ট্রাম্পের ভয়ে কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশ্চুপ, প্রশ্ন মেননের

জিবিনিউজ 24 ডেস্ক //

ফিলিস্তিন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যে পরিকল্পনা করছে ফিলিস্তিনিদের ওপর আঘাত আসতে পারে বলে মনে করন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির চেয়ারম্যান রাশেদ খান মেনন। এ বিষয়ে বাংলাদেশের নীরবতার সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন রাখেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভয়ে বাংলাদেশ ভীত কি না? ট্রাম্পপ্রীতির কারণে কি পররাষ্ট্র মন্ত্রী নিশ্চুপ? ট্রাম্পের ভয়ে কি এটা করা হচ্ছে?

বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এই প্রশ্ন রাখেন মেনন। তিনি এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করেন। সংসদে সভাপতিত্ব করছিলেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

 

রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘ফিলিস্তিনি সমস্যা দীর্ঘদিনের এবং ফিলিস্তিনি সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে বাংলাদেশের নীতি হচ্ছে ফিলিস্তিনিদের সংগ্রামে সমর্থন করা। সম্প্রতি দেখলাম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোলান্ড ট্রাম্প, তিনি যেদিন তার অভিসংশনের প্রক্রিয়া চলছে সেই দিনই তিনি নেতানিয়াহুকে (ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী) সামনে নিয়ে এবং আরেকজন বিরোধী নেতাকে সামনে নিয়ে একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করলেন ফিলিস্তিন সম্পর্কে যেখানে ফিলিস্তিন সম্পর্কে দুই রাষ্ট্রের সমাধান যেটা জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক বিশ্ব কর্তৃক স্বীকৃত। সেই সামাধান চুক্তি সম্পূর্ণভাবে নস্যাৎ করে পুরো ফিলিস্তিনকে ইসরায়েলের হাতে তুলে দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

মেনন বলেন, ‘পরিকল্পনার মধ্যে যেটুক ফিলিস্তিনের জমি রয়েছে সেটি হচ্ছে পুরোনো ফিলিস্তিনের মাত্র ১২ শতাংশ। তা-ও এটাকে বিক্ষিপ্তভাবে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ থেকে তাদের যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে হবে। ওই পরিকল্পনায় বলা হচ্ছে, ফিলিস্তিনের সমাধানের ক্ষেত্রে ফিলিস্তিনে কোনো আর্মি থাকতে পারবে না। মুক্তিযোদ্ধাদের নিরস্ত্র করতে হবে।’

তিনি বলেন, ফিলিস্তিন সরকার, ওআইসি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে। বাংলাদেশ সব সময় ফিলিস্তিনের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এই পরিকল্পনার ব্যাপারে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত কোনো শব্দ উচ্চারণ করেনি। এই ফিলিস্তিনের পক্ষে বাংলাদেশ সবসময় দাঁড়িয়েছে। বঙ্গবন্ধুর কাছে যারা ছিলেন, তখন জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন ছিল তখন ছিলেন ইয়াসির আরাফাত। প্রধানমন্ত্রী যখন দেশের রজতজয়ন্তী উৎসব পালন করার জন্য ব্যবস্থা করেন তখন যে তিনজনকে ডেকেছিলেন তার মধ্যে একজন ছিলেন ইয়াসির আরাফাত। কিন্তু অবাক হচ্ছি ইসরায়েলের এই পরিকল্পনার ব্যাপারে একদম কোনো শব্দ, একটি শব্দও তারা (আওয়ামী লীগ) উচ্চারণ করে নাই।’

মেনন বলেন, ‘খোঁজ নেয়ার চেষ্টা করেছি, শুনেছি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) করবে। বাংলাদেশ চিরকাল ফিলিস্তিনের পক্ষে। ফিলিস্তিনের জনগণ ওই পরিকল্পনাকে প্রত্যাখ্যান করেছে, এমনকি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ওআইসি প্রত্যাখ্যান করেছে। তারপরেও বাংলাদেশ এ ব্যাপারে পরিপূর্ণভাবে নিশ্চুপ। এটা ডোনাল্ড ট্রাম্প সাহেবের ভয়ে কি না-আমার জানা নেই। কারণ ডোনাল্ড সাহেব কদিন পর ভারত যাবেন। সেখানে মোদি সাহেবের সঙ্গে মিলে এই অঞ্চলের ভাগ্য নির্ধারণ করবে, সেখানে বাংলাদেশ কোন অবস্থানে থাকবে?’

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে মেনন বলেন, দুদিন আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে বক্তৃতা দিয়েছেন। তিনি অর্থনীতির কথা বলেছেন। কিন্তু সীমান্তে হত্যা, পররাষ্ট্রনীতির কথা, ফিলিস্তিনের সমস্যার কথা তাঁর বক্তব্যে ছিল না। রোহিঙ্গা সংকটের নাকি সুদূর ভবিষ্যতে একটি সমাধান আসবে। অদূর ভবিষ্যতে না।

জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বলেন, ফিলিস্তিন সম্পর্কে আমাদের নীতি আজও বলবৎ। সেদিন ওআইসির সভায় আবারও বলেছি। সুতরাং, এ নিয়ে সন্দেহের কোনো কারণ নেই। আর ভারত সীমান্তে হত্যার বিষয়টি তিনি তাঁর বক্তৃতায় উদ্ধৃত করেছেন।

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন Accept আরও পড়ুন