আট বছর পর ফের উত্তাল মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা

176
gb

জিবি নিউজ ২৪ ডেস্ক//

হতাশা ও ক্ষোভের কারণে আরব বসন্তের আট বছর পর আবারো সরকার-বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল হয় উঠছে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ। তীব্র আন্দোলনের মুখে আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ থেকে শুরু করে সুদানে সরকার-বিরোধী আন্দোলন।

বেকারত্ব আর জীবনমান উন্নয়নের দাবিতে বিক্ষোভের দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে ইরাক ও লেবানে। নতুন করে বিক্ষোভের চেষ্টা হয়েছে মিশরেও। বিশ্লেষকরা বলছেন, বেকারত্বের কারণে ফুঁসে উঠছে মধ্যপ্রাচ্যের তরুণরা।

চলতি বছর তীব্র আন্দোলনের মুখে আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট আব্দেল আজিজ বুতেফ্লিকার পদত্যাগের পর বছরজুড়েই বিক্ষোভে উত্তাল মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। আরব বসন্তের পর আবারো বিক্ষোভের ঢেউ লেগেছে মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোতে।

বেকার সমস্যা নিরসন ও নাগরিক সেবা বাড়ানোর দাবিতে টানা কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভে উত্তাল ইরাক। বিক্ষোভের কারণে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে রাজধানী বাগদাদসহ দেশটির বিভিন্ন শহর।

বিক্ষোভকারীরা বলছে, জাতি হিসেবে আমরা অনেকে সম্মানজনক অবস্থানে ছিলাম। কিন্তু আমরা এখন উদ্বিগ্ন। আমাদের পাসপোর্ট এখন বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ পাসপোর্ট। শুধুমাত্র দুর্নীতির কারণে আমাদেরকে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে হেয় হতে হয়। বিশ্বের চতুর্থ তেল সমৃদ্ধ দেশ হওয়া স্বত্তেও আমরা সবচেয়ে গরিব দেশ।

একই দাবিতে বিক্ষোভ চলছে মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ লেবাননে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সা’দ হারিরির পদত্যাগের পর বিক্ষোভ যেন আরো জোরদার হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, হতাশা আর ক্ষোভ থেকেই আরব তারুণ্যে অসন্তোষের ঢেউ। তেলের মূল্য কমে যাওয়া, দুর্নীতি এবং তরুণদের বেকারত্বের কারণে আরব বসন্তের আট বছর পর আবারো দেশে দেশে শুরু হয়েছে সরকার-বিরোধী বিক্ষোভ।

লেবানিজ আমেরিকান ইউনিভার্সিটির সহযোগিত অধ্যাপক মাহমুদ আরাইসি বলেন, তরুণরা যদি কাজ না পায়। সেদেশের অর্থনীতিতে যদি ভূমিকা না রাখতে পারে। তাহলে তারা কোথায় যাবে? তারা বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে হাত মেলাবে। মাদকাসক্ত হয়ে পড়বে। সমাজে নতুন নতুন অপরাধ বাড়বে। যে কোনো দেশের জন্য বেকারত্ব ভয়াবহ একটি সামাজিক সমস্যা।

আট বছর আগে যেসব বঞ্চনা আরব বসন্তের সূচনায় ভূমিকা রেখেছিল সেগুলো আরও গভীর ও বিস্তৃত হয়েছে। ২০১১ সালে এক ফল ব্যবসায়ীর আত্মাহুতির ঘটনায় যে দেশ থেকে বিক্ষোভের দাবানল ছড়িয়ে পড়েছিল সেই তিউনিসিয়ার অর্থনৈতিক অবস্থা আরো নাজুক।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা-আইএলও’র তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার সময় মধ্যপ্রাচ্যে তরুণদের বেকারত্বের হার ছিল বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। গত এক দশকে বিশ্বের অন্যান্য স্থানের তুলনায় এখানে বেকারত্ব আরও বেশি বেড়েছে। আরব ও উত্তর আফ্রিকার তরুণদের প্রায় ৩০ শতাংশই কোনো কাজ পাচ্ছে না।