ওসমানীনগরে প্রভাব বিস্তার করে মনগড়া ম্যানেজিং কমিটি প্রধান শিক্ষককের বিরুদ্ধে ৪০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ!

স্টাফ রির্পোটার::
ওসমানীনগরে বহিরাগতদের বিদ্যালয়ে এনে প্রভাব বিস্তার করে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অনিয়মের মাধ্যমে পরিচালনা কমিটি গঠনের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ে দ্বায়িত্বে থাকাকালিন সময়ে জাল ভাউচারের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের ফান্ড থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা আত্মসাত করে নিয়েছেন ওই বিদ্যালয়ের সদ্য অবসর নেয়া প্রধান শিক্ষক বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে গত ১৭ ডিসেম্বর উপজেলার গোয়ালাবাজার আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিবাবকদের পক্ষ থেকে সিলেট জেলা প্রশাসক, সিলেট শিক্ষা বোর্ডর চেয়ারম্যানসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এদিকে গত ১১ নভেম্বর বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির চার সদস্য স্বাক্ষরিত চলতি বছরের ৩০ সেপ্টম্বর অবসরে যাওয়া বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল লেইসের অনিয়ম ও উন্নয়ন ফান্ড থেকে অর্থ আতœসাতের অভিযোগ এনে সিলেটের সহকারী জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ দেয়া হলেও রহস্যজনক কারণে এখনও ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, অবসরে যাওয়া ওই প্রধান শিক্ষক নিজের আর্থিক অনিয়মগুলোকে পরিচালনা কমিটি কর্তৃক জায়েজ করে নেয়ার ফায়তারায় পূর্বের কমিটি ভেঙ্গে কৌশলে তার নিজস্ব লোকজনের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের করিয়ে তরিঘরি করে নতুন পরিচালনা কমিটি গঠন করে নিয়েছেন। অনিয়মের মাধ্যমে পরিচালনা কমিটি গঠন ও সাবেক প্রধান শিক্ষকের আর্থিক অনিয়মগুলো প্রশাসন কর্তৃক তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন না করায় অভিবাবক ও বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোয়ালাবাজার আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের (২০২০-২০২১ ইং সালের) ম্যানেজিং কমিটি গঠনের লক্ষে গত ৯ ডিসেম্বর এক সভা আয়জোন করা হয়। সভায় ওই বিদ্যালয়ের প্রায় ১২শ শিক্ষার্থী অভিবাবকের মধ্যে এক তৃর্তীয়াংশ সদস্যদের কোন প্রকার চিঠি কিংবা অবগত না করে মনগড়া কমিটি গঠনের স্বার্থে বহিরাগত ৪০/৫০ জন যুবকদের সভায় নিয়ে আসেন সংশ্লিষ্টরা। পরবর্তীত্বে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পেয়ে একাধিক অভিবাবকরা সভায় অংশগ্রহন করেন। সভার কর্যক্রম শুরু হওয়ার সাথে সাথে আগ থেকে গঠন করা গোপন কমিটি তাদের মনোনিত ব্যক্তিবর্গদের সমর্থন এবং তাদের মাধ্যমে কমিটি দিতে বহিরাগত ওই যুবকরা চাপ সৃষ্টি করেন। এ সময় অভিবাবক কমিটির সদস্য রুমেল আহমদ ভোটের মাধ্যমে কমিটি গঠনের প্রস্তাব জানালে বহিরাগত ওই যুবকরা হট্টগুল ও উত্তেজনা সৃষ্ঠি করে তাদের মনোনিত লোকজন ছাড়া কাউকে কোন প্রার্থী হতে দেওয়া হয়নি। তাদের এমন কর্মকান্ড দেখে সভায় উপস্থিত সাধারণ অভিবাবকরা সভাস্থল ত্যাগ করে চলে আসেন। সাধারণ অভিবাবকরা সভাস্থল থেকে চলে আসারপর বহিরাগত ওই যুবকদের উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে তাদের মনোনিত ব্যক্তিদের দিয়ে বেআইনিভাবে মনগড়া কমিটি গঠন করা হয়। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে কমিটি গঠন করা হলেও মনগড়া কমিটিতে স্থান পাওয়া ব্যক্তিরা অবৈধ ভাবে মনোনয়ন পত্র ফরম পূরণ করে নির্বাচনের মাধ্যমে সুষ্ঠ কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রেরন করে কমিটি অনুমোদনেরও চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সদ্য অবসরে যাওয়া প্রধান শিক্ষক আবুল লেইস ২০০৯ সাল থেকে দ্বায়িত্ব গ্রহনের পর থেকে নিজের পকেট ভারি করতে নিজের মনোনিত প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গদের বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটিতে এনে বার বার সিলেকশনে কমিটি বহাল রেখেছেন। পরবর্তীতে ম্যনেজিং কমিটিতে থাকার তার মনোনিত প্রভাবশালী ব্যাক্তিদের ম্যানেজ করে বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ফান্ড থেকে ভিবিন্ন সময়ে টাকা উত্তোলন এবং খরচের কোন সচ্ছ হিসাব না দিয়ে ৩০ সেপ্টম্বর অবসরে যান প্রধান শিক্ষক আবুল লেইস। অবসরে যাওয়া পূর্বে সরকার ঘোষিত মিড টু মিল চালুর লক্ষে সভায় উপস্থিত পরিচালনা কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষর নিয়ে কৌশলে বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ফান্ড থেকে আরও দেড় লক্ষ টাকা উত্তোলন করে নেন। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বাৎস্যরিক মিলাদ মাহফিলের জন্য তোলা টাকা থকে অবশিষ্ট ৯৮ হাজার টাকাও আত্মসাত করে নিয়ে যান। মিলাদ মাহফিলে টাকা আত্মসাতের খবর পেয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির একাধিক সদস্যরাসহ অভিবাবকরা প্রতিবাদী হয়ে উঠলে চাপের মুখে পরে অবসর যাওয়ার তিন মাস পর গত ৩ ডিসেম্বর মিলাদ ফান্ডের ৯৮ হাজার টাকা বিদ্যালয়ের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কাছে জমা দিলেও উন্নয়ন ফান্ড থেকে উত্তোলিত টাকা গুলো এখনও দিচ্ছেন না। এছাড়া ওই শিক্ষক দায়িত্বে থাকাকালিন সময়ে ২০১৮ সালের বিদ্যালয়ে এসএসসি পরিক্ষার সেন্টার স্থাপন করার লক্ষে কমিটিতে থাকা এক ব্যক্তি বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ফান্ড থেকে ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করে নিলেও এখনও সেই টাকার কোনো হদিস মিলেনি। লিখিত অভিযোগে প্রধান শিক্ষক আবুল লেইছ বিদ্যালয়ের দ্বায়িত্ব থাকাকালিন সময়ে ভিবিন্ন জাল ভাউচারের মাধ্যমে বিভন্ন সময়ে উন্নয়ন ফান্ড থেকে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের বিষয়টি তদন্ত পূর্বক দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন ও অনিয়মের মাধ্যমে মনগড়াভাবে গঠিত ম্যানেজিং কমিটি বাতিল পূর্বক শিক্ষার মান বজায় রাখতে নির্বাচনের মাধ্যমে ম্যনেজিং কমিটি গঠনের দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান অভিবাকরা।
এ ব্যাপারে সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম, খোঁজ নিয়ে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন Accept আরও পড়ুন