মৌলভীবাজারে মানা হচ্ছেনা সামাজিক দূরুত্ব

194
gb

শাহরিয়ার খাঁন সাকিব, মৌলভীবাজারঃঃ মৌলভীবাজার গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের খাদ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্য অধিদপ্তর বিশেষ ও এমএস বিতরণে কেউই মানছেন না সামাজিক দূরুত্ব।

মৌলভীবাজারে মাথাপিছু ১০টাকা কেজি করে বিক্রি হচ্ছে চাল। সামাজিক দূরত্ব মানুষের ভিড় কোনভাবেই সামলানো যাচ্ছেনা। কেউ মানছে না সামাজিক দূরত্ব। আবার দেখা গেছে, অনেকে ব্যবহার করছেন না মাস্ক। কেউ কেউ আবার তোয়াক্কা করছেন না প্রশাসনের নির্দেশনা। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বর্তমান সময়ে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে তৎপর থাকলেও এখানে থামছে না জনসমাগম। লকডাউনের বিধি-নিষেধ না মেনে স্বাভাবিক জীবনযাপনের মতো মানুষের চলাফেরা করছেন ও ভিড় করে কেনা-বেচা করছেন। সামাজিক দূরত্বও কেউ মেনে চলছেন না। যার ফলে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ইতিমধ্যেই মৌলভীবাজার জেলায় ১৮জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তার মধ্যে মারা গেছেন ৫জন।

উল্লেখ যে, জেলা প্রশাসক গত ১৩ এপ্রিল বিকাল ৫টা থেকে সমগ্র মৌলভীবাজার জেলা লকডাউন ঘোষণা করা হয়। তার সাথে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে জনসমাগম না করেন কেউ। কিন্তু এখানে দেখা যাচ্ছে অন্যরকম।

এর পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকান ব্যতীত অনেক দোকান লুকিয়ে খোলা হচ্ছে এতে করে করোনার ঝুকি বাড়ছে। তাদের বিরুদ্ধে জরুরীভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দাবী করছেন সচেতন নাগরিকেরা। বেশ কদিন ধরে দেখা যাচ্ছে শহরের সিএনজি ও অটোরিক্সা সংখ্যা যা চোখে পরার মত।

এগুলো প্রতিদিন শহরের বাহিরে যাচ্ছে এবং অন্য জেলা থেকে লোক বহন করছে। তাতে করে করোনার ঝুকি আরো বাড়ছে। মিনি ট্রাকে চড়ে বিভিন্ন লোক জেলার বাইরে যাচ্ছেন ও আসছেন এতে করে নিজের এলাকা ঝুঁকির সম্মুখীন হতে পারে। মালবাহী ট্রাক ড্রাইভাররা ট্রাক নিয়ে এসে যে যার মতো শহরে ঘুরছে, কারো নেই এ ব্যাপারে কোন দায়িত্ববোধ।

আব্দুল মন্নান বলেন, এলাকাবাসীর জন্য অনেক করছেন আপনারা, কিন্তু নিজেদের একটু উদাসীনতা ডেকে আনতে পারে মহাবিপদ। সুতরাং, মৌলভীবাজার জেলাকে বাঁচাতে এগুলোর ব্যাপারে জিরো টলারেন্স গ্রহণ করুন, শুধু মুখে বা কাগজে নয়, মাঠে কাজ দিয়ে। আপনাদের সফলতা মানে আমাদের জীবনের নিরাপত্তা, পুরো জেলার সফলতা।

লকডাউনের মধ্যও মৌলভীবাজার জেলা ও শহরের বিভিন্ন জায়গায় দিনের বেশিরভাগ সময়ে হাফ সাটার খোলেই চলছে সব দোকান কোঠা। ক্রেতারা সেখানে সামাজিক দূরত্ব না মেনে ভিড় করে মালামাল কিনছেন। মাছ ও মাংস বাজারের চিত্রও একই রকম। স্বাভাবিক সময়ের মতোই ভিড় করে মাছ ও মাংস কিনছেন তারা। ক্রেতাদের অনেকেই মাস্ক ব্যবহার করছেন না। বিশেষ করে লকডাউন উপেক্ষা করেই এসব জায়গায় নিয়মিত হাট বসছে। এ সময় প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশের আগমন টের পেয়ে তারাতাড়ি করে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের পালাতেও দেখা যায়। আর এসব কারনে কিন্তু করোনার ঝুকি দিনদিন বাড়ছে আমাদের প্রাণের শহর মৌলভীবাজার জেলা।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষের রাস্তায় বের হওয়া বন্ধ করতে মাইকিং করা ছাড়াও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর টহল হয়েছে। এছাড়া বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে সকল দোকানপাট ও যানবাহন চলাচল শুধু জরুরি সেবা ছাড়া। এতকিছুর পরও প্রতিদিন রাস্তাঘাট, হাটবাজার ও ব্যাংকসহ বিভিন্ন স্থানে লোকসমাগম হচ্ছে। ত্রাণের আশায় মানুষ ভিড় করছেন বিভিন্ন স্থানে। কেউ খাদ্যসামগ্রী নিয়ে এলেই ঘিরে ধরছে তাদের। এক্ষেত্রে কোথাও মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সামাজিত দূরত্ব বজায় রেখে হাট বসালেও দোকান কিংবা কাঁচাবাজারে সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না। কাজের জন্য শ্রমিক, দিনমজুর বাইরে বের হয়ে এসেছে। এদিকে জেলার ব্যাংকগুলোতেও দেখা গেছে অসংখ্য মানুষের ভিড়।

সম্প্রতি সময়ে জেলার বেশকিছু বাজারে সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখা, অযথা বাজারে ঘুরাফেরা ও নিয়ম না মেনে দোকান খোলা রাখার অপরাধে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজনকে জরিমানা আদায় করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। আর এসব কারনে কিন্তু করোনার ঝুকি দিনদিন বাড়ছে আমাদের প্রাণের শহর মৌলভীবাজার জেলায়।

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন Accept আরও পড়ুন