রাশিয়ার মুখ্যভূমিকা চাইছে প্যালেস্টাইন

271
gb

আবু জাফর মাহমুদ
প্যালেস্টাইন আমেরিকার উপর নির্ভরশীলতায় বিপদাপন্ন।শান্তি ওনিরাপত্তার নিরন্তর কূটনীতিতে তারা ইজরাইলকে পেছনে ফেলে নতুন পথে পা ফেলেছে।ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার এতোদিনের নেয়া মধ্যস্থতার নেতৃত্ব থেকে নিজেকে সরে নিয়ে হুকুমের আনুগত্য আশা করে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটালেন।এই ভিন্ন প্রেক্ষাপটে দ্য কোইয়ার্টেট ফর পিচ এর শরণাপন্ন হয়েছেন প্রেসিডেণ্ট আব্বাস।মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির উদ্দেশ্যে গঠিত রাশিয়া,জাতিসংঘ,ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন এবং আমেরিকার সমন্বয়ে দ্য কোইয়ার্টেট ফর পিচ গঠিত হয়েছে ২০০২সালে।তিনি সম্ভবতঃ মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের প্রস্তাব করবেন জাতিসংঘের আসন্ন সাধারণ অধিবেশনে।যে প্রস্তাব এতোদিন আমেরিকার অনুরোধে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছিলো।আমেরিকা চেয়েছে ইজরাইল-প্যালেস্টাইন আলচনায় সমাধান।আমেরিকা এই অবস্থান হারালো ট্রাম্পের পক্ষপাতিত্ব স্পষ্ট হবার পর।এদিকে ইজরাইলে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু আছেন আভ্যন্তরীণ চাপের মুখে।ঘুষ,দূর্ণীতির বিরুদ্ধে তিনি তার স্ত্রী এবং মন্ত্রীপরিষদের পদত্যাগের দাবিতে ১০সপ্তাহ লাগাতার বিক্ষোভের মধ্যে খবর এলো প্রধানমন্ত্রীর বাড়ির সামনে চলছে বিক্ষোভ।বাড়ির সামনে বিক্ষোভের পর টেলিভিশন সাক্ষাতে তিনি বলেছেন তিনি পদত্যাগ করবেননা।প্রধানমন্ত্রিত্ব ভোগ করবেন।ইসরাইলি পুলিশ জানিয়েছে,ঘুষ দূর্নীতি,প্রতারণা ও অবৈধভাবে ক্ষমতা ব্যবহারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে যথেষ্ঠ তথ্যপ্রমাণ আছে।যদিও নেতানিয়াহু বলেছেন,অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। ২০১৪সালে ইজরাইলের আরেক প্রধানমন্ত্রী ইহুদ ওলমার্ট ও অনুরূপ অপরাধের দায়ে দেড় বছর জেল খেটেছেন। ইজরাইলে আভ্যন্ত্রীণ গোলযোগের এই সন্ধিক্ষণে সিরিয়ার আকাশে ইজরাইলের জঙ্গি বিমান এফ-১৬ অনুপ্রবেশের পর গুলির আঘাতে পুড়ে ধ্বংস করে সিরিয়ার বিমান বাহিনীর ক্ষমতার উচ্চতার প্রমান মিলেছে।ইজরাইলের পরমাণু সজ্জিত এই জঙ্গি বিমান বহরের এতো তাড়ি শনির দশা ভর করতে পারে তা কল্পনাতীত থাকায় হিসেব পালটে গেছে নেতানিয়াহু-ট্রাম্প গ্যাং পার্টির। অপরদিকে প্যালেষ্টাইন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেণ্ট মাহমুদ আব্বাস রাশিয়ার প্রেসিডেণ্ট ভ্লাদিমির পুটিনের সাথে পরামর্শ সভায় বসেছিলেন মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়া অগ্রসরের যত্থার্থ সমর্থন সংগঠিত করার প্রত্যয়ে।আব্বাস চাইছেন আমেরিকার বর্তমানের বিতর্কিত আকাঙ্ক্ষাকে পেছনে ফেলেই বিশ্বসমর্থিত পথের ধারাবাহিকতা ঠিক রাখতে,প্যালেষ্টাইনকে ইজরাইলী দখলদারিত্ব থেকে মুক্ত করতে।
এই দুই ঘটনার মধ্যে রয়েছে যুদ্ধ এবং কূটনীতির চর্চা।উভয় ক্ষেত্রেই ইজরাইল এবং আমেরিকার বর্তমান অবস্থান অসুবিধায় ভারাক্রান্ত। ১২ই ফেব্রুয়ারী পুটিন-আব্বাসের সাক্ষাৎ এবং আলোচনা হয়েছে মস্কোয়।কৃষ্ণসাগরের নয়নাভিরাম রিসোর্ট ‘সোচী’তে এই মিলন হবার কথা থাকলেও রাশিয়ার যাত্রীবাহী বিমান দূর্ঘটনার কারণে সভাস্থল পরিবর্তন হয়েছে।
ফিলিস্তিনের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে রাশিয়া এবং অন্যান্য শক্তিগুলো যেনো এই শান্তি প্রক্রিয়া স্পন্সর করে।যেহেতু আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ইতিমধ্যে প্রকাশ্যে দাম্ভিকতার সাথে শান্তিপ্রক্রিয়া বিধ্বস্ত করার অনড় অবস্থান নিয়েছেন।
প্যালেস্টাইনবাসীদের ভাষায় ওয়াশিংটনের পক্ষপাতদুষ্ট এবং একতরফা জোরজবরদস্তিমূলক নীতি শান্তির পথের প্রধান বাধা হয়েছে।প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইজরাইলের রাজধানী করার সমর্থনে একতরফা ঘোষণা দিয়েছিলেন গত বছর৬ই ডিসেম্বর।যা আমেরিকার বিগত সরকারগুলোর প্যালেষ্টাইন-ইজরাইল নীতির সাথে এই ঘোষণা বিরোধাত্নক। অর্থাৎ আমেরিকার জনগণ ও রাজনীতিবিদরাও ট্রাম্পের জেরুজালেম বিষয়ক ঘোষণার সাথে দ্বিমত করছেন।
প্যালেস্টাইনের ব্যাপারে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোভাব শত্রুতার।জাতিসংঘে রিলিফ এবং ওয়ার্ক্স এজেন্সি ফর প্যালেষ্টেনিয়ান রেফ্যুজি্‌স(ইউ.এন.আর.ডব্লিউ.এ)সংস্থার তহবিল বাতিলের হুমকি দিয়ে তিনি নিজের অবস্থান আরো শত্রুতার করেছেন।প্রেসিডেণ্ট আব্বাসের কূটনৈতিক উপদেষ্টা মাজদি আল খালিদি বলেছেন,রাশিয়া এবং পুটিন আন্তর্জাতিক শান্তি ফোরামের ফ্রেম ওয়ার্কের আওতায় কার্যকর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবেন।তিনি সুনির্দ্দিষ্টভাবে বলেছেন,ইউ এন সিক্যুরিটি কাউন্সিলের সদস্য এবং ২০০২সালে মাদ্রিদে গঠিত দ্য কোইয়ার্টেট ফর পিচ এর সদস্য রাশিয়া ইজরাইল-প্যালেষ্টাইন শান্তি স্থাপনের লক্ষ্যে যথার্থ শক্তি।মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির উদ্দেশ্যে রাশিয়া,জাতিসংঘ,ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন এবং আমেরিকার সমন্বয়ে দ্য কোইয়ার্টেট ফর পিচ গঠিত হয়েছে।

আগামী মাসেই জাতিসংঘ সাধারণ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন হবে।ঠিক তার আগেই এই বৈঠক একটি সময়োচিত পদক্ষেপ নিশ্চয়ই।তাছাড়া আমেরিকার নিয়ন্ত্রিত শান্তি প্রচেষ্টার হাল হকিকত প্রকাশ হবার বর্তমান প্রেক্ষাপটে আব্বাস নিশ্চয়ই আরেকটি সুযোগ নেবেন।তিনি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির জন্যে আন্তর্জাতিক শান্তি সমাবেশ বা ইন্টার্ন্যাশানাল কনফারেন্স আয়োজনের ব্যবস্থা নেবেন।এই প্রস্তাব তিনি উত্থাপন করতে পারেন জাতীয় সংঘে সাধারণ অধিবেশনে।