ইয়াবায় ছেয়ে গেছে দেশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

1,752

জিবিনিউজ24 ডেস্ক:

ভয়ঙ্কর ক্ষতিকর মাদক ইয়াবায় দেশ ছেয়ে গেছে বলে সংসদে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, “আমাদের প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার থেকে ইয়াবা এসে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে আমরা নানা ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছি। কিন্তু তারপরও তা ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ”

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজীর জরুরি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে আনীত এক মনোযোগ আকর্ষণীয় নোটিশের জবাবে এ মন্তব্য করেন তিনি। এর আগে নোটিশ উত্থাপনকালে ডা. ফরাজী বলেন, “আজ দেশ মাদকের আগ্রাসনে জর্জরিত। প্রতিটি শহরে, শহর থেকে গ্রামে, এমনকি বাড়ি বাড়ি বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য পৌঁছে যাচ্ছে। ফলে স্কুল-কলেজের ছেলেরা অতি সহজে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। ” তিনি এ সময় মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরেন।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা মিয়ানমারের সীমানায় নজরদারি বাড়িয়েছি। এ ছাড়া মাদক নিয়ন্ত্রণে অনেক ব্যবস্থা নেওয়ার পরও বান্দরবানের একটা দুর্গম এলাকায় আমরা নজরদারি করতে পারি না।

এ কারণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা সীমানা সড়ক করার চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা করছে যাতে ইয়াবা না আসে। কিন্তু এখনও সে চুক্তিতে যেতে পারিনি। যে চুক্তিটি আমরা ভারতের সঙ্গে করতে সমর্থ হয়েছি। ”

মন্ত্রী বলেন, “টেকনাফে আমরা মৎস্যজীবীদের বলেছি যাতে তারা নাফ নদীতে চলাচল না করে। আমরা কোস্টগার্ডকে সতর্ক করেছি। আধুনিক স্পিডবোট ও জাহাজ ব্যবহার করছি। বর্ডার দিয়ে যাতে কোনও মাদক ঢুকতে না পারে, সে জন্য তারা নজরদারি  বাড়িয়েছে। ” তিনি বলেন, “এরপরও মাদকের ভয়াবহতা অনেক। এটা এখন একটা সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এখানে ঘুরে দাঁড়াতে হবে জনসাধারণকে। আমরা সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বলেছি, এ বিষয়ে যাতে শিক্ষার্থীদের সতর্ক করেন। আমরা মসজিদে খুতবার সময় মোয়াজ্জেমকে বলেছি, তিনি যেন সবাইকে এ বিষয়ে সচেতন করেন। ”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছি। জেলখানাগুলোতে নজরদারি বাড়িয়েছি। জেলে মাদক ব্যবসায়ীরা শাস্তি ভোগ করছে। তারা জেলখানায় রয়েছে। বর্ডার লাইন সিল করছি। আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করছে। তবে সাধারণ জনগণ, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। বাবা-মাকে সচেতন হতে হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণে আসবে। ” এর ফলে ঐশীর মতো আর কোনও সন্তান বাবা-মাকে হত্যা করতে পারবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।