বড়লেখায় ‘ল্যাংড়া’ বানরে আতঙ্ক, পুলিশ-শিশুসহ আহত ৭

123
gb

জিবি নিউজ ২৪ ডেস্ক//

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নে একটি ‘ল্যাংড়া’ বানরের আক্রমণে ৭ জন আহত হয়েছেন। এদিকে দলবাঁধা বানরের উৎপাতে অতিষ্ঠ শাহবাজপুরবাসী।

সর্বশেষ গত শনিবার (১৯ অক্টোবর) ভোররাতে বানরের আক্রমণে আব্দুল্লাহ আল মামুন (২৭) নামের এক ব্যবসায়ী আহত হয়েছেন।

এছাড়াও গত দুই মাসে শাহবাজপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের কনস্টেবল মাসুদ আহমদ, সায়পুর গ্রামের মাতাবুর রহমান ও আমান আহমদ, রাজপুর গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস, পূর্ব দৌলতপুর গ্রামের ছুরতুন বেগম, স্টেশনবাজার এলাকার সুলেমান আহমদসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সীমান্তবর্তী উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নে ৮টি চা বাগান ও পাহাড়ি এলাকায় অনেক বানরের বাস। এরা বিভিন্ন সময় খাবারের সন্ধানে দল বেঁধে লোকালয়ে চলে আসে। ক্ষেতের ফসল খেয়ে কিংবা নষ্ট করে চলে যায়। বছর খানেক আগে দলছুট একটি বানর লোকালয়ে আসে। বানরটি শান্ত স্বভাবের। মানুষও ভালোবেসে তাকে খাবার দিয়েছে। এরমধ্যে আরও ৪-৫টি বানর আসে। গত ছয়মাস আগে আসে একটি ল্যাংড়া বানর। এটি এসেই শান্ত স্বভাবের বানরটিকে তাড়িয়ে দেয়।

এরপর সবগুলো বানর শাহবাজপুর ষ্টেশন বাজার, রাজপুর, সায়পুর, পূর্ব দৌলতপুর এলাকায় ঘোরাফেরা করে। গত দুই মাস থেকে হঠাৎ করে ল্যাংড়া বানরটি মানুষের উপর আক্রমণ শুরু করে। ভোরবেলা ও রাতে বেশি আক্রমণ করে। এতে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে শিশুরা আতঙ্কে রয়েছে।

অন্যদিকে বানরগুলো মানুষের ঘরে প্রবেশ করে রান্না করা খাবার ও কাপড়চোপড় নিয়ে দৌড় দেয়, ফসল নষ্ট করে। বানরের উৎপাতে মানুষ অতিষ্ঠ। অনেকে ভোরবেলা হাটাহাটি করতেন। ভয়ে এখন বের হন না। এছাড়া ইউনিয়নের আতুয়া, বড়আইল এলাকায়ও মানুষের বাড়ির ফল, ক্ষেতের সবজি এবং ধান নষ্ট করে পাহাড় থেকে আসা বানরের দল। ঘরে ঢুকে খাবার নিয়ে যায়।

রাজপুর এলাকার জয়নাল আবেদীন জয় বলেন, ‘একা পেলেই হঠাৎ আক্রমণ করে। এখন আমার ছোট মেয়ে ভয়ে ঘর থেকে বের হয় না। নিজেও আতঙ্কে চলাফেরা করি।’

শাহবাজপুর ষ্টেশন বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল হক বলেন, ‘দোকানে ঢুকে মিষ্টি নিয়ে দৌড় দেয়। কখনো তৈরি করা মিষ্টি মাটিতে ফেলে দেয়। বাড়ি ঘরে ঢুকে রান্না করা ভাত ও তরকারি নিয়ে যায়।’

শাহবাজপুর ষ্টেশন বাজার এলাকার বাসিন্দা সমাজসেবক রফিক উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বছর আগে একটি বানর এসেছিল। মানুষের সাথে ভালো আচরণ করত। মানুষও খাবার দিত। গত ছয়মাস আগে আরও ৫টি বানর আসে। এরমধ্যে একটি বানর ল্যাংড়া। এটিই মানুষকে আক্রমণ করছে। বেশ কয়েকজন হামলায় আহত হয়েছেন। মানুষের ঘরে ঢুকে বানর রান্না করা খাবার নিয়ে যায়। ফসল নষ্ট করে। মহিলা ও বাচ্চারা আতঙ্কে আছেন।’

আতুয়া এলাকার নেপুর আলী বলেন, ‘আমরা কত কষ্টে আছি, বুঝাতে পারব না। সবজি, ফসল ইতা সব তারার (এগুলো সব বানরের)। রান্দিয়া রাখা খাবার (রান্না করা খাবার) নিয়ে যায়।’ একই বক্তব্য এলাকার বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা হবিব আলীরও।

বড়আইল গ্রামের শিবলু মিয়া ও নুনু মিয়া বলেন, ‘একা পেলে ভয় দেখায়। একেকদিন তারা দল বেঁধে একেক গ্রামে যায়।’

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আহমদ জুবায়ের লিটন বলেন, ‘বেশ কয়েকজনকে আহত করেছে। লোকজন আমাদের জানিয়েছে। আমরাও তাৎক্ষণিক বনবিভাগের সাথে যোগাযোগ করেছি। তারা একদিন আসবেন। তারা জানিয়েছেন, এদের ধরা যায় না। তবে মানুষকে সচেতন করে যাবেন। যাতে বানরগুলোকে উত্যক্ত না করা হয়। অনেক সময় মানুষ বানরকে উত্যক্ত করে। এর জন্যও হয়তো কামড় দেয়।’

বনবিভাগের বড়লেখা রেঞ্জের সহযোগী কর্মকর্তা শেখর রঞ্জন দাস বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে খবর পেয়েছি। আমাদের অফিসে বানর ধরার কোনো যন্ত্রপাতি নেই। বিষয়টি  মৌলভীবাজার বন্য প্রাণী রেঞ্জ কার্যালয়ে অবগত করেছি। তারা সরেজমিনে দেখে যাবেন।’

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন Accept আরও পড়ুন