হবিগঞ্জ-১ নবীগঞ্জ-বাহুবল আসনে আ’লীগে বিএনপি জাপা,ঐক্যফন্ট এর প্রার্থীর চলছে মনোনয়ন দৌড়ঝাপ,ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ড.রেজা কিবরিয়া নিশ্চিত হলেও মহাজোটে কে?

203
gb

 উত্তম কুমার পাল হিমেল,নবীগঞ্জ(হবিগঞ্জ)প্রতিনিধিঃ আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামীলীগ-বিএনপি-জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য দলের প্রাথীরা মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন। কে পাবেন দলীয় মনোনয়ন এ নিয়ে জোর লবিংয়ে ঢাকায় অবস্থানে আছেন সকল প্রার্থীরাই। হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে ভোটার সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৯ শত ৪৫ জন। নির্বাচনকে ঘিরে সুশীল সমাজ ও নির্বাচন বিশ্লেষকরা ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে নানা হিসাব-নিকাশ। কর্ম- কৌশলে ব্যস্ত রয়েছেন শক্তিশালী দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। প্রবাসী অধ্যুষিত অঞ্চল হিসেবে খ্যাত ওই এলাকার বিশাল জনগোষ্ঠী যুক্তরাজ্যে ও যুক্তরাষ্টে অবস্থান করেন। এ আসন থেকে নির্বাচন করতে ইতিমধ্যে বিভিন্ন দলের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীরা। এ আসনের বর্তমান এমপি জাতীয় পাটির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আব্দুল মুনিম চৌধুরী বাবু। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন ছাড়তে নারাজ জাতীয় পার্টি। কারন তারা মনে করছেন জোটগত নির্বাচন হলে পাল্টে যাবে অনেক হিসাব-নিকাশ। এই আশায় জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা আশায় বুক বেধে রয়েছেন। এদিকে টানা ৩ বারের মত এ আসনে আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থী আলহাজ্ব ফরিদ গাজীর মৃত্যুর পর উপ নির্বাচনে দলীয় কোন্দলের কারনে বিএনপির কাছে হাত ছাড়া হয়ে যায় এ আসনটি। তাই আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়মীরীগের নেতাকর্মীরা হারানো আসনটি পুনরুদ্ধার করতে মরিয়া হয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। আগামী ৩০শে ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন এ আসনের টানা ৩ বারের মত নির্বাচিত আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থী আলহাজ্ব ফরিদ গাজীর জৈষ্ট্যপুত্র হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ নেতা শাহনেওয়াজ মিলাদ গাজী, হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ডাঃ মুশফিক হুসেন চৌধুরী, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী, হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট আলমগীর চৌধুরী, হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও নবীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ইমদাদুর রহমান মুকুল, হবিগঞ্জ জেলা তাঁতীলীগের সভাপতি মুদ্দত আলী, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য আব্দুল মুকিত চৌধুরী, আওয়ামীলীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ডাঃ নাজরা চৌধুরী । বিগত নির্বাচনে মহাজোটে অন্যতম শরিকদল জাতীয় পার্টির মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য হবিগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আতিকুর রহমান আতিক, বর্তমান সংসদ সদস্য মোঃ আব্দুল মুনিম চৌধুরী বাবু। বিএনপি’র মনোনয়ন সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন এ আসনের সাবেক এমপি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ইংল্যান্ড প্রবাসী আলহাজ্ব শেখ সুজাত মিয়া, যুক্তরাষ্ট্র শিকাগো বিএনপির সভাপতি শাহ মোজাম্মেল নান্টুর অবর্তমানে তার প্রতিনিধি তার পক্ষে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে জমা করেছেন, হবিগঞ্জ-১ নবীগঞ্জ-বাহুবল আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন হবিগঞ্জ জেলা বিএনপি নেত্রী এডভোকেট রুখসানা জামান চৌধুরী। তিনি গতকাল বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ দপ্তর সম্পাদক সাইফুল ইসলাম টিপু ও বেলাল আহমেদের নিকট তার মনোনয়ন ফরম জমা দেন। এডভোকেট রুখসানা জামান চৌধুরী হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এডভোকেট খালেকুজ্জামান চৌধুরীর স্ত্রী। এই সুবাধে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বিএনপির প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী এম এ মহিউদ্দিন। এছাড়া জাতীয় ঐক্যফন্ট থেকে হবিগঞ্জ ১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনের জন্য মনোনয়ন কিনেছেন প্রয়াত সফল অর্থমন্ত্রী আওয়ামীলীগ নেতা শাহ এ এম এস কিরবিয়ার পুত্র ড. রেজা কিবরিয়া। সবশেষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নবীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি ও সহকারী রির্টানিং অফিসার মোঃ আতাউল গনি ওসমানীর কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন অধ্যাপক আব্দুল হান্নান। জোটগত নির্বাচনের বাতাশ যখন বইছে রাজনৈতিক অঙ্গনে তখন নবীগঞ্জ-বাহুবল উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যক্রমসহ বিভিন্ন উন্নয়ণ মূলক কর্মকান্ডের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি আসনটি পুনরায় উদ্ধারে আওয়ামীলীগের প্রার্থী দেওয়ার দাবী তুলেছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। তবে হেবিওয়েট প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী শিল্পপতি আতিকুর রহমান আতিককে জোটগত নির্বাচনের ফলে এ আসন ছেড়ে দিতে পারে আওয়ামীলীগ এমন ধারণা জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের। অন্যদিকে বিএনপি নাকি ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী থাকছে এ আসনে এ বিষয়ে এখনো চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি এখনও । তবে বিগত ১৯৯১ সালের পর থেকে বিএনপিকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে কাজ করে গেছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য আলহাজ্ব শেখ সুজাত মিয়া। আওয়ামীলীগের দলীয় কোন্দল থাকার কারনে এর সুফল হিসেবে ২০১১ সালের উপনির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপির দলীয় সুযোগ কাজে লাগান তিনি। সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এমএএস কিবরিয়ার পুত্র ড. রেজা কিবরিয়া ঐক্যফ্রন্ট এ যোগ দিয়ে এ আসনে আলোড়ন সৃণ্টি করেছেন । তিনি এ আসনে বিএনপির সাথে জোট থেকে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত হলে কপাল পুড়বে এ আসনে বিএনপির একমাত্র কান্ডারী সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়া। এ আসনে আওয়ামীলীগের হেভিওয়েট প্রার্থী ছাড়া এ আসনটি পুনরুদ্ধার করা যাবে না বলে মন্তব্য করছেন সাধারন ভোটাররা। এ আসনে বিএনপি ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী য. রেজা কিবরিয়া ড্রায় নিশ্চিত হলেও আওয়ামীলীগ সহ মহাজোটের প্রার্থী কে হচ্ছেন কে এ নিয়ে সাধারন মাসুষের মাঝে নানান প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এছাড়া ২৩ দলীয় জোট থেকে প্রার্থী হতে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম দলের মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মুফতি সিদ্দিকুর রহমান। তবে হবিগঞ্জের গুরুত্বপুর্ন নবীগঞ্জ-বাহুবল এ আসনে ১৯৭০ সালে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবদুল আজিজ চৌধুরী, ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে এ আসন থেকে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবদুল মান্নান চৌধুরী ছানু মিয়া, ১৯৭৯ সালে নির্বাচিত হন জাসদ প্রার্থী মাহবুবুর রব সাদী, ১৯৮৬ সালে পুনরায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী ইসমত আহমদ চৌধুরী, ১৯৮৮ সালে জাসদের এডভোকেট আবদুল মোছাব্বির চৌধুরী, ১৯৯১ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী খলিলুর রহমান চৌধুরী রফি, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রæয়ারির বির্তকিত নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালে টানা ৩ বার জয়ী হন মরহুম আলহাজ্ব দেওয়ান ফরিদ গাজী। ২০১০ সালের ১৯ নভেম্বর বার্ধক্য জনিত কারনে আলহাজ্ব দেওয়ান ফরিদ গাজী মৃত্যুবরণ করলে ২০১১ সালের ২৭ জানুয়ারী ঐ আসনে উপ-নির্বাচনে আওয়ামীলীগের দূর্গে প্রথম হানা দিয়ে আওয়ামীলীগের দলীয় হেভিওয়েট প্রার্থী জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ডাঃ মুশফিক হোসেন চৌধুরীকে মাত্র ১ হাজার ২ শত ৮৫ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে বিএনপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আলহাজ¦ শেখ সুজাত মিয়া সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। উপ-নির্বাচনে বিএনপির এই আসনের বিজয় নিয়ে তখন সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ সরকারের অধীনে উপ-নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ও বিএম এর সভাপতি ডাঃ মুশফিক হোসেন চৌধুরী দলীয় কোন্দল ও নেতাকর্মীদের নেতিবাচক ভুমিকার কারনে সামান্য ভোটে পরাজিত হন। বিগত ৪ টি সংসদ নির্বাচনে ধারাবাহিকভাবে আওয়ামীলীগ প্রার্থী বিজয়ী হলেও উপ-নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থী ডাঃ মুশফিক হোসেন চৌধুরী পরাজিত হওয়ায় কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা হতবাক হন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে মহাজোট গঠন হলে এ আসনটি জাতীয় পাটিকে ছেড়ে দেয়া হয়। এর পর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী জাতীয় দশম সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদন্ধীতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জাতীয় পাটির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম এ মুনিম চৌধুরী বাবু। এ আসনে মোট ভোটার ৩ লক্ষ ৬৪ হাজার ৯ শত ৪৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লক্ষ ৮০ হাজার ৮শত ২৬ জন,মহিলা ১ লক্ষ ৮৪ হাজার ১ শত ১৯ জন। রাজনৈকি বিশ্লেষকরা নির্বাচন যদি জোটগতভাবে হয় তাহলে আওয়ামীলীগ শরিক দল জাতাীয় পার্টির জন্য এ আসন ছাড় দিতে পারে বলেও মনে করছেন । তবে আওয়ামীলীগের অনুসারীরা মনে করেন আওয়ামীলীগের দুর্গ বলে খ্যাত এ আসনে দলীয় একজন হেভিওয়েট প্রার্থী দিলে আসনটি পুনরায় উদ্ধার করা সম্ভব হবে । তবে রাজনৈতিক হিসাব নিকাশে নির্বাচনের ধরন বুঝে এবার ভোট প্রয়োগ করবেন বলে জানিয়েছেন নতুন প্রজন্মের ভোটাররা।