জিরো থেকে হিরো মালি মুহিত

এক জায়গায় নিয়োগ অন্য স্থানে কর্মরত

361
gb

হোসাইন আহমদ, অতিথি প্রতিবেদক::
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বন বিভাগের বাগান মালি মোঃ মুহিত মিয়া সম্পূর্ণ অবৈধ ভাবে অর্থ উপার্জন করে ইতি মধ্যে নামে বেনামে লক্ষ লক্ষ টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। জিরো থেকে হিরো হয়েছেন। চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী হয়ে জেলা ব্যাপি বন কর্মকর্তার ধাপট দেখিয়ে সাধারণ কাঠ মহালদারদের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত আদায় করছেন বড় অংকের চাঁদা।
অভিযোগ উঠেছে দীর্ঘ দিন ধরে সামাজিক বনায়নের রোট প্ল্যান্টেশরে সরকারি গাছ চুরি, গাছ চুর চক্রদের সহযোগীতা, অবৈধভাবে সরকারি গাছ বিক্রি, অবৈধ ফার্ণিচার ব্যবসায়ী, স’মিলের মালিক ও বাঁশ পাচার কারীদের কাছ থেকে চাঁদা ও মাসোরা আদায় করে আসছেন। রাজনগর উপজেলা সামাজিক বনায়নের নার্সারী কেন্দ্রে নিয়োগ থাকলেও যোগদানের পর থেকে এ পর্যন্ত একদিনও সেখানে অবস্থান করেননি। তার নিকটস্থ কিছু উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহযোগীতায় মৌলভীবাজার সদর উপজেলা নার্সারী কেন্দ্রে বসবাস করছেন।
আরো অভিযোগ উঠেছে বাগান মালি হয়েও বিলাস বহুল জীবন যাপন করছেন। ওই সুযোগে বিয়েও করেছেন ৪টি। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় জায়গা কিনে একটি দুতলা বাড়িও বানিয়েছেন। জানা যায়, মুহিতের ও ছেলের পৃথক দু’টি মটরবাইক রয়েছে। বন বিভাগে তার বিরুদ্ধে একাধিকবার অভিযোগ দেয়া হলেও অদ্যবধি বহাল তবিয়তে আছেন। স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় তিনি অবৈধ ক্ষমতার দাপট দেখান।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আতানগিরি গ্রামের মুহিত বাগান মালি হিসেবে চাকুরিতে যোগদানের পর অনেকটা বেপরোয়া হয়ে উঠেন। অবৈধ কাজের কারণে বিগত সময়ে বিভাগীয় অনেক মামলা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে কর্র্তৃপক্ষ তাকে সাময়িক বরখাস্থ করে। তার পরেও কর্তৃপক্ষ তার লাগাম ধরে রাখতে পারছেনা। একটি বিশ্বস্থ সূত্র জানায়, মুহিতের ওই অবৈধ কাজে সহযোগীত করছেন উধ্বর্তন কিছু কর্মকর্তার মধ্যে বিশেষ একজন রেঞ্জ কর্মকর্তা। জানা যায়, সাবেক রেঞ্জ কর্মকর্তা ফিরোজ আলম মৌলভীবাজার রেঞ্জে কর্মরত থাকা অবস্থায় মুহিত অবৈধ গাছ পাচারের সাথে জড়িত, রাজনগর নার্সারী কেন্দ্রে দীর্ঘ দিন অনুপস্থিত এবং তার অবৈধ কাজে সহযোগীতাকারী সন্ত্রাসীদের নাম উল্লেখ করে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করে ছিলেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায় বিগত ৩ মাস পূর্বে সদর উপজেলার খুশালপুর গ্রামের মুইজ মিয়া উনার বাড়ির কিছু গাছ নিয়ে স’মিলে আসলে মুহিত মামলার ভয়ভীতি দেখিয়ে উনার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা আদায় করে।
জানা যায়, তার বিরুদ্ধে গত ১৮ মার্চ সদর উপজেলার আবদুল মজিদ নামের এক ফার্ণিচার ব্যবসায় পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়, প্রধান বন সংরক্ষণ, বন সংরক্ষন কেন্দ্রীয় অঞ্চল ও বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ে পৃথক পৃথক অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, “বাগান মালি মুহিত অলিখিত রেঞ্জ কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছে। নামে বেনামে কোটি টাকার সম্পদ বানিয়েছে। বাগান মালি হয়ে গাছে মার্কা দেয়া, রাস্তায় গাছ আটকিয়ে টাকা আদায় এবং স’মিলে দালাল সৃষ্টি করে গ্রামগঞ্জের সহজ সরল মানুষের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত বড় অংকের টাকা আদায়ের কথা তিনি উল্লেখ করেন।
সাবেক মৌলভীবাজার রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ ফিরোজ আলম মুহিত অবৈধ কাজে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, আমি থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে এমন দুইটি অভিযোগ ছিল যার প্রেক্ষিতে তার চাকুরি থাকার কথা ছিল না। বন বিভাগে যদি ১ হাজার কর্মচারী থাকে তাহলে খারাপের দিক দিয়ে সে ১ নম্বর হবে।
নাম গোপন রাখার শর্তে এক ব্যবসায়ী বলেন, “মুহিত জেনে শুনে আমাকে ভেজাল গাছ দিয়ে অনেক ক্ষতি করেছে”।
এবিষয়ে অভিযোগকারী ও আমতৈল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল মজিদ বলেন, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেয়ার পর সে আমাকে বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন করে আসছে। তার ভয়ে আমি এখন আত্মগোপনে আছি। অভিযোগের সুষ্ট তদন্তের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সহযোগীতা কামনা করেন।
পরিচয় গোপন রেখে ব্যক্তি গাছ বিক্রি করার বিষয়ে সহযোগীতা চাইলে বাগান মালি মুহিত বলে, “অসুবিধা নেই করে দিব। বিকাল ৫টা পরে আমার সাথে দেখা করবেন”।
এবিষয়ে বাগান মালি মুহিত অভিযোগ গুলো অস্বীকার করে বলেন, সরকারি গাছ চুরি ও মাসোরা চাঁদা আদায়ের সাথে আমার সম্পর্ক নেই। রাজনগরে নিয়োগ আর মৌলভীবাজার কেন্দ্রে অবস্থান এ বিষয়ে বলেন, রাজনগর মৌলভীবাজারের অধীনস্থ থাকায় আমি সদরে অবস্থান করছি।
ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা চস্পা লাল বৈদ্য মুহিতের রাজনগর উপজেলায় নিয়োগের কথা স্বীকার করে বলেন, “ও রাজনগর এবং মৌলভীবাজার উভয় স্থানে কাজ করে। তার অনিয়মের বিরুদ্ধে কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।