মেয়ে ধর্ষণের বিচার না পেয়ে মায়ের আত্মহত্যা

344
gb

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা  ||

অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ের ধর্ষণের বিচার চাইতে গিয়ে উল্টো প্রাণনাশের হুমকিতে মুষড়ে পড়ে আত্মহত্যা করেছেন এক মা। তার নাম আজুবা বেগম। তিনি গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জের বাসিন্দা।
শনিবার ভোরে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডেকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।
গোবিন্দগঞ্জের এ ঘটনায় শনিবার থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মজিবুর রহমান পরিবর্তন ডটকমকে মামলার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্ত রানু ও তার বাবাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা নেওয়া হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে তৎপরতা চলছে।
মামলার এহাজার ও স্থানায়ী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া এক ছাত্রী বৃহস্পতিবার দিন-দুপুরে নিজবাড়িতে ধর্ষণের শিকার হয়। পার্শ্ববতী চকপাড়ার শাহান শাহর ছেলে রানু মিয়া ধর্ষণ করেছেন এমন অভিযোগ করা হয়।
এ ঘটনায় মেয়ের পরিবার তাৎক্ষনিক বিচার চেয়ে সমাজপতিদের কাছে ধর্ণা দেন। অভিযুক্ত রানু মিয়ার বাবা শাহান শাহ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তিনি এক পর্যায়ে ওই মেয়ের মা আজুবা বেগমকে নানা ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ হত্যার হুমকি দেন।
বিচার না পেয়ে পাল্টা নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় এক পর্যায়ে মনের ক্ষোভে বৃহস্পতিবার রাতে আজুবা বেগম কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
আজুবাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লক্সে নেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেখান থেকে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডেকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার ভোরে তিনি মারা যান।
আজুবার স্বামী এনামুল হক অভিযোগ করেন, মেয়ের ধর্ষণের বিচার না পেয়ে উল্টো হুমকিতে আজুবা আত্মহত্যা করেছেন।
গোবিন্দগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মজনু বলেন, ভিকটিমের স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। রিপোর্ট হাতে এলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।