জুন মাসেই বাংলাদেশ হয়তো করোনার সর্বোচ্চ সীমায় যাবে

148
gb

-মোঃ নাসির, বিশেষ প্রতিনিধি//

৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা শনাক্ত হয়েছে। করোনা সংক্রমণের দুই মাস পূর্তি হয়েছে। যদিও কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ বলছেন যে, বাংলাদেশে এখন করোনার পিক সময় শুরু হয়েছে এবং সর্বোচ্চ সীমার প্রথম ধাপ আমরা পার করছি। কিন্তু করোনার যে বিশ্ব পরিস্থিতি এবং করোনা যেভাবে বিস্তৃত হয়, সে সমস্ত বিশ্লেষণ করে এই মতের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করছেন কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ। তারা মনে করছেন যে, বাংলাদেশে এখনও পিক শুরু হয়নি। বাংলাদেশে পিক শুরু হবে জুনে। জুন মাসেই বাংলাদেশ করোনা সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছাবে বলে মনে করছেন তারা। এর পক্ষে তারা বিভিন্ন যুক্তিও দিচ্ছেন।

বাংলাদেশে যখন করোনা সংক্রমণ শুরু হয়, তখন থেকে শুরু করে পুরো মার্চ মাসে করোনা সংক্রমণের হার ছিল সবচেয়ে কম।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক সংক্রমণ যত সীমিত থাকবে এবং সামাজিক সংক্রমণের বিস্তৃতি যত কম থাকবে ততই করোনার প্রকোপ কম হবে। এজন্যেই করোনার সংক্রমণের সঙ্গে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, লকডাউন, ইত্যাদি একেবারে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এ কারণে সব দেশই করোনা মোকাবেলার জন্য লকডাউন এবং সামাজিক দূরত্বকেই গুরুত্ব দিয়েছিল। বাংলাদেশে ২৬ মার্চ থেকে করোনার কারণে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয় এবং জনগণের স্বাভাবিক চলাফেরার উপর বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, ৮ মার্চ প্রথম করোনা সংক্রমণের পর থেকে সরকার যে ব্যবস্থাগুলো নিয়েছিল, বিশেষ করে সভা সমাবেশ বন্ধ করা, একসাথে মিলিত না হওয়া- এই ব্যবস্থাগুলো ইতিবাচক ফল দিয়েছে। যে কারণে মার্চে সংক্রমণ কম ছিল। কিন্তু এপ্রিলে বিশেষজ্ঞরা সংক্রমণের উর্ধ্বগতির কারণ হিসেবে বলেন সামাজিক সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া এবং সামাজিক সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য যে লকডাউন, সেই লকডাউন পুরোপুরি কার্যকর না করা। আর এ কারণেই এপ্রিল মাসে এসে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত না করা যাবে, ততক্ষণ পর্যন্ত করোনার সংক্রমণ বাড়তেই থাকবে। করোনা আপনা থেকে বন্ধ হওয়ার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই, এটা আপনা থেকে বন্ধ হয়ও না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, সামাজিক দূরত্ব বন্ধ করে যখনই সামাজিক সংক্রমণ ঠেকানো যায়, তখনই করোনা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। বাংলাদেশ দ্বিতীয় ধাপে এসে আবার সামাজিক সংক্রমণ শুরু হয়েছে। পোশাক কারখানাগুলো খুলে দেওয়ার ফলে ব্যাপক সামাজিক সংক্রমণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন অফিস আদালতসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান খুলে যাচ্ছে। কাজেই বাংলাদেশ এখন করোনার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ওয়েভের অপেক্ষায় রয়েছে এবং কিছুদিনের মধ্যেই বাংলাদেশে করোনার প্রকোপ আরেক ধাপ বেড়ে যাবে এবং বাংলাদেশ সর্বোচ্চ করোনার দ্বিতীয় ধাপে পৌঁছাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, সামাজিক দূরত্ব যদি নিশ্চিত না করা যায়, তাহলে বাংলাদেশের বর্তমান যে করোনা পরিস্থিতি অর্থাৎ প্রতিদিন ৭০০ এর অধিক করে রোগী হচ্ছে, সেই সংখ্যাটা বাড়তেই থাকবে, এবং একটা পর্যায়ে গিয়ে আবার ৯০০ বা ৮০০ হয়ে কিছুদিন অবস্থান করবে। তারপর এক হাজার বা তার উপরে অবস্থান করবে।

বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের ট্রেন্ড যদি দেখা হয়, তাহলে দেখা যাবে যে, এদেশে করোনা দিন সাতেক চারশো’র ঘরে অবস্থান করেছিল। তারপর এটি পাঁচশো’র ঘরে চলে যায়। অনেক দিন পাঁচশো’তেই ছিল। তারপর মাত্র দু’দিন ছয়শো’তে থাকার পর এটি এখন গত পাঁচ দিন ধরে সাতশো’র ঘরে ওঠানামা করছে। কাজেই সাতশো বা পাঁচশো প্রতিদিন শনাক্ত হলে তাকে কখনো পিক বলা যায় না। কারণ ১৮ কোটি অধ্যুষিত জনগোষ্ঠীর এই দেশে পিক সময় করোনা সংক্রমণের সংখ্যা অনেক বেশি হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। কারণ আমরা সামাজিক দূরত্ব বা লকডাউন কার্যকর করতে পারিনি।

তারা এটাও মনে করছেন যে, সীমিত আকারে পরীক্ষা হচ্ছে জন্য আমাদের সংক্রমণের সংখ্যাও কম দেখা যাচ্ছে। আর তাই যখন সংক্রমণের সংখ্যা বাড়ানো হবে, তখন আমাদের সংক্রমণ বাড়বে। আর তাই তারা মনে করছেন যে, বাংলাদেশে যে করোনা বাড়ছে, এই উর্ধ্বগতির ধারা পুরো মে জুড়ে থাকবে। এর মধ্যে যদি আমরা লকডাউন নতুন করে আরোপ না করতে পারি এবং সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত না করতে পারি, তাহলে জুন মাসেই বাংলাদেশ হয়তো করোনার সর্বোচ্চ সীমায় যাবে।

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন Accept আরও পড়ুন