মুক্তিযুদ্ধের জীবন্ত কিংবদন্তী বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম জন্মদিনে শুভেচ্ছা

gbn

- : এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া

আবদুল কাদের সিদ্দিকীর পৈতৃক বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতি উপজেলার ছাতিহাটি গ্রামে ১৯৪৭ সালের ২৭ অক্টোবর তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম আবদুল আলী সিদ্দিকী, মায়ের নাম লতিফা সিদ্দিকী এবং স্ত্রীর নাম নাসরীন সিদ্দিকী। তাদের এক ছেলে, এক মেয়ে।

১৯৭১ সালে শিক্ষার্থী ছিলেন। সামরিক প্রশিক্ষণও নিয়েছিলেন। স্কুলে পড়াকালে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেন। প্রশিক্ষণ শেষে সেনাবাহিনীতে কিছুদিন চাকরি করে ১৯৬৭ সালে চাকরি ছেড়ে দিয়ে আবার শিক্ষাজীবনে ফিরে যান। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ঝাঁপিয়ে পড়েন যুদ্ধে।

আবদুল কাদের সিদ্দিকী ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে টাঙ্গাইলে গঠিত বিশেষ সশস্ত্র বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হন। এ বাহিনীর নেতৃত্বে আবদুল লতিফ সিদ্দিকী ছাড়াও ছিলেন আনোয়ার উল আলম শহীদ, এনায়েত করিমসহ অনেকে। প্রাথমিক পর্যায়ে টাঙ্গাইলে তারা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধযুদ্ধ করেন। টাঙ্গাইলের প্রতিরোধযোদ্ধারা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে পুরো বাহিনী টাঙ্গাইলের প্রত্যন্ত এলাকা সখীপুরে চলে যান। সেখানে শুরু হয় এ বাহিনীর পুনর্গঠন-প্রক্রিয়া এবং রিক্রুট ও প্রশিক্ষণ। পরবর্তীকালে এ বাহিনীরই নাম হয় ‘কাদেরিয়া বাহিনী’। মুক্তিযুদ্ধকালে আবদুল কাদের সিদ্দিকী দক্ষতা এবং সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।

তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা টাঙ্গাইলে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি অসংখ্য যুদ্ধ ও অ্যাম্বুশ করেন। এর মধ্যে ধলাপাড়ার অ্যাম্বুশ অন্যতম। টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার অন্তর্গত ধলাপাড়ায় ১৬ আগস্ট আবদুল কাদের সিদ্দিকী ধলাপাড়ার কাছাকাছি একটি স্থানে ছিলেন। তিনি খবর পান, তাদের তিনটি উপদল পাকিস্তান সেনাবাহিনী ঘেরাও করেছে। তাদের সাহায্য করার জন্য তিনি সেখানে রওনা হন। আবদুল কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন ১০ জন।

এই ১০জন সহযোদ্ধা নিয়ে পাকিস্তানিরা যে পথ দিয়ে পিছু হটছিল, সে পথে অবস্থান নেন তিনি। পাকিস্তানি সেনারা সংখ্যায় ছিল অনেক বেশি। তবে বিচলিত না হয়ে নিজের দুর্ধর্ষ প্রকৃতির সহযোদ্ধাদের নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন। ১টা বেজে ২০ মিনিটে পাকিস্তানি সেনারা তাদের অ্যাম্বুশে প্রবেশ করে এবং চল্লিশ গজের মধ্যে আসামাত্র কাদের সিদ্দিকী এলএমজি দিয়ে প্রথম গুলি শুরু করেন। একই সময় তার সহযোদ্ধাদের অস্ত্রও গর্জে ওঠে। নিমেষে সামনের কয়েকজন পাকিস্তানি সেনা মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। বাকি সেনারা প্রতিরোধে না গিয়ে পালিয়ে যেতে থাকে। এ দৃশ্য দেখে কাদের সিদ্দিকী উত্তেজিত হয়ে উঠে দাঁড়িয়ে এলএমজি দিয়ে পলায়নরত পাকিস্তানি সেনাদের লক্ষ্য করে গুলি করতে থাকেন। তার সহযোদ্ধারাও উঠে দাঁড়িয়ে গুলি শুরু করেন।

এ সময় হঠাৎ পাকিস্তানি সেনাদের ছোড়া গুলি ছুটে আসে আবদুল কাদের সিদ্দিকীর দিকে। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন তিনি। তারপরও তিনি দমে যাননি। আহত অবস্থায় যুদ্ধ চালিয়ে যান। যুদ্ধ শেষে সহযোদ্ধারা তাকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। সেদিন তাদের হাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রায় ৪০ জন হতাহত হয়।

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব স্বপরিবারে নিহত হলে এর প্রতিবাদে কাদের সিদ্দিকী ভারত গমন করেন। ১৯৯০ সালে দেশে প্রত্যাবর্তনের পর তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। তবে, দীর্ঘ সময় তার প্রাণের দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের থাকতে পারলেন না। ১৯৯৯ সালে তিনি আওয়ামী লীগ ত্যাগ করেন এবং কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ নামক রাজনৈতিক দল গঠন করেন। তিনি এই দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম একটি সফল গণযুদ্ধ। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের এক অনন্য নাম কাদের সিদ্দিকী। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম যাকে বাদ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অসম্পূর্ণ। মুক্তিযুদ্ধে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে গেরিলাযুদ্ধ শুরু করেন এই অসম সাহসী বীর। তার নেতৃত্বে যে কাদেরিয়া বাহিনী গড়ে ওঠে তার নিয়মিত সদস্য সংখ্যা ছিল ১৮ হাজার। আর স্বেচ্ছাসেবক সদস্য ছিল প্রায় ৭২ হাজার। বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের সব সেক্টর কমান্ডারের সম্মিলিত সাফল্যের চেয়েও বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর একক সাফল্য অনেক বেশি। কাদেরিয়া বাহিনীর গেরিলারা মুক্তিযুদ্ধে এককভাবে যে সাফল্য দেখিয়েছেন এর তুলনাই নেই।

এ বাহিনীর হাতে সর্বাধিক সংখ্যক পাকিস্তানি সৈন্য যেমন হতাহত হয়েছে তেমন তাদের হাতে আত্মসমর্পণকারী হানাদার সৈন্যের সংখ্যা সর্বাধিক। ঢাকা জয়ের অভিযানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে কাদেরিয়া বাহিনী। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ছিলেন যার প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে। পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণও অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন হয় কাদেরিয়া বাহিনী প্রধান বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। মুক্তিযুদ্ধে কাদের সিদ্দিকীই একমাত্র বীর উত্তম উপাধির অধিকারী যিনি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য নন। মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী অস্ত্র সমর্পণ করেন। তার বাহিনীর জমা দেওয়া অস্ত্রের পরিমাণ ছিল এক লাখ চার হাজার।

মুক্তিযুদ্ধে বীর উত্তম কাদের সিদ্দিকীর অবদান অসামান্যই নয়, কিংবদন্তী সমতূল্য। মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তার আবেগ, অভিব্যক্তি নিয়ে প্রশ্ন করাও অবান্তর।

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তমের ৭৩তম জন্মবার্ষিকীতে জানাই গভীরতম শ্রদ্ধা।

gbn

মন্তব্যসমূহ (১৮৫)

  • 1xbet apk 138

    4 weeks ago

    Connexion personnelle 1xbet <a href=https://african-1xbet-apk.com/>1xbet apk</a>

  • undress ai

    3 weeks ago

    Need an AI generator? <a href=https://undress-ai.app/>ai nude images</a> The best nude generator with precision and control. Enter a description and get results. Create nude images in just a few clicks.

  • 1xbet apk 984

    3 weeks ago

    Application web 1xbet <a href=https://african-1xbet-apk.com/>telecharger 1xbet apk</a>

  • ForestClalf

    3 weeks ago

    Looking for a casino? <a href=https://banglasmsjokes.com/>8mbets bd</a> Slots, table games, and live casino all in one place. Quick login, convenient registration, modern providers, stable payouts, and comfortable player conditions.

  • Hermankem

    3 weeks ago

    Playing at the casino? <a href=https://bd8mbets.com/>8mbets casino</a> Play online for real money. We offer a wide selection of slots, live dealers, fast payments, easy login, and exciting offers for new and returning players.


ব্রেকিং নিউজ

লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন