৩টি বইয়ের মোড়ক উম্মোচন : আলোকিত সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে বইয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ : ভাষা সৈনিক রেজাউল করিম

104
gb

 

আলোকিত সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে বইয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করে ভাষা সৈনিক রেজাউল করিম বলেছেন, মানব সভ্যতার সূচনা থেকে মানুষের বই পাঠের তথ্য পাওয়া যায়। বই পড়ার অভ্যাস মানুষের নীরবে কিংবা সরবে হলেও কালের পরিক্রমায় মানুষ তথ্য জানার জন্য বারবার কিছু পড়ার প্রতি মনোনিবেশ করেছে। বই পড়া মানুষের এমন একটি দক্ষতা, যার কারণে মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার দ্রুত উন্নতি সাধন হয়। পাঠ অভ্যাস থেকে বিরত থাকা একটি অনেক বড় ধরনের অদক্ষতার পরিচায়ক।

সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ / ১১ ফাল্গুন ১৪২৬) বই মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ‘গ্রন্থ উম্মোচন মঞ্চে’ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির উদ্যোগে মুহাম্মদ আমির হোসেন রচিত ‘ধর্ষিত আমার মৃতিকা’, সৌদি প্রবাসী মুসাফির মজনু রচিত ‘প্রেম বিরহ দ্রোহ’ ও হামিদা খানম রচিত ‘তুমিও পারবে’ বইয়ের মোড়ক উম্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সংগঠনের চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা’র সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় বইয়ের মোড়ক উম্মোচন ও আলোচনায় অংশগ্রহন করেন ভাষা সৈনিক মো. মঞ্জুরুল হক সিকদার, ৬৯’র ছাত্র নেতা কবি সিরাজুল করিম, বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব ও কলাম লেখক এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, কবি মাহমুদ হাসান নিজামী, অভিনেতা কবি সোহেল রশিদ, উপস্থাপক টিমুনি খান প্রমুখ।ভাষা সৈনিক রেজাউল করিম বলেন, অনেক সমাজ ও রাষ্ট্রে দেখা যায়, পাঠ কিংবা বই পড়ার আগ্রহ তৈরি করার জন্য তাদের তেমন কোনো কর্মসূচি নেই। তারা বিষয়টিকে অনেকটা ঐচ্ছিক মনে করেন। কিন্তু ইসলাম ধর্ম এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। পবিত্র ধর্ম ইসলামও মানুষকে পাঠের প্রতি উৎসাহ প্রদান করেছে। এ প্রসঙ্গে কোরআনে কারিমে বলা হয়েছে, ‘যারা জানে আর যারা জানে না তারা সমান হতে পারে না।’ভাষা সৈনিক মো. মঞ্জুরুল হক সিকদার বলেন, বই পড়া মানসিক প্রক্রিয়াকে সক্রিয় রাখে। বই পড়লে মস্তিষ্ক চিন্তা করার খোরাক পায়, সৃজনশীলতা বাড়ে এবং তথ্য ধরে রাখার ক্ষমতা সৃষ্টি হয়। বই পড়লে মানুষ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আধুনিক মনস্ক হয়ে ওঠে।

তিনি বলেন, মানব জীবনে বইয়ের গুরুত্বের কথা স্মরণ করে টলস্টয় বলেছেন, ‘জীবনে মাত্র তিনটি জিনিসের প্রয়োজন বই, বই এবং বই।’বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, জ্ঞানার্জনের প্রধান মাধ্যম হচ্ছে বই। জীবনকে সফলতার আলোয় আলোকিত করার প্রধান উপায় হচ্ছে বই। বই পড়েই জ্ঞানার্জন করতে হবে। পৃথিবীতে যারা বড় হয়েছেন, জগদ্বিখ্যাত সফল মানুষ হয়েছেন, তারাই বেশি বেশি জ্ঞান অন্বেষণে সময় দিয়েছেন।তিনি বলেন, বই হচ্ছে শেখবার, জানবার ও জ্ঞানার্জনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। দেশ ও জাতি গঠনে বইয়ের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতির অগ্রগতি সম্ভব নয়। আর সহজ উপায়ে মানুষের মধ্যে শিক্ষা ও জ্ঞানের আলো ছড়াতে সমাজের জন্য বই অপরিহার্য। বইয়ের বিকল্প আর কিছুই হতে পারে না।সভাপতির বক্তব্যে মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা বলেন, বইমেলা তার ঐতিহ্য অক্ষুন্ন রেখে দেশব্যাপী জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ অব্যাহত রাখুক। সফল ও স্বার্থক হোক এবারের বইমেলা। বই হোক মানুষের নিত্যসাথী।আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ন্যাপ ভাইস চেয়ারম্যান স্বপন কুমার সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শহীদুননবী ডাবলু, মো. কামাল ভুইয়া, জাতীয় মানবাধিকার সমিতির কুমিল্লা জেলার আহ্বায়ক পারভেজ হোসেন বাবু, ঢাকা মহানগর নেত্রী আয়শা সিদ্দিকা, চুয়াডাঙ্গা জেলার আহ্বায়ক মো. রবিউল ইসলাম, সদস্য মো. বাবলু রহমান, কবি সুমাইয়া কবির খান প্রমুখ।

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন Accept আরও পড়ুন