শঙ্কর-কৌশল্যার প্রেম মেনে নেয়নি পরিবার

744
gb

জিবিনিউজ ডেস্ক //

২০১৬ সালের মার্চে ভারতের তামিলনাডুতে দলিত সম্প্রদায়ের এক যুবক খুন হন দিনের বেলা। শঙ্কর নামের ওই যুবক উচ্চবর্ণের এক নারীকে বিয়ে করেছিলেন।

শঙ্করকে যখন খুন করা হয় তখন সঙ্গেই ছিলেন তার স্ত্রী কৌশল্যা।

পরে এই খুনের মামলায় আদালতে নিজের বাবার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন কৌশল্যা। এখন চান এই খুনের ঘটনায় শাস্তি হোক তার মায়েরও।

আট মাসের বিবাহিত জীবনের শেষ দিনটিতে গ্রামের বাড়িতে সকাল ন’টার দিকে ঘুম থেকে ওঠেন কৌশল্যা। পরে স্বামীর সঙ্গে একটি বাসে করে যান প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরের একটি বাজারে।

পরদিন স্বামী শঙ্করের কলেজে একটি অনুষ্ঠান, তাই তার জন্য শার্ট কিনতে সেখানে যান তারা।

গোলাপি একটি শার্ট কিনে পরে আবার সেটি বদলিয়ে একটি সবুজ শার্ট আনার জন্য বাজারটিতে ঢোকেন শঙ্কর-কৌশল্যা। শার্ট নিয়ে ব্যস্ত সড়ক পার হয়ে বাসস্টপের দিকে যাচ্ছিলেন দুজনে।

কিন্তু রাস্তা পার হওয়ার আগেই দুটি মটর সাইকেলে পাঁচজন পেছন থেকে এসে তাদের পথ আটকায়। এরপর ছুড়ি দিয়ে তাদের একের পর এক আঘাত করে। আর পুরো দৃশ্যটিই ধরা পড়ে সিসিটিভি ক্যামেরায়।পুরো ঘটনাটি ঘটে মাত্র ৩৬ সেকেন্ডে।

পরে তাদের দুজনকে হাসপাতালে নেয়া হলেও পুরো শরীরে ৩৪টি ছুড়ির আঘাত পাওয়া শঙ্করের আর সুস্থ হয়ে ফেরা হয়নি।

আর ৩৬টি সেলাই নিয়ে ২০ দিন হাসপাতালে ছিলেন কৌশল্যা।

তার মনে পড়ে, আঘাতের সময় হামলাকারী বারবার তাকে জিজ্ঞেস করে কেন নিম্নবর্ণের একজনকে ভালবাসতে গেলেন তিনি।

শঙ্কর ছিলেন দলিত ও দিনমজুরের সন্তান। আর কৌশল্যা প্রভাবশালী থেভার গোত্রের। পালানি শহরে তাদের দোতলা বাড়ি।

পারিবারিক অনেক বিধিনিষেধের জন্য অনেক কিছুই করা হয়নি তার। কিন্তু প্রেমের ক্ষেত্রে কোন বাধাই মানেননি তিনি।

শঙ্করের সঙ্গে তার পরিচয় কলেজের নবীন বরণ অনুষ্ঠানে। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় তার মনজয় করেছিলেন শঙ্কর। কিন্তু শঙ্করের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নানা ঝামেলা পোহাতে হয়েছে তাকে।

২০০৫ সালের ১২ জুলাই মন্দিরে গিয়ে বিয়ে করেন তারা। এরপর পুলিশের কাছে গিয়ে ঘটনা জানান  এবং সুরক্ষা চান। কৌশল্যা বলেন, ‘এরপরের আটটি মাসই ছিলো আমার জীবনে সবচেয়ে সুখের’।

বাবা মা এসে নিয়ে যেতে চাইলে রাজী হননি কৌশল্যা। ক্ষুব্ধ বাবা শাসিয়ে গেছেন, ‘তোমার কিছু ঘটলে আমরা দায়ী হবোনা’।

পরে পুলিশী তদন্ত দেখা গেছে, তার বাবাই হামলাকারীদের ভাড়া করেছিলেন। মাত্র ৫০ হাজার টাকায় মেয়ে ও জামাইকে খুন করাতে চেয়েছিলেন তিনি।

কৌশল্যা আদালতে ৫৮ বার তার বাবা-মাকে জামিন দেয়ার বিরোধিতা করেন।

এরপর গত ডিসেম্বরে আদালত শঙ্কর খুনের মামলায় কৌসল্যার বাবাসহ পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড দেন, তবে খালাস পান তার মা। যদিও কৌশল্যার দাবি তার মাও সমান অপরাধী।