চাঁপাইনবাবগঞ্জ শিশুদের মেয়াদোত্তীর্ণ আ্যান্টিবায়োটিক দেবার প্রতিবাদে নাচোলে ক্ষুদ্ধ এলাকাবাসীর তালা দেয়া কমিউনিটি ক্লিনিকটি খোলা হয়েছে

208
gb

 জাকির হোসেন পিংকু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের পাহাড়পুর কমিউনিটি ক্লিনিকে শিশুদের মেয়াদোত্তীর্ণ এ্যান্টিবায়োটিক দেবার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে কয়েকজন শিশু অসুস্থ হবার পর প্রতিবাদে ক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী গত ২২ অক্টোবর সোমবার ওই ক্লিনিকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এর জেরে বুধবার (২৪’অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে স্থানীয়ভাবে মিমিাংসার পর ক্লিনিকের তালা খুলে দেয়া হয়েছে। মীমাংসায় অভিযুক্ত ইউনিয়ন স্বাস্থ্য সহকারী মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করেন। এছাড়া ভবিষ্যতে এমনটি আর ঘটবে না বলেও কমিউনিটি ক্লিনিক সাপোর্ট গ্রæপ ও এলাকাবাসীকে মীমাংসায় আশ্বাস দেয়া হয়েছে। এর আগে ঘটনার দিন গত সোমবার এলাকাবাসী ওই ক্লিনিক থেকে ১ কার্টূন (১০টি শিশির ১টি প্যাকেট) মেয়াদোত্তীর্ণ ওষধ উদ্ধার করে। এলাকাবাসীর অভিযোগ,গত ১৮ই অক্টোবর বৃহস্পতিবার কমিউনিটি ক্লিনিকে ওই ঐলাকার আবু তাহের তাঁর শিশু ইয়াকুব আলীর (১) জন্য ও এর আগে কাইয়ুম আলী তাঁর শিশু কায়সার আহমেদের (৬মাস) জন্য ঠান্ডাজনিত ঔষধ আনতে গেলে ক্লিনিকের দায়িত্বে থাকা স্বাস্থ্য সহকারি সাহাবুউদ্দিন তাদের সরকারী ঔষধ উৎপাদন প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগস তৈরী মেয়াদোত্তীর্ণ ‘এমোক্সিসিলিন পেডিয়াট্রিক ড্রপ’ ধরিয়ে দেন। আবু তাহের তাঁর শিশু ইয়াকুব আলীকে সেই ঔষধ খাওয়ালে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। অপরদিকে একই ঔষধ নিয়ে আসা কাইয়ুম আলী ঔষধের মেয়াদোত্তীর্ণতা (তৈরী মে’১৬,মেয়াদ এপ্রিল’১৮) লক্ষ করে তাঁর শিশুকে ওই ঔষধ আর খাওয়াননি। এরপর গত সোমবার একই এলাকার বাইরুল ইসলাম তাঁর ছেলে আবু সালেহ’র জন্য ঔষধ আনলে স্বাস্থ্য সহকারি আগের মতই তাঁকেও ধরিয়ে দেন ওই একই ড্রপ। এতে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয় বলে জানান বাইরুল ইসলাম। এ ঘটনার পর এলাকাবাসী উত্তেজিত হয়ে ঐ ক্লিনিকে গিয়ে এক কার্টুন মেয়াদোত্তীর্ণ এমোক্সিসিলিন পেডিয়াট্রিক ড্রপ উদ্ধার করে ও ক্লিনিকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ,এই ক্লিনিকের দায়িত্বে থাকা স্বাস্থ্য সহকারি সাহাবুদ্দিন সরকারি ক্লিনিকের ঔষুধ তাঁর বাড়ি লাগোয়া নিজস্ব দোকানে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করেন। আর যখন যে ঔষধের মেয়াদ পার হয়ে যায়, তখন সেই মেয়াদোত্তীর্ন ঔষুধ ক্লিনিকে নিয়ে এসে জনগনকে প্রদান করেন। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগি অভিভাবকরা তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী করেন। এব্যাপারে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য সহকারী সাহাবুদ্দিন দুই কার্টূন মেয়াদোত্তীর্ণ এমোক্সিসিলিন পেডিয়াট্রিক ড্রপ স্টোর থেকে ওঠানোর পর ১ কার্টূন বিতরণের কথা স্বীকার করেছেন। বুধবার তিনি বলেন,ভুলবশত: ও অজান্তে এমনটি হয়েছে। তিনি বলেন,উর্ধতণ কর্তপক্ষকে ঘটনাটি জানানোর পর বুধবার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.কামাল হোসেন কমিউনিটি ক্লিনিকটি পরিদর্শন করেন। সিভিল সার্জন খোঁজ খবর শুরু করেন। স্বাস্থ্য সহকারী সাহাবুদ্দিন তাঁর বাড়ির দোকানে সরকারী ঔষধ বিক্রির বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। এ ব্যাপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন খাইরুল আতাতুর্ক জানান, এমনটি ঘটার কথা নয়। এরপরও পুরো ব্যাপারটি তদন্ত করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। ##