পদ্মাবতী

604
gb
মধুলীনা কলকাতা || জিবি নিউজ২৪.কম ||

 

চিতোরের মহারাণী পদ্মিনী ছিলেন সিংহল (শ্রীলঙ্কার) রাজকন্যা।বাবা গন্ধর্ব সেন ও মা চম্পাবতী।
নানা মুনির নানা মত।অনেকের মুখে অনেকরকম কাহিনী শোনা যায় পদ্মিনী কে নিয়ে।

অসম্ভব সুন্দরী রূপবতী ও গুণবতী ছিলেন এই পদ্মিনী।
বিবাহ নিয়ে রয়েছে রাজকুমারীর অনেক কাহিনী। কথিত আছে চিতরের মহারাজা রতন সিংহ সয়ম্বর সভায় মলখান সিংহ কে পরাজিত করে পদ্মিনী কে বিবাহ করেন। এও শোনা যায়  পদ্মিনীর পিতা জামাতা হিসাবে রতন সিংহ কে পছন্দ করতেন না বলে তিনি সিংহল আক্রমণ করেন।
রতন সিংহ ছিলেন সংগীত প্রেমী, তার দরবারে শিল্পী ছিলেন রাঘব চেতন। সে সংগীত এর সাথে সাথে জাদুবিদ্যা ও তন্ত্রমন্ত্র ও জানতেন।এই গুন অশুভ কাজ করে ধরা পড়ায় তাকে রাজ্য থেকে বিতাড়িত করা হয়।তখন তিনি প্রতিশোধ নেবার জন্য দিল্লীর সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির সাথে দেখা এবং তাকে পদ্মাবতীর রূপের প্রশংসা করেন।রাঘবের কথা শুনে আলাউদ্দিন চিতর আক্রমন করে,ছয় মাস ধরে যুদ্ধ চালান।কোনো সুবিধা করতে না পারায় রতন সিংহকে সন্ধিপত্র পাঠান এবং শর্ত রাখেন যে রূপবতী পদ্মিনী কে যদি দেখতে দেন তবে তার সৈন্য সরিয়ে নেবেন।

এই শর্তানুযায়ী রতন সিংহ নিমন্ত্রণ পাঠায় আলাউদ্দিন খিলজিকে এবং তিনি চিতরে আসে অতিথি হিসাবে।সেখানে রানীকে তিনি আয়নায় দেখেন।সেখানে কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পর পুনরায় দিল্লির উদেশ্যে রওনা হয়,অতিথিকে বিদায় জানানোর অতিপ্রায় রতন সিংহ কিছুটা পথ এগিয়ে দিতে যান কিন্তু বিশ্বাসঘাতক খিলজি রতন সিংহকে বন্দি করে দিল্লি নিয়ে যান।খিলজি রূপবতী পদ্মিনীর কাছে শর্ত রাখেন,রানী নিজে দিল্লিতে এসে তার কাছে সপে না দিলে স্বামী রতন সিংহের মস্তক কেটে নেওয়া হবে।

পদ্মিনী চিতরের বিস্বস্ত সেনাপতি গোরা ও ভাইপো বাদলের সাথে রণনীতি স্থির করে ১৫০টি পালকি ভর্তি রাজপুত সেনা নিয়ে দিল্লি যান।আলাউদ্দিনের কারাগার থেকে রতন সিংহকে চিতর পাঠাতে সক্ষম হলেও,গোরা ও বাদলকে শহীদ হতে হয়।আলাউদ্দিন ক্রুদ্ধ হয়ে পুনরায় চিতর আক্ৰমণ করে এবং রতন সিংহকে হত্যা করে।মহারানী পদ্মাবতী খিলজির হাতে সমর্পিত না হয়ে সমস্ত রাজপুত রমণীদের নিয়ে জওহরব্রত(অগ্নিকুন্ডে আত্মহুতি) দেন।

রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশে মহারানী পদ্মিনীকে পরমেশ্বরী জগদম্বারূপে শ্রদ্ধা করা হয়।
বিতর্ক ঠিক এইখানেই সৃষ্টি,তারা দেবীরূপী পদ্মাবতীকে শ্রদ্ধা করেন আর সিনেমায় দীপিকা পাড়ুকোন উম্মুক্ত পোশাকে ঘুমর নৃত্য পরিবেশন করেছে সেটা দেশবাসী মেনে নেবে না।এটা ভারতীয় সংস্কৃতির পরিপন্থী।বিশেষত রাজপুত গোষ্ঠীর তরফে ঘোর আপত্তি।

অভিযোগ, আলাউদ্দিন”ভাইয়া”ও”সাইয়া”পার্থক্য জানতেন না।তার মুখে পদ্মিনী ভগিনী সম্মোধন করলেও তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে প্রেমালাপের রোমান্টিক দৃশ্য সিনেমায় দেখানো হয়েছে।

কিন্তু পরিচালক মানতে নারাজ।
বীরাঙ্গনা রানী পদ্মাবতী অন্য যে কোনো ভাবে আত্মহত্যা করতে পারতেন কিন্তু আগুনে ঝাঁপ দেওয়ার একটাই উদ্দেশ্য ছিলো আলাউদ্দিন ও তার সঙ্গীরা তাকে স্পর্শ করতে না পারে।সিনেমায় এরকম কিছু দৃশ্য আছে আবার আলাউদ্দিনরূপী রনবীর সিংহ এবং পদ্মাবতী রুপী দীপিকা পাড়ুকোন বেশ কয়েকটি ঘনিষ্ঠ দৃশ্য রয়েছে,যেটি ঐতিহাসিক বইয়ে উল্লেখ নেই সবটাই পরিচালকের মস্তিষ্ক প্রসূত,সম্পূর্ন কাল্পনিক যার কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই।