ঘূর্নঝড় আম্পানের তান্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত সাতক্ষীরার উপকুলীয় বেঁড়িবাধ সংস্কারে স্থানীয় হাজার হাজার মানুষ স্বেচ্চশ্রমে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন

32
gb

শাহীন গোলদার,সাতক্ষীরা// সুপার সাইক্লোন আম্পানের তান্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলার ভেঙে যাওয়া ২৩ টি পয়েন্টের বেঁড়ি বাঁধগুলো সংস্কারে স্থানীয় হাজার হাজার মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। জোয়ারের পানি ঠেকাতে এলাকাবাসীর প্রানপণ এই চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম জানান, সকাল থেকে উপকুলীয় এলাকার আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ও থেমে থেমে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। একই সাথে ঝড়ো বাতাস বইছে। এর সাথে নদনদীর পানি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে, স্বেচ্ছাশ্রমে বেড়িবাধ সংস্কারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে তিনি আরো জানান। এদিকে,সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শেখ জাকির হোসেন জানান,পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভাগ-২ এর আওতাধীন আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের ৩ টি পয়েন্টে স্থানীয় জনতা স্বেচ্ছাশ্রমে রিংবাধ দিলেও বাকী ৫টি পয়েন্টে বেড়িবাধ এখনও সংস্কার করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরোও বলেন,তবে স্থানীয় হাজার হাজার মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে এ সব বেঁড়িবাধ সংস্কারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে, ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষের দাবী ত্রান চাইনা, টেকসই বেঁড়িবাধ চাই। সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের জানান, শ্যামনগর উপজেলার গাবুরার লেবুবুনিয়া, কাশিমাড়ি’র কোলা ও বুড়িগোয়ালিনীর দাতিনাখালি বাদে বাকীসব পয়েন্টের বেড়িবাধ গুলো পানি উন্নয়নবোর্ডের সহযোগিতায় স্থানীয় জনতা রিংবাঁধ দিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বাধ গুলো সংস্কার করেছেন। সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক এস.এম মোস্তফা কামাল জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় স্থানীয় জনতা বেঁড়িবাধ গুলো রিং বাধ দিয়ে সংস্কারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে কয়েকটি পয়েন্টে রিংবাধ সম্পন্ন হয়েছে। খুব দ্রুতই বাকী পয়েন্ট গুলোর বেঁড়িবাধ রিংবাধের মাধ্যমে সংস্কার সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন। তবে, তিনি নিজেই সে গুলো দেখভাল করছেন বলে জানান। তিনি আরো জানান, ভাঙন কবলিত এলাকায় যারা স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করছেন তাদের জন্য ইতিমধ্যে ৫০ মেট্রিকটন চাউল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এদিকে,পানি সম্পদ মন্ত্রানালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার জানান,ভেঙে যাওয়া বাঁধগুলো পরিদর্শনে এসে উপকুলবাসীর বলেন যতদ্রুত সম্ভব বাঁধ মেরামতে সরকারের ডেল্টাপ্লান বাস্তবায়নে কার্যকরি উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন। সচিব কবির বিন আনোয়ার আরোও বলেছেন,নদীতে প্রবল জোয়ারের কারনে কাজ করা কঠিন হচ্ছে । তবে, বেঁড়িবাধ ভাঙার বিষয়ে তিনি বলেন, বেঁড়িবাধ ভাঙনের জন্য শুধু প্রকৃতিক দূর্যোগই দায়ী নয়। খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ড. মুহা. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার জানান,প্রলংকারী ঘূর্ণিঝড় আম্পানে তান্ডবে ভেঙ্গে যাওয়া বেড়িবাধ সেনাবাহিনীকে মেরামতের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে । এছাড়া কিছু কিছু জায়গায় সেনাবাহিনীর তত্বাবধানে ও কিছু জায়গায় সিভিল প্রশাসনের ত্বাবধানে বেঁড়িবাধ সংস্কার করা হবে। সাতক্ষীরার উপকুলীয় মানুষ আয়লা থেকে আম্ফান পযন্ত সাত থেকে আটটি দূর্যোগের মুখোমুখি হয়েছেন । আর প্রতিবার দেখেছে তাদের কাছে উপহার হিসেবে আসে কেবল মুঠোভর্তি আশ্বাস। তাই এমন আশ্বাসে বিশ্বাস নেই উপকূল বাসীর। এবারের প্রাণের দাবি বেড়িবাঁধের স্থায়ী সমাধান চান তারা।

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন Accept আরও পড়ুন