও বলেন আমাদেরকে কোন প্রকার টাকা পয়সা দেওয়া হয় না কেন্দ্র থেকে লোক এসে তাদের নিজ হাতে খরচ করেন। আমি শুধু প্রোগ্রামের যাবতীয় ব্যবস্থা করি। এ ব্যাপারে দি হাঙ্গার প্রজেক্টের আব্দুল হালিমের সাথে মুঠোফোন ২/৩ বার যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

Comments
Loading...