চাকরিচ্যুতদের বহালের দাবি ডিইউজের শনিবার এসএটিভিতে তালা দেয়ার কর্মসূচি ঘোষণা

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা প্রতিনিধি //

নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে এসএটিভির ব্রডকাস্ট ও প্রোগ্রাম বিভাগের ১০ কর্মীকে ছাঁটাই এবং ৮ সংবাদকর্মীকে শুধুমাত্র কারণ দর্শানো নোটিশের মাধ্যমে বরখাস্তকৃতদের চাকরিতে বহাল না করলে আগামী ৭ ডিসেম্বর শনিবার এসএটিভি কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয়ার কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন- ডিইউজে নেতারা। বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে গুলশানে প্রতিষ্ঠানটির সামনে অবস্থান কর্মসূচি থেকে এ ঘোষণা দেন তারা। দীর্ঘদিন ধরে চলা এসএটিভিতে বকেয়া বেতন এবং সম্প্রতি সাংবাদিক ও বিভিন্ন বিভাগের কর্মী ছাঁটাইয়ের ইস্যুতে উত্তপ্ত পরিস্থিতি চলছে । এরই পরিপ্রেক্ষিতে ডিইউজে নেতারা বিষয়টির সুরাহার জন্য গেল ৭ অক্টোবর এসএটিভি কর্তৃপক্ষ এবং কর্মীদের সমন্বয়ে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির মালিক চুক্তির তোয়াক্কা না করে ছাঁটাই এবং বেতন বকেয়াসহ নানা অনিয়ম নির্যাতন শুরু করেন। এতে আবারো বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন কর্মীরা। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে ডিইউজে নেতারা গত ৩ ডিসেম্বর আলোচনার জন্য প্রতিষ্ঠানটিতে যান। কিন্তু ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালাহউদ্দিন আহমেদ নেতাদের সময় দিয়েও আলোচনায় না বসে পরদিন ৪ ডিসেম্বর বিকেলে আলোচনার জন্য ডিইউজে নেতাদের আসতে বলেন। ৪ ডিসেম্বর বুধবার সালাহউদ্দিন আহমেদ আলোচনা হবে না বলে তাদেরকে জানিয়ে দিলে বৃহস্পতিবার অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন। কর্মসূচিতে ডিইউজে সভাপতি আবু জাফর সুর্য বলেন, এসএটিভির মালিক তার প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মতো ডিইউজের সাথেও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে একের পর এক গেম খেলছেন। তার এই হঠকারিতা প্রমাণ করেছে যে তিনি তার প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সাথে কী ধরনের অন্যায় জুলুম করছেন। তিনি এসএটিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালাহউদ্দিন আহমেদকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি শনিবার সকাল ১১ টার মধ্যে চাকরিচ্যুত ৮ সাংবাদিক ও ১০ কর্মীকে বহাল করা না হয়, তাহলে ওইদিন আপনার প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হবে। এসময় ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী এসএটিভির মালিকের উদ্দেশ্য বলেন, আপনার দুর্নীতি-অপকর্ম ফাঁস হওয়ার আগে চাকরিচ্যুতদের বহাল করুন। না হলে আপনার যাবতীয় অপকর্মের তথ্য জাতির সামনে তুলে ধরে আপনার মুখোশ খুলে দেয়া হবে। অবস্থান কর্মসূচিতে আরো বক্তব্য রাখেন, ডিইউজের যুগ্ম সম্পাদক আকতার হোসেন, দপ্তর সম্পাদক উম্মুল ওয়ারা সুইটি, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ, রংপুর বিভাগীয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মোকছুদার রহমান মাকসুদ, টেলিভিশন ক্যামেরা অ্যাসোসিয়েশন- টিসিএর সাধারণ সম্পাদক ফারুক বিপ্লবসহ এসএটিভি চাকরিচ্যুত সাংবাদিক-কর্মী এবং প্রতিষ্ঠানটির সব স্তরের কর্মীরা। ৮ সংবাদকর্মীকে চাকরিচ্যুত করে নিউজরুমে মোরগ পোলাও খেলেন হেড অব নিউজ মাহমুদ আল ফয়সাল: এসএটিভির ব্রডকাস্ট ও প্রোগ্রাম বিভাগের ১০ কর্মীকে ছাঁটাই পর ৮ সংবাদকর্মীকে শুধুমাত্র কারণ দর্শানো নোটিশের মাধ্যমে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। বিকেলে এসএটিভি কার্যালয়ের সামনে যখন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের অবস্থান কর্মসূচি চলছিল। ঠিক তখনই অ্যাডমিন অ্যান্ড এইচ আর থেকে স্টাফ রিপোর্টার মো. জুনায়েদ আলী (সাকী), পিএম বিটের স্টাফ রিপোর্টার এস এম মাহমুদুল হাসান, স্টাফ রিপোর্টার মাহমুদুল হক সরকার, স্পোর্টসের স্টাফ রিপোর্টার মো. আরিফ হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার মঞ্জুরুল হাসান মিলন, স্টাফ রিপোর্টার মো. মুহসীন কবীর, সিনিয়র নিউজরুম এডিটর খালিদ বিন আনিস এবং ক্যামেরাম্যান মো. আনোয়ার হোসেনের চূড়ান্ত চাকরিচ্যুত করার চিঠি নিয়ে নিউজরুমে ঢোকেন মাহমুদ আল ফয়সাল। এরপর নিউজরুমের এই আটজনকে চাকরিচ্যুত করতে পারার আনন্দে তিনি সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে তার কক্ষে মোরগ পোলাও পার্টি দেন। সকাল থেকেই তিনি নিউজরুমে ছিলেন বহিরাগত বেস্টিত। প্রতিষ্ঠানটির শতাধিক গণমাধ্যমকর্মীকে চাকরিচ্যুত করার চক্রান্তসহ নানাভাবে নাজেহাল করার জের ধরে এই ফয়সাল গত ২৭ নভেম্বর সব পর্যায়ের কর্মীদের তোপের মুখে পড়েন। এক পর্যায়ে তিনি নিরাপদে অফিস থেকে বের হয়ে যেতে বাধ্য হন। এরপর হেড অব নিউজ মাহমুদ আল ফয়সালের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে এসএটিভির সব পর্যায়ের কর্মীরা একজোট হয়ে গণস্বাক্ষর করেন। প্রতিষ্ঠানটির ১৫০ জনেরও বেশি কর্মী তার বিরুদ্ধে গণস্বাক্ষর দিয়ে অনাস্থা জানিয়েছেন। এরপরও হেড অব নিউজ মাহমুদ আল ফয়সাল এসএটিভিতে বহাল থাকায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। উল্লেখ্য, দুর্নীতিসহ নানা অপকর্মের দায়ে ২০১৭ সালের ৩ আগস্ট মাহমুদ আল ফয়সালকে অব্যাহতি দিয়েছিল এসএটিভি কর্তৃপক্ষ।

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন Accept আরও পড়ুন