২৪ ঘন্টা নজর রাখছে গাজীপুর ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র

327
gb

ফ্লোরিডায় স্পেসএক্সের লঞ্চিং স্টেশন থেকে উৎক্ষেপনের ৩৩ মিনিটের মধ্যেই এটি ইন্টারমিডিয়েট কক্ষপথ বা জিওস্টেশনারি ট্রান্সফার কক্ষপথে পৌঁছে যায় বঙ্গবন্ধু-১ । উৎক্ষেপণ যান থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রায় ৪০ মিনিট পর প্রথম সংকেত পৌঁছে গাজীপুর ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রে। গাজীপুর ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের উপর ২৪ ঘন্টা নজর রাখা হচ্ছে। বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত ৩২ জন প্রকৌশলী এই পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব পালন  করছেন। তারাই পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করবেন। সেই সাথে প্রস্তুত আছে রাঙামাটির বেতবুনিয়া উপগ্রহ কেন্দ্রটিও।

বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপনের সাফল্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে স্পেসএক্স। বঙ্গবন্ধু -১ স্যাটেলাইট মিশন সফল হওয়ায় রোমাঞ্চিত মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্সের কর্মকর্তারাও।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটকে নিয়ে উড়াল দেওয়া ফ্যালকন-৯ ব্লক ৫ রকেট উৎক্ষেপনের স্টেজ ছিল দু’টি। নির্দিষ্ট উচ্চতায় পৌঁছে রকেটের স্টেজ-১ খুলে যায়। কাজ শুরু করে স্টেজ-২। এরপর সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরে আসে স্টেজ-১ এবং নেমে আসে আটলান্টিকে ভাসমান ড্রোন শিপে। স্টেজ-২ পৌঁছে যায় জিওস্টেশনারি ট্রান্সফার অরবিটে। মহাশূন্যে ভাসতে থাকে বাংলাদেশের প্রথম যোগাযোগ স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১।

বাংলাদেশ ও আশপাশের এলাকায় সেবা দিতে পারবে এ স্যাটেলাইট। বাংলাদেশ ও বঙ্গোপসাগরের জলসীমা এর কিউ-ব্যান্ডের অধীনে থাকবে। এর সঙ্গে ভারত, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়ায় সেবা দিতে পারবে। এ ছাড়া ডিটিএইচ সেবা, ভিডিও ও ভিস্যাট সেবা দিতে পারবে  দেশজুড়ে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট সংযোগ দিতে সক্ষম হবে। কমপক্ষে ১৫ বছর এ মিশন অব্যাহত থাকবে।

এই স্যাটেলাইটের সক্ষমতা বিক্রি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় ও সাশ্রয় দু’টিই করা যাবে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ সেবার সমপ্রসারণ করা সম্ভব হবে। এবং দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলা ও ব্যবস্থাপনায় দারুণ কার্যকর ভূমিকা রাখবে এই স্যাটেলাইট। এ ছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজেও এ স্যাটেলাইটকে কাজে লাগানো সম্ভব।

এখন দেশে প্রায় ৩০টি স্যাটেলাইট চ্যানেল সমপ্রচারে আছে। এসব চ্যানেল সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে স্যাটেলাইট ভাড়া নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। এ জন্য প্রতি মাসে একটি চ্যানেলের ভাড়া বাবদ গুনতে হয় তিন থেকে ছয় হাজার মার্কিন ডলার। সব মিলিয়ে স্যাটেলাইটের ভাড়া বাবদ বছরে চ্যানেলগুলোর খরচ হয় ২০ লাখ ডলার বা প্রায় ১৭ কোটি টাকা। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট চালু হলে এ টাকা দেশেই থাকবে।

বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের ট্রানসপন্ডার অন্য দেশের কাছে ভাড়া দিয়েও বৈদেশিক মুদ্রা আয় করার সুযোগ থাকবে। এই স্যাটেলাইটের ৪০টি ট্রানসপন্ডারের মধ্যে ২০টি ভাড়া দেওয়ার জন্য রাখা হবে। ইতিমধ্যে ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনে এই স্যাটেলাইটের ট্রান্সপন্ডার বিক্রির জন্য সরকারের গঠন করা বঙ্গবন্ধু কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি (বিসিএসবি) লিমিটেড কাজ শুরু করেছে। যোগাযোগ হয়েছে আরো কয়েকটি দেশের সঙ্গেও। এছাড়া দেশের ৭৫০ ইউনিয়নে এখন ফাইবার অপটিক ইন্টারনেটের সংযোগ নেই। ইন্টারনেটবঞ্চিত এমন এলাকার মধ্যে রয়েছে পার্বত্য ও হাওর অঞ্চল। স্যাটেলাইটের মাধ্যমে এসব প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব। ঝড় বা বড় ধরনের দুর্যোগে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতেও কার্যকর হবে এ স্যাটেলাইট। বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগে মোবাইল নেটওয়ার্ক অনেক সময় অচল হয়ে পড়ে। তখন স্যাটেলাইটের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু রাখা সম্ভব হবে।

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন Accept আরও পড়ুন