চুয়াডাঙ্গায় এমপি টগরের জনসভায় প্রধানমন্ত্রীকে তাচ্ছিল্য করে বক্তব্য রাখলেন জীবননগর উপজেলা আ’লীগের সভাপতি সাবেক জাসদ নেতা গোলাম মর্তুজা

241
gb

) শামসুজ্জোহা পলাশ, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : 

কক্সবাজারের পর এবার চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের এমপি টগরের জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করে, এবং তাচ্ছিল্য করে বক্তব্য রাখলেন জীবননগর উপজেলা আ’লীগের সভাপতি সাবেক জাসদ নেতা গোলাম মর্তুজা। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও ম্যাসেঞ্চারে এখন ভাইরাল। ওই ভিডিও থেকে জানা যায়, গত ৬ অক্টোবর বিকালে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গায় চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের এমপি আলী আজগার টগরের নির্বাচনী প্রচারনার জনসভায় এমপি টগরের উপস্থিতিতে মঞ্চে বিশেষ অতিথীর বক্তব্যে জীবননগর উপজেলা আ’লীগের সভাপতি সাবেক জাসদ নেতা গোলাম মর্তুজা বলছেন আমাদের দলে ইদানিং অনেকে উড়ে এসে জুড়ে বসে বলছেন আমি নমিনেশন পাবো, নমিনেশন কি শেখ হাসিনা দেবে ? নমিনেশন দেবো আমি জীবননগর উপজেলা আ’লীগের সভাপতি গোলাম মর্তুজা এবং দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সিরাজুল আলম ঝন্টু। আমাদের এই দু’জনের স্বাক্ষরে এ আসনের নমিনেশন দেয়া হবে, এবং নমিনেশন পাবে আলী আজগার টগর। গোলাম মর্তুজার এই বক্তব্যের সময় এমপি টগর সমর্থিত সবাই খুশী হয়ে তাকে বাহŸা প্রদান করছেন ভিডিওতে তা দেখা যায়। তার এই ঐদ্ধত্যপূর্ন ও দাম্ভিকতা পুর্ন বক্তব্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যানে তার বক্তব্যের ভিডিও দেখে চুয়াডাঙ্গা জেলার আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগসহ সর্বস্তরের মানুষ হতবাক। গোলাম মর্তুজার স্পর্ধা ও দুঃসাহষ দেখে মানুষ রাগে ও ক্ষোভে বিক্ষুব্ধ। অভিযোগ রয়েছে এমপি’র চাটুকারিতা করার সর্বোচ্চ সীমা লংঘন এবং সেটার নগ্ন বহিঃপ্রকাশের চরম নিদর্শন গোলাম মর্তুজার এই ঐদ্ধত্যপূর্ন বক্তব্য। সম্প্রতি কক্সবাজার-২ এর এমপি বহুল আলোচিত কুখ্যাত ইয়াবা স¤্রাট আ.রহমান বদির জনসভায় তার উপস্থিতিতে বদির সমর্থক এক আওয়ামীলীগ নেতা একই ভাবে ঐদ্ধত্য ও দাম্ভিকতা পুর্ন বক্তব্যে বলেন, বদির এই আসনে বদি ছাড়া আর যেই নির্বাচন করুক সে ফেল করবে, এমনকি শেখ হাসিনাও ফেল করবে। এ ঘটনার ফলশ্রæতিতে সেই নেতা বহিস্কার হন এবং এমপি বদিকেও শোকজ করে দলের হাইকমান্ড। উল্লেখ্য;১৯৯১ সালে জাসদ থেকে এসে আওয়ামীলীগার বনে যাওয়া গোলাম মর্তুজা চাটুকারিতা করে এমপি টগরের বিরোধী লোক থেকে খুব কাছের লোক হতে পেরেছেন সফল ভাবেই। সেই চাটুকারিতা করতে গিয়ে তিনি হিতাহিত জ্ঞান শূন্য হয়ে রাজনীতির শিষ্টাচারের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিশ্ব মানবতার মাতা দেশরতœ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের শেষ কথা জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কটাক্ষ করার যে দুঃসাহষ দেখালেন এর শেষ পরিনতি কি ? ন্যাক্কার জনক এ ঘটনায় জেলার হাজার হাজার আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীর দলীয় আবেগ-অনুভূতিতে আঘাত হানার চরমতম দুঃসাহস তিনি কোথায় পেলেন এর জবাব চান ঐ সকল নেতা-কর্মী। এব্যাপারে জীবননগর উপজেলা আ’লীগের সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম মোর্তুজা বলেন, আমি আসলে আমার বক্তব্যে তৃর্ণমূল নেতাকর্মীদের মুল্যায়নের কথা বলতে চেয়েছি। তৃর্ণমূল নেতাকর্মী যদি না থাকে নমিনেশন পেয়ে লাভ কি। আমার বক্তব্য আসলে আংশিক প্রচার করে একটি পক্ষ আমাকে হেয় করার চেষ্টায় মাঠে লেবেছে। এব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা জেলা আ’লীগের সেক্রেটারি আসজাদুল ইসলাম আজাদ বলেন, উনি যদি সত্যিই এধরনের কোনো বক্তব্য দিয়ে থাকেন তাহলে ঠিক বলেননি। নমিনেশন দেওয়ার ব্যাপারে দলের পার্লামেন্টারি বোর্ড আছে যে পার্লামেন্টারি বোর্ডের সভাপতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের দলের সভানেত্রী এবং সেখানে সদস্য সচিব হলেন আমাদের দলের সাধারণ স¤পাদক আর দলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বয়োজ্যেষ্ঠ নেতারা হলেন সেখানকার সদস্য। তারাই ঠিক করবেন কাকে নমিনেশন দেওয়া হবে। এব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা জেলা আ’লীগের সভাপতি চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের এমপি জাতীয় সংসদের হুইপ সোলাইমান হক জোয়ার্দ্দার সেলুন বলেন, এধরনের বক্তব্য দলীয় নেত্রীকে অবমাননার সামিল। ব্যাপারটি আমরা দলীয় হাই কমান্ডকে জানাবো। এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোহাইমেন হাসান জোয়ার্দার অনিক ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, নব্য আওয়ামীলীগার বাম নেতা মর্তুজার ক্ষমতা কি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চেয়েও বেশি ? এর জবাব তাকে দিতে হবে। যে লোক দলের সভানেত্রী (সভাপতি) জননেত্রী শেখ হাসিনাকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতে পারে তার আওয়ামীলীগে থাকার কোন অধিকার নেই। আমি অবিলম্বে তার বহিস্কার দাবী করছি। না হলে জেলা ছাত্রলীগ বৃহত্তর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে। জেলার সর্বস্তরের দলীয় নেতা-কর্মীর মনে এ বিষয়ে যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে সেটার চরম মুল্য গোলাম মর্তুজাকে দিতে হবে বলেও অনেকে মতামত ব্যক্ত করেছেন। # #