দুই’শর অধিক বাস পরিবহন নিয়ে বিপাকে মালিক-শ্রমিক পাইকগাছায় টার্মিনালের অভাবে সড়ক ব্যবহার; ভেঙ্গে পড়েছে যানবাহন ব্যবস্থাপনা; সৃষ্টি হচ্ছে যানজট, সাধারণ মানুষের চরম দূর্ভোগ

253
gb

মোঃ আব্দুল আজিজ, পাইকগাছা, খুলনা \
পাইকগাছায় টার্মিনালের অভাবে সড়ক ব্যবহার করছেন বাস মালিকরা।পুরাতন ষ্ট্যান্ডের ধারণ ক্ষমতার চেয়ে গত কয়েক বছরে কয়েকগুণ বাস বৃদ্ধি পেয়েছে।ফলে জায়গার সংকলন না হওয়ায় সড়কের উপর যত্রতত্র বাস রাখতে বাধ্য হচ্ছেন শ্রমিকরা।এতে সুষ্ঠু যানবহন ব্যবস্থাপনা ভেঙ্গে পড়ার পাশাপাশি সৃষ্টি হচ্ছে যানজট,দূর্ভোগে পড়ছেন স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রী সহ সাধারণ মানুষ। শত শত বাস নিয়েবিপাকে থাকা বাস মালিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ সহ এলাকাবাসী, পৌর এলাকায়একটি আধুনিক মানের বাস টার্মিনাল নির্মাণের জন্য দীর্ঘদিন দাবীজানিয়ে আসছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিলেও গত৭ বছরেও বাস্তবায়নের কোন লক্ষণ পরিলক্ষিত হয়নি।সূত্রমতে, দেশের উন্নয়নের গতিধারায় পরিবহন খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাপালন করছে। যাত্রী পরিবহনের প্রায় শতকারা ৭০ ভাগ এ সেক্টরের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে রাস্তাঘাটের পাশাপাশি প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছেযানবাহনের সংখ্যা। বর্তমানে জেলার গুরুত্বপূর্ণ এ উপজেলায় ৩টি রুটে চলাচলেরজন্য প্রায় আড়াই শতাধিক বাস ও পরিবহন রয়েছে। যার মধ্যে উপজেলা সদর থেকেঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫টি পরিবহন যাতায়াত করে থাকে।অনুরূপভাবে খুলনা ও কয়রা রুটে চলাচলের জন্য ২ শতাধিক বাস রয়েছে। অথচ এসববাস পার্কিং কিংবা রাখার জন্য নেই সেই ধরণের কোন টার্মিনাল। ১৯৮৫ সালেরদিকে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাডঃ স ম বাবর আলী সামান্য কিছুজায়গার উপর বাসষ্ট্যান্ড নির্মাণ করেন। যার ধারণ ক্ষমতা ২০ থেকে ২৫টি গাড়ি।
ফলে স্বাভাবিক ভাবেই বিপুল সংখ্যক এ বাস রাখার কোন জায়গা না থাকায় বাসমালিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ বাস রাখার জন্য ব্যবহার করছেন সড়ক। সড়কের পাশ দিয়েদীর্ঘ লম্বা সারিবদ্ধ ভাবে বাস রাখায় একদিকে যেমন সৃষ্টি হচ্ছে যানজট,অপরদিকে প্রতিনিয়ত দূর্ভোগে পড়েন পথচারী সহ সব শ্রেণির মানুষ। বিষয়টিনিয়ে বছরের পর বছর ধরে মাসিক আইন শৃংখলা সভায় আলোচনা করলেও আয়োজন
যানবাহনের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হয়নি। স্থানীয় প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষএকটি আধুনিক মানের টার্মিনাল নির্মাণে উদ্যোগও নিয়েছেন
একাধিকবার। ২০১১ সালের ১৪ অক্টোবর তৎকালীন সংসদ সদস্য এ্যাডঃ সোহরাবআলী সানা টার্মিনাল নির্মাণের ব্যাপারে স্থানীয় সরকার পল­ী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রাণালয়ে আনুষ্ঠানিক পত্র প্রদান করে। এরপর ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর জেলা
প্রশাসক ও ৩০ অক্টোবর স্থানীয় সরকার মন্ত্রাণালয়ের সচিব বরাবর জমিঅধিগ্রহণের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন পৌর মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর। ২০১৭সালের ১১ জুলাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ফকরুল হাসান ৫২৭ নং স্মারকে
শিববাটী মৌজায় ৪৩ নং খতিয়ানে ১২৫ দাগে ০.৪৮ একর, ১৮ নং খতিয়ানে ১৪০দাগে ০.০৮ একর, এসএ ১ নং খতিয়ানে ১১৭ দাগে ০.৫৬ একর সহ মোট ১.১২ একরজমি অধিগ্রহণের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসের প্রস্তুতকৃত
প্রস্তাবের সাথে একমত পোষন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলাপ্রশাসক বরাবর পত্রদেন। এভাবেই চিঠি চালাচালির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছেটার্মিনাল নির্মাণ কার্যক্রম। ঈগল পরিবহনের ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম মিল্টন
জানান, এলাকা থেকে প্রতিদিন ২০টি পরিবহন ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে যাতায়াতকরে থাকে। কিন্তু পরিবহনের জন্য নির্দিষ্ট কোন টার্মিনাল না থাকায় যাত্রী উঠা-
নামা সহ পার্কিং করা নিয়ে আমরা প্রতিনিয়ত বিড়ম্বনার স্বীকার হই। মুজিবররহমান জানান, জিরোপয়েন্ট এলাকার সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে বাস রাখায়সবসময় যানজট লেগেই থাকে। ফলে যাতায়াতে স্কুলগামী ছেলে-মেয়েরা সহ
সাধারণ মানুষ চরম দূর্ভোগে পড়েন। খুলনা বিভাগীয় বাস মালিক সমিতির লাইন
সেক্রেটারী শেখ জাহিদুল ইসলাম জানান, বর্তমানে দুটি রুটে চলাচলের জন্য দুইশতাধিক বাস রয়েছে। যার মধ্যে ১২০টি বাস সার্বক্ষণিক এলাকায় অবস্থান করে।পুরাতন যে ষ্ট্যান্ড রয়েছে ,সেখানে সর্বোচ্চ ২৫টি গাড়ি রাখা যায়। অবশিষ্ট
গাড়ি বাধ্য হয়েই সড়কের উপর রাখতে হয়। একটি আধুনিক মানের বাস
টার্মিনাল নির্মাণের ব্যাপারে আমরা বাস মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকেসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার তাগিদ দিয়েছি। কিন্তু আজও টার্মিনালনির্মাণে দৃশ্যমান কোন বাস্তবায়ন চোখে পড়েনি। যানজট নিরসন সহযানবহন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে বাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের সাথেআলোচনা করে একটি যুগোপযোগী আধুনিক মানের টার্মিনাল নির্মাণেরপ্রক্রীয়া চলমান রয়েছে বলে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এ্যাডঃ শেখ মোঃ নূরুলহক জানিয়েছেন।