কুয়াকাটা থেকে সুন্দরবন নৌরুট ‘গ্রীন লাইন ওয়াটার ওয়েজ’ উদ্বোধন

808
gb

জিবিনিউজ24 ডেস্ক:কুয়াকাটা থেকে সুন্দরবনে যাওয়ার নৌরুট ‘গ্রীন লাইন ওয়াটার ওয়েজ’ এর উদ্বোধন করা হয়েছে বুধবার। বুধবার বিকালে নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান এর উদ্বোধন করেন।

আগে সুন্দরবন দেখার জন্য একমাত্র পথ ছিল খুলনা। যা ছিল সময় সাপেক্ষ এবং ব্যয়বহুল। কুয়াকাটা থেকে সুন্দরবন (কটকা) ‘গ্রীন লাইন ওয়াটার ওয়েজ’ সেবা চালু হওয়ায় পর্যটকরা সরাসরি সুন্দরবনের দর্শনীয় স্থান সমূহ দেখতে পারবেন। এতে পর্যটকদের সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হবে। একই সাথে কুয়াকাটা থেকে দক্ষিণ-পূর্ব সঙ্গোপসাগরে জেগে ওঠা ‘চর বিজয়ে’ পর্যটক যাতায়াতের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বুধবার বিকালে সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা থেকে সুন্দরবন পর্যন্ত গ্রীন লাইন ওয়াটার ওয়েজের নৌ-পরিবহন কার্যক্রমের উদ্বোধন উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। যাতে প্রধান অতিথি ছিলেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী। কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র আবদুল বারেক মোল্লার সভাপতিত্বে উদ্বোধনী সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মো. মাছুমুর রহমান, পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মইনুল হাসান, কলাপাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব তালুকদার, কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো তানভীর রহমান, কলাপাড়া পৌরসভার মেয়র বিপুল চন্দ্র হাওলাদার, গ্রীন লাইন ওয়াটার ওয়েজের মালিক মো. আলাউদ্দিন প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নৌ-পরিবহন মন্ত্রী বলেন, পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটাকে ঘিরে নৌ-পথের উন্নয়ন করা হবে।

বিশেষ করে আন্ধারমানিক নদের নাব্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য শীঘ্রই খনন কার্যক্রম শুরু করা হবে। ‘গ্রীন লাইন ওয়াটার ওয়েজ’ সেবার লক্ষ্যে কুয়াকাটা সংলগ্ন আলীপুরে পর্যটকদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য একটি পন্টুন স্থাপন করার প্রতিশ্রুতি দেন মন্ত্রী।

তিনি আরো বলেন, কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। সে পরিকল্পনার আওতায় কুয়াকাটায় কক্সবাজারের মতো মেরিন ড্রাইভ সড়ক তৈরি করা হবে। পর্যটকদের বিনোদনের জন্য বিশাল একটি অ্যাকুরিয়াম, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, গলফ গ্রাউন্ড, সিনেপ্লেক্স, লাইট হাউজ নির্মাণ করা হবে। এমনকি কুয়াকাটায় বঙ্গবন্ধুর সবচেয়ে বড় একটি ভাস্কর্য স্থাপন করা হবে। দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্য এসব স্থাপনা নির্মিত হবে।

সামগ্রিকভাবে দেশের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ নৌ-পরিবহণ মন্ত্রনালয়েরর আমূল পরিবর্তন ঘটিয়েছেন। এক সময় দেশের মানুষের কাছে প্রবাদ ছিলো ‘উপরে ফিটফাট, ভেতরে সদরঘাট। ’ এখন আমি জোর দিয়ে বলবো ‘দেখতে হলে ফিটফাট; চলে আসুন সদরঘাট’।

তৃতীয় সমুদ্র বন্দর পায়রা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্যই পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা সমুদ্র বন্দর হচ্ছে। এ জন্যই এ অঞ্চলের আমূল পরিবর্তন হবে। পায়রা সমুদ্র বন্দর চট্রগ্রাম বন্দরের মতোই উন্নত হবে এবং এখানে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠবে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৭ টায় সাগরকণ্যা কুয়াকাটা থেকে বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে পর্যটকদের নিয়ে যাত্রী পরিবহন শুরু হবে। কুয়াকাটা থেকে সুন্দরবনে যেতে তিন ঘন্টা সময় লাগবে বলে গ্রীন লাইন কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে।

জানা গেছে, আধুনিক সুযোগ-সুবিধার এ নৌযানে তিন শ্রেণির আসন রয়েছে। এর মধ্যে ১১২টি সোফা, সাধারণ চেয়ার ২০০টি, ৪টি সিঙ্গেল কেবিন এবং ১৫টি ডাবল কেবিন রয়েছে। এতে সোফা বা চেয়ারের জন্য যাত্রী প্রতি ভাড়া দুই হাজার টাকা, সিঙ্গেল কেবিনের ভাড়া তিন হাজার টাকা এবং ডাবল কেবিনের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ছয় হাজার টাকা। এ ভাড়ার মধ্যেই যাত্রীদের জন্য সকালের নাস্তা, দুপুরের খাবার এবং বিকেলের জন্য নাস্তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

গ্রীন লাইন ওয়াটার ওয়েজ কতৃপক্ষ ঢাকা থেকে তিন দিনের আলাদা একটি প্যাকেজও চালু করেছে। সেক্ষেত্রে ঢাকা থেকে বরিশাল পর্যন্ত গ্রীন লাইন ওয়াটার ওয়েজে করে যাত্রী পরিবহন করা হবে। এরপর বরিশাল থেকে গ্রীন লাইনের নিজস্ব এসি বাসে করে সেসব যাত্রীকে কুয়াকাটায় নিয়ে আসা হবে। কুয়াকাটায় এসে যাত্রী সাধারণ নিজেদের ব্যবস্থাপনায় থাকাবেন। এর পরের দিন এসব যাত্রীকে কুয়াকাটা থেকে সুন্দরবন বেড়ানোর জন্য নিয়ে যাওয়া হবে। সেখান থেকে ফেরার পর আবার একইভাবে ঢাকায় পৌঁছে দেওয়া হবে। এ প্যাকেজে সোফা বা চেয়ারের ভাড়া প্রতিজন ৫৫০০ টাকা, সিঙ্গেল কেবিনের ভাড়া ৬৫০০ টাকা এবং ডাবল কেবিনের ভাড়া ৯৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

গ্রীন লাইন ওয়াটার ওয়েজ কর্তৃপক্ষের কুয়াকাটা প্রতিনিধি মো. জুয়েল জোমাদ্দার বলেন, সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা থেকে প্রতিদিন সকাল ৭টায় সুন্দরবনের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে নৌযানটি। সারাদিন সুন্দরবনের বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে সন্ধ্যার আগেই কুয়াকাটার উদ্দেশে নৌযানটি যাত্রা করবে। তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনে কোনো পর্যটক বা নৌযান প্রবেশ করলে তার জন্য সরকারকে রাজস্ব দিতে হয়। সেসব হিসেব করে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।