কলকাতায় গাড়িচাপায় নিহত দুই বাংলাদেশি

168
মো:নাসির, বিশেষ প্রতিনিধি জিবি নিউজ ২৪ 
মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল রাতের কলকাতা। মুম্বইয়ের পর এবার এই শহরে হিট অ্যান্ড রান মামলায় ফাঁসলেন প্রভাবশালী ব্যক্তি। ২০০২ সালে অভিনেতা সলমন খান এই মামলায় ফেঁসেছিলেন। এখনও তার বিচার চলছে। এবার শহরের বিখ্যাত রেস্তরাঁ আরসালানের মালিকের ছেলের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটল। ২ পথচারীকে পিষে দেওয়ার জন্য গ্রেপ্তার করা হল তাঁকে।

শুক্রবার রাত প্রায় আড়াইটে-তিনটে নাগাদ কলকাতার লাউডন স্ট্রিটে ভয়াবহ এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। প্রায় ১০০ গতিবেগে চলছিল জাগুয়ার গাড়িটি। চালাচ্ছিলেন আরসালান পারভেজ। লাউডন স্ট্রিটের কাছে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পথচারিদের ধাক্কা মারে গাড়িটি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে রাস্তার পাশে একটি ট্রাফিক কিয়স্কে ধাক্কা মারে। বৃষ্টির জন্য তার পাশেই আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনজন। তাদের উপর দিয়ে চলে যায় জাগুয়ার। ঘটনাস্থলেই দু’জনের মৃত্যু হয়। একজন গুরুতর আহত হন। এরপর গাড়িটি ধাক্কা মারে একটি মার্সেডিজকে। ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান মার্সেডিজের সওয়ারিরা। কিন্তু ঘটনার পর থেকে বেপাত্তা হয়ে যান জাগুয়ারের চালক। তখনও তাঁর পরিচয় জানা যায়নি।                                 এদিকে ঘটনা পর খবর যায় পুলিশের কাছে। ঘটনাস্থলে আসে শেক্সপিয়র সরণি থানার পুলিশ। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখার আশ্বাস দেন ডিসি সাউথ। এরপরই গাড়ির চালককে গ্রেপ্তার করা হয়। দেখা যায় তিনি আরসালান সংস্থার মালিকের ছেলে। বয়স ২২ বছর। ২০১৭ সালে রেজিস্ট্রেশন হয় তাঁর জাগুয়ার গাড়িটির। অন্যদিকে মার্সেডিজটি এক অয়েল কোম্পানির গাড়ি। দুর্ঘটনায় যে দু’জনের প্রাণহানি হয়েছে তাঁরা বাংলাদেশি। চিকিৎসা করাতে এদেশে এসেছিলেন তাঁরা। আহত ব্যক্তিও বাংলাদেশের নাগরিক। ঘটনাস্থলে পৌঁছন বাংলাদেশ হাই কমিশনের আধিকারিকরা।

পারভেজের বিরুদ্ধে পুলিশ বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানো ও অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা দায়ের করেছে। এছাড়া তিনি মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অবশ্য গাড়ির ব্রেক ফেল বা অন্যান্য যান্ত্রিক ত্রুটির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ। গাড়িতে পারভেজের সঙ্গে অন্য কেউ ছিল কিনা, তাও জানার চেষ্টা চলছে যদিও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গাড়িতে চালক একাই ছিলেন। সেদিক থেকে পারভেজ ছাড়া অন্য কারওর থাকার সম্ভাবনা কম। প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের কাজ শুরু করেছে পুলিশ। পারভেজ ট্রাফিক সিগনাল ভেঙেছিলেন কিনা, খতিয়ে দেখা হচ্ছে তাও।

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন Accept আরও পড়ুন