শুদ্ধি অভিযানের পর থেকে সরব দুদক

34
gb

জিবি নিউজ ২৪

ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিসহ বিভিন্ন দুর্নীতিসংক্রান্ত অভিযোগের অনুসন্ধান ও তদন্তে সম্প্রতি ব্যস্ত হয়ে পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের কর্মঘণ্টার বেশিরভাগই ব্যয় করছেন অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং এ সংক্রান্ত নথিপত্র সন্নিবেশনে। দুদকে একের পর এক তলব করা হচ্ছে রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের প্রভাবশালী অনেক ব্যক্তিকেই। সঙ্গত কারণেই দুদক কার্যালয়ের সামনে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গণমাধ্যমকর্মীদের আনাগোনাও বেড়েছে। আর গোয়েন্দা সংস্থার তৎপরতা তো রয়েছেই। সব মিলিয়ে অনেক বেশি সরব হয়ে উঠেছে দুদক।

রাষ্ট্রের নানা রকম দুর্নীতি দমনে কাজ করে থাকে দুদক। ঘুষ, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, লুটপাট, প্রতারণা ও জাল-জালিয়াতিসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম সারাবছরই চলে। কিন্তু সম্প্রতি দুদক অনেক বেশি সরব হয়ে পড়েছে ক্যাসিনো কেলেঙ্কারি, বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্পে ও সরবরাহ কাজে দুর্নীতি এবং অবৈধভাবে অর্থ অর্জনকারী শতাধিক ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জমাপড়া অভিযোগের অনুসন্ধান ও তদন্ত নিয়ে। এমনটাই মনে করছেন দুদক কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, সরকারের শুদ্ধি অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে তাদের ব্যস্ততা যারপরনাই বেড়ে গেছে।             ফকিরাপুল ইয়ংমেন্স ক্লাবে অবৈধ ক্যাসিনো কারবার পরিচালনার অভিযোগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন আওয়ামী যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। অস্ত্র, মাদক ও মুদ্রাপাচার আইনে খালেদের বিরুদ্ধে ৪টি মামলা হয়। পরবর্তী সময়ে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। এর পর গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নিকেতন থেকে নগদ ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা, ১৬৫ কোটি টাকার স্থায়ী আমানতের (এফডিআর) কাগজপত্র, ৯ হাজার মার্কিন ডলার, ৭৫২ সিঙ্গাপুরি ডলার, একটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয় যুবলীগের আরেক নেতা জিকে শামীমকে। রাজধানীর বিভিন্ন ক্লাবে ক্যাসিনোর নামে অবৈধ জুয়ার আসর বসিয়ে কোটি কোটি টাকা কামানোর দায়ে একের পর এক প্রভাবশালী নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয় যাদের অধিকাংশই ক্ষমতাসীন দল বা এর সহযোগী সংগঠনের নেতা। এর পরই এসব ক্লাবের দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে দুদকে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের বিস্তর অভিযোগ জমা পড়তে থাকে। দুদক ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে অভিযোগ অনুসন্ধানে মাঠে নামে। শতাধিক ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আনীত অসংখ্য অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে অনেককেই দুদকে তলব করা হয়। অভিযুক্তদের তলবে নোটিশ প্রদান, আত্মপক্ষ সমর্থনে তাদের বক্তব্য গ্রহণ ও অনুসন্ধান শেষে মামলা দায়েরসহ বিভিন্ন কাজে সঙ্গত কারণেই ব্যস্ত হয়ে পড়েন দুদকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সরেজমিনে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সেগুনবাগিচার দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করে দেখা গেছে, দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে সাক্ষী দিতে নোটিশ দেওয়া হচ্ছে অনেককে। যাদের নোটিশ দেওয়া হচ্ছে তাদের অনেকে হাজির হচ্ছেন। দুদকের নোটিশ পেয়ে গতকাল দুদকে হাজির হয়েছেন কক্সবাজারের সাবেক এক এমপিসহ গণপূর্ত অধিদপ্তরের ৭ প্রকৌশলী। এ ছাড়া সকালে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রমনা থেকে দুদকে নিয়ে আসা হয় রিমান্ডে থাকা জিকে শামীম ও খালেদ মাহমুদকে। দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের পাঠানো হয় কারাগারে। শুধু তারাই নন, আরও অনেকের বিরুদ্ধে অভিযোগের অনুসন্ধান সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে বক্তব্য প্রদানের জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তির নামে নোটিশ প্রদান ও সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিলের জন্য নোটিশ প্রদানসহ নথিপত্র তৈরি করছেন। যে পরিমাণ দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়েছে, তার অনুসন্ধান ও তদন্তকাজ পরিচালনা করতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন কর্মকর্তারা।                                   দুদকের তথ্য শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, অভিযোগ সম্পর্কিত বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে প্রতিদিন অফিস চলাকালে অনেকেই এখানে হাজির হচ্ছেন। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত তাই সংবাদ সংগ্রহে অনেক গণমাধ্যমকর্মীর উপস্থিতিও লক্ষ করা যাচ্ছে। গত মাসখানেক ধরে দুদক তাই খুবই সরব।

দুদকের বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত শাখার এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা সারা বছরই দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান, মামলা দায়ের, আসামি গ্রেপ্তার, মামলার তদন্ত, আদালতে চার্জশিট দাখিল ও সাক্ষী প্রদান নিয়ে কাজ করে থাকি। কিন্তু ক্যাসিনো কা-ের পর আমাদের ব্যস্ততা অনেকটা বেড়েছে। হঠাৎ করে শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগের অনুসন্ধান সম্পন্ন করতে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহে অনেক দৌড়ঝাঁপ করতে হচ্ছে। অনেক সময় নির্ধারিত কর্মঘণ্টার পরও অফিসের কাজ করতে হচ্ছে। আমরা খুবই ব্যস্ত সময় পার করছি।

দুদকের মুখপাত্র উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য আমাদের সময়কে বলেন, রাষ্ট্রের দুর্নীতি বন্ধে ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সব সময়ই কাজ করে দুদক। বর্তমান কমিশন দুর্নীতির বিরুদ্ধে সক্রিয়া ভূমিকা পালন করছে। কোথাও দুর্নীতি হচ্ছে, এমন সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুদক সেখানে যাচ্ছে। তিনি বলেন, দুর্নীতি করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। ক্যাসিনো কা-ে একসঙ্গে অনেক অভিযোগ দুদকে জমা হয়েছে। এসব অভিযোগ অনুসন্ধান ও তদন্তের বিষয়ে মানুষের একটু বেশি আগ্রহ থাকায় গণমাধ্যমও এ বিষয়ে তৎপর রয়েছে।

gb

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More