পাইকগাছার বাঁকা বাজারের অসংখ্য ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান ভাংচুর, ক্ষুদ্ধ ব্যবসায়ীরা

36
gb

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি ॥
পাইকগাছার প্রস্তাবিত শহীদ মালেক মেমোরিয়াল স্টেডিয়ামস্থ বাঁকা বাজারের অসংখ্য ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বুধবার ভোরে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন ব্যবসায়ী দোকান ভেঙ্গে দিলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। পরে ইউপি চেয়ারম্যান ও ক্যাম্প পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় কিছুটা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ইউপি চেয়ারম্যান ও বাঁকা বাজার কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল মজিদ গোলদার জানান, রাড়–লী ইউনিয়নের বাঁকা বাজারের মূল কেন্দ্রে এক বিঘার মত সরকারি জায়গা (মাঠ) রয়েছে। স্বাধীনতার পূর্ব থেকে ওই জায়গায় ঈদের জামাত ও সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। স্বাধীনতার পর এলাকাবাসী ওই জায়গার উপর স্থানীয় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মালেক মেমোরিয়াল স্টেডিয়াম নামকরণ করে। এরপর থেকে ওই জায়গার উপর বাজার গড়ে ওঠে। এলাকার অসংখ্য ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সবজি, মাছ, মাংস, পান-সুপারী সহ বিভিন্ন ধরণের জিনিসের দোকান দেয়। রাড়–লী ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ উপজেলা নির্বাহী অফিস থেকে উক্ত জায়গার ৩৫ শতক জমি মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নামে একসনা ইজারা নেয়। ইজারা নেওয়ার পর থেকে মুক্তিযোদ্ধা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে কিছুটা বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরই জের ধরে বুধবার ভোরে মুক্তিযোদ্ধা সবুর সরদারের নেতৃত্বে লোকজন উক্ত জায়গার উপর গড়ে ওঠা অসংখ্য দোকান ঘর ও ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান ভেঙ্গে দেয়। এতে শতাধিক ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং ঘটনাস্থলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরী হয়। এ খবর জানতে পেরে আমি নিজেই ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্যাম্প পুলিশের সহায়তায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করি এবং বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যান মহোদয়কে অবহিত করি। প্রতিবন্ধি ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান, আমি নিজে একজন প্রতিবন্ধি ২৭ বছর অত্র জায়গার উপর মাছের ব্যবসা করে পরিবার পরিজন নিয়ে সংসার চালাচ্ছি। দোকান ঘরটি ভেঙ্গে দেওয়ায় আমি প্রচন্ড পরিমাণে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। আব্দুর রাজ্জাক জানান, আমি ১৪ বছর যাবৎ ব্যবসা করে আসছি। উল্লেখিত জায়গা সহ গোটা বাঁকা বাজার ইজারা প্রদান করা হয়। ব্যবসায়ীরা ইজারাদারকে প্রতিদিন নিয়মিত খাজনা দিয়ে ব্যবসা করে আসছি। বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মাজেদ গাজী জানান, পূর্ব থেকেই কোন অবহিত না করে বুধবার ভোরে হঠাৎ করে সবুর সহ কয়েকজন ব্যক্তি বাজারের সব দোকানপাট ভেঙ্গে তছনছ করে দেয়। এতে অসংখ্য ব্যবসায়ীর চরম ক্ষতি হয়। শত শত ব্যবসায়ীদের বিকল্প কোন ব্যবস্থা না করে ভাংচুর করায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের দাবী ব্যবসায়ীদের কোন একটা ব্যবস্থা না করে ভাংচুরের মত এ ধরণের হটকারী সিদ্ধান্ত কারো কাম্য নয়। ব্যবসায়ীদের কোন সু-ব্যবস্থা করা না হলে অসংখ্য ব্যবসায়ীকে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করতে হবে। নালিশী সম্পত্তি নিয়ে জনস্বার্থে করা মামলা চলমান রয়েছে বলে এক ইউপি সদস্য জানান। এ ব্যাপারে সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শেখ শাহাদাৎ হোসেন বাচ্চু জানান, ওটা কোন হাটের জায়গা না, হাট হবে পেরিফেরি জায়গায়। মূলত ৩৫ শতক সম্পত্তি শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নামে স্টেডিয়াম করার লক্ষে রাড়–লী মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নামে ডিসিআর নেওয়া হয়। এলাকার কিছু লোকজন উক্ত জায়গা জোরপূর্বক দখল করে রেখে ছিল। যার ফলে তাদের খাট, চৌকি ও দোকানের চালা সরানো হয়েছে।

gb
মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More