কেরানীগঞ্জে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

430
gb

জিবি নিউজ 24 ডেস্ক //

রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে তিন বাসের পাল্লাপাল্লিতে শহীদ রমিজ উদ্দিন কলেজের দুই শিক্ষার্থী মৃত্যুর ঘটনার পঞ্চম দিনে বৃষ্টি উপেক্ষা করে কেরানীগঞ্জে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন পালন করেছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় কদমতলী নুর ইসলাম কমান্ডার চত্বরে নিরাপদ সড়কের দাবিতে কেরানীগঞ্জের ক্যামব্রিয়ান স্কুল এন্ড কলেজ শাখা, শুভাড্যা উচ্চ বিদ্যালয়, জিনজিরা পি.এম পাইলট স্কুল এন্ড কলেজ, শহীদ জিয়া স্কুল, রাজধানীর কবি নজরুল সরকারী কলেজেসহ বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ছাত্রীরা এ বিক্ষোভ ও কর্মসূচি পালন করে।

বিমানবন্দর এলাকার দুর্ঘটনার চালকদের আটক করলেও সুস্থ বিচার কার্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে। সুস্থ বিচারকার্য প্রক্রিয়াধীন করতে কেরানীগঞ্জেও সোচ্চার ছাত্র সমাজ। সুস্থ বিচার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত কদমতলীর নুর ইসলাম কমান্ডার চত্বর। আমার ভাই কবরে-খুনি কেন বাহিরে, সুস্থ মৃত্যুর গেরান্টি চাই- নিরাপদে বাঁচতে চাই, ছাত্র সমাজ জেগেছে-রাজপথ কেঁপেছে এ রকম নানা ধরনের স্লোগান দিতে থাকে সাধারণ ছাত্ররা।

এ সময় ছাত্ররা চলাচলরত প্রতিটি গাড়ির লাইসেন্স চেক করে। লাইসেন্স না থাকার কারণে বেশ কিছু গাড়ি আটকিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। এ সময় এ পথ দিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রীর এপিএস-এর গাড়ি যাবার সময় ছাত্ররা তার গাড়ির চালকের লাইসেন্সও চেক করে। এবং তার লাইসেন্স না থাকার কারণে গাড়িটিও বেশ কিছু সময় আটকিয়ে রাখে। পরে মন্ত্রীর এপিএস গাড়ির লাইসেন্স সঙ্গে না রাখার কারণে প্রকাশ্যে সবার সামনে ক্ষমা চাইলে তার গাড়িটি ছেড়ে দেয় সাধারণ ছাত্ররা।

ছাত্রদের বিক্ষোভের কারণে বাবুবাজার থেকে মাওয়া এবং দোহার যাতায়াতের রাস্তাটি কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। আশেপাশের সাধারণ অনেককেই দেখা যায় সাধারণ ছাত্রদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করতে।

সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, সরকার এবং প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি লাইসেন্স ছাড়া কোনো গাড়ি যেন সড়কে চলতে না পারে। আমাদের আজকের বিক্ষোভ কর্মসূচি মূলত লাইসেন্সহীন গাড়ি চলাচল বন্ধ করার জন্য। আমরা প্রতিটা গাড়ি চেক করছি, যাদের লাইসেন্স আছে তাদের ছেড়ে দিচ্ছি আর যাদের লাইসেন্স নেই তাদের গাড়ির চাবি গুলো পুলিশদের কাছে বুঝিয়ে দিচ্ছি।

এ সময় আন্দোলনকারী ছাত্র-ছাত্রীরা যেন কোনো প্রকার অশৃঙ্খল ও ভাঙচুর না করে তার সতর্কতায় কদমতলী এলাকায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি, ট্রাফিক পুলিশ, র‌্যাব, গোয়েন্দা কয়েক প্লাটুন অতিরিক্ত পুলিশসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাকের মো. যুবায়ের কালের কণ্ঠকে জানান, শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেওয়ায় যান চলাচল কিছুটা বন্ধ রয়েছে। তারা লাইসেন্সবিহীন কোনো গাড়ি চলাচল করতে দিচ্ছে না। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আমাদের পুলিশ সতর্ক ভূমিকা পালন করছে।