কুশিয়ারা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন,প্রতিবাদে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

189
gb

জিবি নিউজ ।।

হঠাও বালুখেঁকো বাঁচাও কুশিয়ারা, রক্ষা করো ক্ষেতমজুরের বসতি। এই শ্লোগানকে ধারণ করে ফুঁসে ওঠেছেন খলিলপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের মানুষ। মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বাহাদুরপুর অংশে কুশিয়ারা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে এই এলাকায় নদী ভাঙন ত্বরান্বিত হচ্ছে। এর প্রতিবাদে ও নদী ভাঙন থেকে এলাকার মানুষকে রক্ষার দাবিতে স্থানীয় ভূক্তভোগী জনসাধারণ মানববন্ধন করেছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে কুশিয়ারা নদীর তীরে ভাঙন কবলিত এলাকায় জনসাধারণ এ কর্মসূচী পালন করেন। এদিকে ভূক্তভোগী এলাকার ইউপি মেম্বারসহ সর্বসাধারণ সাক্ষরিত একখানা অভিযোগপত্র জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে তারা দেন। জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া অভিযোগ ও স্থানীয় মানুষের বক্তব্যে জানা যায়, বেশ কিছু দিন ধরে স্থানীয় তালুকদার এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সদর উপজেলার কুশিয়ারা নদীর বাহাদুরপুর অংশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে।

এতে একদিকে বাহাদুরপুর, নিজবাহাদুরপুর এলাকার লোকালয়, ফসলী জমি ভাঙনের মুখে পড়েছে। অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব। সম্প্রতি বাহাদুরপুর গ্রামের ভূক্তভোগী মানুষের অভিযোগের ভিত্তিতে সদর উপজেলা সহকারী ভূমি কমিশনারের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালত বালু উত্তোলনকারীচক্রের ২টি ড্রেজার, ৪টি নৌকা ও ৬ শ্রমিককে আটক করেন। এরপর ওই আদালত স্বাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ৫০ হাজার টাকা জরিমানার রায় দিয়ে তা আদায় করেন। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন না করার শর্তে মুচলেকা নিয়ে ড্রেজার, নৌকা ও আটক শ্রমিকদের ড্রেজার মালিকদের জিম্মায় ছেড়ে দেন। অভিযোগ রয়েছে এই ঘটনার একদিন যেতে না যেতে ফের এই চক্র বালু উত্তোলন শুরু করেছে। ফলে এলাকার মানুষ বিক্ষুব্দ হয়ে ওঠেন।

একই সাথে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে এবং বসতবাড়ি ও ফসলী জমি ভাঙন কবল থেকে রক্ষার দাবিতে নদীর তীরে মানববন্ধন করেছেন।

এ সময় বক্তব্য রাখেন বাহাদুরপুর গ্রামের কৃষিজীবী রেহমান মিয়া, সাজন মিয়া, শাহাব উদ্দিন, আব্দুস শহীদ, সাইফুল ইসলাম, মনির হোসেন প্রমুখ।

জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন মোবাইল ফোনে ক্রিয়েটিভ নিউজ বিডিকে জানান সরেজমিন তদন্ত করে ফের বালু উত্তোলনের সত্যতা পাওয়া গেলে বালু উত্তোলনকারী চক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।