গাইবান্ধা আনসার-ভিডিপি অফিসে ঘুষ দিলেই প্রশিক্ষণ

337
gb

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা::

গাইবান্ধা জেলা কমান্ড্যান্ট মো:এফতেখারুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে।তার চাহিদা মতো টাকা না দিলে মেলেনা প্রশিক্ষনে যাবার সুযোগ ও চুক্তিভিত্তিক চাকরির সিসি।
নির্ভরশীল সুত্র জানায়,আনসার প্রশিক্ষনের জন্য ১লাখ ২০ হাজার টাকা থেকে একলাখ ৫০ পঞ্চাশ হাজার টাকা,ভিডিপি প্রশিক্ষনে দশ থেকে পনের হাজার,গ্রাম প্রশিক্ষনে দশহাজার এবং আনসার সদস্যদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিতে জনপ্রতি বিশ থেকে পচিঁশ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।তার কার্যালয়ে কর্মরত (রানার) আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্য মো. ফজলু ও তার ড্রাইভার হামিদকে নিয়ে তিনি এই ঘুষ বানিজ্যের স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যাটালিয়ন সদস্য ও ওই কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী বলেন, ২০১৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর এফতেখারুল ইসলাম গাইবান্ধা জেলা কমান্ড্যান্ট হিসেবে যোগদান করেন।যোগদান করার পর পরই তিনি উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন।তার চাহিদা মতো ঘুষ না দেওয়া পর্যন্ত কেউ প্রশিক্ষনে অংশ নিতে পারে না।কোন আনসার সদস্যের সিসি হয়না।ঘুষ না দিলে মাপযোগ,প্রশিক্ষনের সনদ,শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ সহ যাবতীয় কাগজপত্রাদী সঠিক থাকার পরেও নানা অযুহাতে বাতিল করা হয়।আর ঘুষ দিলে সব ঠিক হয়ে যায়।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের বগুলাগাড়ী গ্রামের মেনহাজ উদ্দিনের ছেলে আনসার সদস্য আবু তাহের বলেন,আমি ১৯৯৫ সালে আনসার প্রশিক্ষন দেই।এরপর ঢাকা,চট্রগ্রাম,খুলনা,রাজশাহী সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় আনসার সদস্য হিসেবে চাকরি করেছি।এই চাকরি একটানা তিনবছর করার পর ছয় বিনা বেতনে বসে থাকতে হয়।জানতে পারলাম গত বছরের ৪ জুলাই গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বাগদা ফার্মে ৫০ জন আনসার সদস্য চুক্তিভিত্তিক নেওয়া হবে।ওইদিন জেলা অফিসে লাইনে দাড়াই।বাচাই পর্ব শেষে ৫৪ জনকে সিলেক্ট করা হয়।এরমধ্য আমি ৫ নম্বরে ছিলাম।সেদিন প্রত্যেকের মোবাইল নম্বর নেওয়া হয়।পরে বলা হয় যখন লোক যাবে তার কয়েকদিন আগে ফোনে জানানো হবে।
তিনি অভিযোগ করেন,এরপর দুই মাস চলে যায়।কিন্তু ফোন আসেনা।খবর নিয়ে জানতে পারি সেদিন যারা আমার পিছনে ছিলেন তাদের মধ্য অনেকেই বিশহাজার টাকা করে দিয়ে সিসি নিয়েছে।তারপর কয়েকদফায় জেলা কমান্ড্যান্টের কাছে যাই।তিনি তার রানার ফজলুর সাথে যোগাযোগ করতে বলেন।পরে ফজলু আমার কাছে বিশহাজার টাকা দাবী করেন।আমি চড়া সুদে দশহাজার টাকা নিয়ে ফজলুকে দেই।কিন্তু ফজলু তার দাবীকৃত টাকা না পাওয়ায় আমাকে সিসি নিয়ে দেননি।চারমাস পর সে আমাকে টাকা দশহাজার ফেরত দেন। একই অভিযোগ করেন সাঘাটা উপজেলার জুমারবাড়ী ইউনিয়নের আমদিরপাড়া গ্রামের সোবহান মন্ডলের ছেলে আনসার সদস্য শাহআলম মন্ডল এবং সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নের ফুলবাড়ী গ্রামের মৃত কাইয়ুম উদ্দিনের ছেলে নান্নু খন্দকার।
গ্রাম ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) বাদিয়াখালী ইউনিয়ন দলনেতা মোশারফ হোসেন অভিযোগ করেন,এক সময় এই বাহিনীতে লোকজন চাকরি করেনি।এখন এই বাহিনীর প্রশিক্ষনে যেতেই লাগে লাখটাকা।তিনি আক্ষেপ করে বলেন,এই বাহিনীর সাথে সমপৃক্ত থেকে বুড়ো হয়ে গেলাম।কিন্তু কিছুই পেলাম না।শেষ বয়সে আমার ছেলেকে আনসার প্রশিক্ষনে পাঠানোর জন্য সদর অফিসারসহ জেলা অফিসারের কাছে কয়েকদফায় অনুরোধ করেছিলাম।কিন্তু কাজ হয়নি।কারন হিসেবে তিনি বলেন,তাদের চাহিদা মতো টাকা আমি দিতে পারিনা।তাই হয় না।

এবিষয়ে জেলা কমান্ড্যান্টের রানার ব্যাটালিয়ন সদস্য মো: ফজলু মিয়া ও ড্রাইভার আব্দুল হামিদ তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,সকল প্রকার প্রশিক্ষন ও চাকরির সিসি বড় কর্তার হাতে।এখানে তাদের কোন হাত নেই। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা কমান্ড্যান্ট মো:এফতেখারুল ইসলাম কথা বলতে রাজি হননি।